পাকিস্তান সেনাবাহিনী হাফিজ সইদ ও মাসুদ আজহারের জন্য লড়াই করেছিল, অপারেশন সিঁদুরের বার্ষিকীর আগে দাবি পাক রাজনীতিবিদের
পাকিস্তান নাজরিয়াতি পার্টির চেয়ারম্যান শাহীর সিয়ালভীও বলেন, লস্কর এবং জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোতে ভারতের অভিযানে নিহত সন্ত্রাসীদের পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সামরিক মর্যাদায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। উর্দিধারী শববাহকসহ আনুষ্ঠানিক সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রথম বার্ষিকীর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এরই মাধে পাকিস্তানের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ প্রকাশ্যে দাবি করলেন, দেশের সামরিক বাহিনী এবং হাফিজ সইদ ও মাসুদ আজহারের মতো সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তান নাজরিয়াতি পার্টির চেয়ারম্যান শাহীর সিয়ালভী বলেন, লস্কর এবং জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোতে ভারতের অভিযানে নিহত সন্ত্রাসীদের পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সামরিক মর্যাদায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। উর্দিধারী শববাহকসহ আনুষ্ঠানিক সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, 'এই প্রথম মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে হামলা হল। হামলাগুলো এমন দুটি জায়গাকে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি হিসেবে ঘোষণা করেছিল ভারত। গোটা বিশ্বকে এই বিষয়টি বিশ্বাস করিয়েছিল ভারত। কিন্তু, প্রথমবারের মতো পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সিদ্ধান্ত নিল যে, এই মানুষগুলো ও তাদের সন্তানদের জানাজা বাইরের কেউ নয়, বরং সেনাবাহিনীর সদস্যরাই পরিচালনা করবে। তাদের কফিনগুলো উর্দিধারী সৈন্যরা বহন করে। আমরা বিশ্বকে জানানোর সিদ্ধান্ত নিলাম যে, এই মানুষগুলো মুক্তিযোদ্ধা। প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সেনাবাহিনী হাফিজ সইদ ও মাসুদ আজহারের জন্য যুদ্ধ করেছিল। আমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি যে তারা সন্ত্রাসী নয়, বরং মুক্তিযোদ্ধা, যারা তাদের প্রিয় মাতৃভূমির মুক্তির জন্য লড়ছে।'
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা ধর্ম জিজ্ঞেস করে ২৫ জন পর্যটক এবং এক স্থানীয়কে খুন করে। এর জবাবে ভারত ৬ মে গভীর রাতে বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে সহ পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়। সেই অভিযানে প্রায় ১০০ জন জঙ্গিকে খতম করে ভারত। আর এরপর থেকেই পাকিস্তানের তরফ থেকে শেলিং শুরু হয় ভারতের ওপর। অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের শেলিংয়ে ভারতের অন্তত ১৬ জন নাগরিকের মৃত্যু ঘটে। এরপর সংঘাত বাড়তে থাকে দুই দেশের। ১০ মে-র ভোররাতে এরপর ভারতীয় বায়ুসেনা হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটি অকেজো করে দেয়।
এই সময়কালে পাকিস্তানের এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ শ্রেণির যুদ্ধবিমান সহ পাঁচটি জেট ভারত ধ্বংস করেছিল মাঝ আকাশের লড়াইয়ে। পাকিস্তানের রাডার, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, হ্যাঙ্গার এবং রানওয়ে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ভারতের হামলায়। পাকিস্তানের একটি সি-১৩০ শ্রেণির বিমানও ধ্বংস করা হয়েছিল এই সংঘাতের সময়। এছাড়া ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে একটি AEW&C বা একটি SIGINT বিমান ধ্বংস করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। তাছাড়া বায়ুসেনা ঘাঁটিতে থাকা পাকিস্তানের আরও বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ভারতের মিসাইলের আঘাতে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


