Cockroach Janata Party: 'অত্যন্ত অবিবেচক...,' বিরোধীদের বিশেষ পরামর্শ,'আরশোলা'দের X হ্যান্ডেল নিষিদ্ধে অসন্তুষ্ট শশী

Cockroach Janata Party: সোশ্যাল মিডিয়ার সব প্ল্যাটফর্মে 'ককরোচ জনতা পার্টি'র উত্থান হয়েছে ঝড়ের মতো। 

Published on: May 22, 2026, 12:45:15 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Cockroach Janata Party: মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই ব্যাপক উত্থান হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি'র। সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্টগুলিতে লাফিয়ে বাড়ছে ফলোয়ার্সদের সংখ্যা। বৃহস্পতিবার সকালেই ফলোয়ার্সদের নিরিখে বিজেপিকে ছাপিয়ে যায় তারা, কিন্তু এরপরই ঘটে ছন্দপতন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিজেপি-র অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, এক্স হ্যান্ডেল ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। এরপরই আরও একটি নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে 'আরশোলা'দের। তবে এই ঘটনায় অসন্তুষ্ট বর্ষীয়ান কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। ভারতে ককরোচ জনতা পার্টি'র এক্স হ্যান্ডেল ব্লক করার ঘটনাকে তিনি ‘ভয়াবহ এবং অত্যন্ত অবিবেচক সিদ্ধান্ত’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। সেই সঙ্গে কংগ্রেস নেতা বলেছেন, 'যুবকদের নিজেদের মত প্রকাশের জায়গা থাকা উচিত।'

'আরশোলা'দের X হ্যান্ডেল নিষিদ্ধে অসন্তুষ্ট শশী থারুর (PTI)
'আরশোলা'দের X হ্যান্ডেল নিষিদ্ধে অসন্তুষ্ট শশী থারুর (PTI)

আবারও ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ এক্স হ্যান্ডল চালু করা উচিত বলে মনে করেন শশী থারুর, যাদের এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ইনস্টাগ্রামে ইতিমধ্যেই ১৯ মিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘ককরোচ জনতা পার্টি'র উত্থান আমাকে অত্যন্ত কৌতূহলী করে তুলেছে, যা মাত্র পাঁচ দিনে ইনস্টাগ্রামে ১৫ মিলিয়নেরও বেশি (এখন ১৯ মিলিয়নেরও বেশি) ফলোয়ার অর্জন করেছে।' ককরোচ জনতা পার্টি'র এক্স অ্যাকাউন্টটি আনব্লক করার আহ্বান জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শশী থারুর লিখেছেন, ‘যুব সমাজের হতাশা আমি বুঝতে পারছি। কেন তাঁরা এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করতে পারছেন, তাও আমার অজানা নয়। এই জনপ্রিয়তার কারণে তাদের এক্স হ্যান্ডল বন্ধ করে দেওয়া ভয়াবহ এবং অবিবেচক সিদ্ধান্ত। যুবকদের নিজেদের মত প্রকাশের জায়গা থাকা উচিত। তাই জন্যই সিজেপি-র অ্যাকাউন্ট বন্ধ না রেখে চালু করা হোক।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রে ভিন্নমত, হাস্যরস, ব্যঙ্গ এবং ক্ষোভ প্রকাশের জায়গা থাকা প্রয়োজন।' আরশোলা’-দের হাত ধরে যে ‘আন্দোলন’ শুরু হয়েছে, তার ভবিষ্যত নিয়ে সন্দিহান কংগ্রেস সাংসদ। তবু আশা ছাড়ছেন না তিনি। শশী থারুরের কথায়, ‘এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি অনিশ্চিত, কিন্তু আমি আশাবাদী এই প্ল্যাটফর্মের পিছনে থাকা তরুণরা একদিন মূল ধারার রাজনীতিতে আসতে পারেন। পরিবর্তনের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারেন। তখন তাঁদের উপেক্ষা করা অসম্ভব হয়ে যাবে।’ ককরোচ জনতা পার্টি'র এই উত্থানকে কাজে লাগাতে পারলে বিরোধী শিবিরের লাভ হবে বলেও মন্তব্য করেন কংগ্রেস নেতা। পরামর্শের সুরে তিনি বলেন, ‘এটা একটা সুযোগ। বিরোধীদের কাজে লাগানো উচিত।’ মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-এ নিষিদ্ধ হলেও ইনস্টাগ্রামে এখনও জ্বলজ্বল করছে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ অ্যাকাউন্ট। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ফলোয়ার্স সংখ্যা। রাজনীতির ময়দানের অনেকে তো বটেই, তাঁদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন বলিউডের তারকারাও।

সম্প্রতি দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আদালতে মন্তব্য করেছিলেন, কিছু বেকার যুবক এবং অনলাইন অ্যাকটিভিস্টরা নাকি 'ককরোচ' আর 'পরজীবী'- এই বক্তব্যেই ক্ষোভ উস্কে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই মন্তব্য থেকেই জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামটি। সোশ্যাল মিডিয়ার সব প্ল্যাটফর্মে 'ককরোচ জনতা পার্টি'র উত্থান হয়েছে ঝড়ের মতো। কয়েকদিন আগেও যেখানে এটি ছিল নিছক একটি অনলাইন 'ব্যাঙ্গাত্মক' আন্দোলন, সেখানে এখন এটি পরিণত হয়েছে জনরোষ, বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, রাজনৈতিক ভাষ্য আর প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা নিয়ে যুবসমাজের সমালোচনার শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।