Shaktikanta Das: মোদী সরকারের বড় রদবদলের সম্ভাবনা, অর্থমন্ত্রী হতে পারেন শক্তিকান্ত দাস
সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই মোদী সরকারের তৃতীয় দফার প্রথম বড় মন্ত্রিসভা রদবদল এবং বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই মোদী সরকারের তৃতীয় দফার প্রথম বড় মন্ত্রিসভা রদবদল এবং বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বর্তমান প্রধান সচিব এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর শক্তিকান্ত দাসকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে দেশের নতুন অর্থমন্ত্রী করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। যদি সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তাহলে বর্তমান অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। জল্পনা রয়েছে, তাঁকে মানবসম্পদ উন্নয়ন (শিক্ষা) মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
২০১৯ সাল থেকে টানা দেশের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নির্মলা সীতারামন। তাঁর নেতৃত্বেই কেন্দ্র একাধিক বাজেট পেশ করেছে এবং করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের নীতি বাস্তবায়ন করেছে। তবে সরকার প্রশাসনে নতুন গতি আনতে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই সম্ভাব্য পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা চলছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
শক্তিকান্ত দাস দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ আমলা হিসেবে পরিচিত। ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবার (IAS) কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, করোনা মহামারি এবং মূল্যবৃদ্ধির মতো কঠিন পরিস্থিতিতে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এর আগে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগের শীর্ষ পদেও দায়িত্বে ছিলেন শক্তিকান্ত দাস। কেন্দ্রীয় বাজেট প্রণয়ন, আর্থিক নীতি নির্ধারণ এবং নোটবন্দির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াতেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এছাড়া তিনি পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সদস্য এবং জি-২০-তে ভারতের শেরপা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও শক্তিকান্ত দাসের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট স্টিফেন্স কলেজের প্রাক্তনী এই আমলা বিশ্বব্যাঙ্ক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (ADB), নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (NDB) এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কে (AIIB) ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর দক্ষতা সরকারের কাছে বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মোদী সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রায় দুই বছর পূর্ণ হতে চলেছে। সামনে একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন। সেই প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা এবং রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। তবে এই সমস্ত জল্পনার সত্যতা মিলবে তখনই, যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ বা রদবদলের ঘোষণা করবেন।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


