Shashi Tharoor: নোবেলজয়ীকে 'উপেক্ষা!' শশী থারুরের নিশানায় কেন্দ্রের নিরাবতা, পাল্টা জবাব...
Shashi Tharoor: ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক নাভানেথেম 'নাভি' পিল্লাই ১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পারিবারিক নাম ছিল নাভানেথেম নাইডু।
Shashi Tharoor: ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেলজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ এবং প্রাক্তন বিচারপতি নাভানেথেম 'নাভি' পিল্লাইকে কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই শশী থারুরকে পাল্টা খোঁচা দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, খোদ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বও তাঁকে শুভেচ্ছা না জানিয়ে কেন নীরব রয়েছে?

প্রায় ১৩০ বছর আগে তামিলনাড়ু থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিল পিল্লাইয়ের পূর্বপুরুষরা। ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক 'নাভি' পিল্লাই ১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পারিবারিক নাম ছিল নাভানেথেম নাইডু। তিনি বর্ণবৈষম্য ও চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়ে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের আইনি মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁর নোবেল জয়ে তামিলনাড়ুর দিন্দিগুল জেলায় আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হলেও, নয়াদিল্লির তরফে কোনও শুভেচ্ছা বার্তা না আসায় সরব হয়েছেন তিরুঅনন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদ। নিজের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে একটি এআই-নির্মিত ভিডিও পোস্ট করে শশী থারুর লেখেন, 'ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই অসাধারণ নারী শান্তিতে নোবেল পাওয়ার পর ছয় দিন পেরিয়ে গেছে। অথচ তাঁর পৈতৃক জন্মভূমি ভারতের সরকার তাঁকে অভিনন্দন পর্যন্ত জানাল না? ধিক্কার সেই সংকীর্ণ মানসিকতার মানুষদের, যাঁরা এমন একটি নিন্দনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।'
শশী থারুরের পোস্ট করা ভিডিওটিতে তুলে ধরা হয় বর্ণবৈষম্যের যুগে পিল্লাইয়ের সংগ্রাম—কীভাবে কৃষ্ণাঙ্গ ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত হওয়ার কারণে তাঁকে বিচারকের এজলাসে ঢুকতে দেওয়া হতো না, কীভাবে তিনি নেলসন ম্যান্ডেলা-সহ রাজনৈতিক বন্দিদের পক্ষে লড়াই করেছেন এবং ১৯৯৫ সালে ম্যান্ডেলার আমলেই প্রথম অশ্বেতাঙ্গ মহিলা বিচারক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে নিযুক্ত হন।
অন্যদিকে, শশী থারুরের এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন বিদেশ সচিব কানওয়াল সিব্বাল। তিনি থারুরের পোস্টকে 'বিস্ময়কর' বলে আখ্যা দিয়ে 'নাভি' পিল্লাইয়ের অতীত ট্র্যাক রেকর্ড স্মরণ করিয়ে দেন। কানওয়াল সিব্বাল লেখেন, 'যিনি ভারতকে লক্ষ্যবস্তু করার সুদীর্ঘ রেকর্ড রেখেছেন, তাঁকে অভিনন্দন জানানোর দাবি তোলা সত্যিই বিস্ময়কর। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার (UNHCHR) থাকাকালীন 'নাভি' পিল্লাই ক্রমাগত মানবাধিকার ইস্যুতে ভারতকে আক্রমণ করেছেন। কাশ্মীর উপত্যকা, কথিত গণকবর, আফস্পা (AFSPA), ২০১২ সালের দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ড থেকে শুরু করে জাতি ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিয়ে তিনি বারবার ভারতের সমালোচনা করেছেন এবং ভারত সরকারও আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর সেই আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছিল। তাছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICC)-র বিচারক ছিলেন, যা ভারত স্বীকার করে না। শুধুমাত্র ভারতীয় বংশোদ্ভূত হলেই কী কাউকে অভিনন্দন জানাতে হবে?'
নেটিজেনদের একাংশও শশী থারুরকে আক্রমণ করে বলেন, কংগ্রেস বা রাহুল গান্ধীর পক্ষ থেকেও তাঁকে কোনও শুভেচ্ছা বার্তা জানানো হয়নি, ফলে ভণ্ডামির জন্য থারুরকেই 'নোবেল' দেওয়া উচিত। প্রসঙ্গত, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত প্যালেস্টাইনের ভূখণ্ডবিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। এছাড়া, ২০১৯ সালে মায়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) একজন অ্যাডহক বা বিশেষভাবে নিযুক্ত বিচারক হন। সেখানেই তিনি যৌনহিংসাকে গণহত্যার আখ্যা দিয়েছিলেন।
E-Paper

