Tharoor on Mahua: ‘স্ট্যান্ড উইথ মহুয়া’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে পোস্ট, নদিয়ার সার্কিট হাউস বিতর্কে মহুয়া মৈত্রের পাশে শশী থারুর
মহুয়ার অভিযোগ, শুক্রবার রাতে নদিয়া জেলা প্রশাসন তাঁকে সার্কিট হাউসের ঘর ছেড়ে দিতে বলে। রাতের বেলায় তাঁকে সরকারি অতিথিশালা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। ১৫ অগস্ট রাতের দিকে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন মহুয়া।
Tharoor on Mahua: নদিয়ার সার্কিট হাউস নিয়ে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় মহুয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। শনিবার তিনি মহুয়া মৈত্রের সমর্থনে প্রকাশ্যে মুখ খোলেন। একইসঙ্গে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সকলকে তাঁর পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মহুয়ার অভিযোগ, শুক্রবার রাতে নদিয়া জেলা প্রশাসন তাঁকে সার্কিট হাউসের ঘর ছেড়ে দিতে বলে। রাতের বেলায় তাঁকে সরকারি অতিথিশালা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। ১৫ অগস্ট রাতের দিকে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন মহুয়া। সেখানে তিনি জানান, রাত ৯টা ৪৭ মিনিট এবং ১০টা ৫২ মিনিটে তাঁকে ঘর খালি করার কথা বলা হয়। তাঁর দাবি, সেই সময় সার্কিট হাউসের বাইরে একটি বড় ভিড় জড়ো হয়েছিল। ওই ভিড় থেকে তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনাটিকে ভারতের গণতন্ত্রের পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করেন মহুয়া। তিনি এই বিষয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন বা আইপিইউ-এরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আইপিইউ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংসদদের নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। মহুয়ার পোস্টের পরেই তাঁর সমর্থনে বার্তা দেন শশী থারুর। কংগ্রেসের এই সাংসদ বলেন, কোনও সাংসদের বিরুদ্ধে জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে সরকারের দায়িত্ব তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া। তাঁকে মাঝরাতে সরকারি থাকার জায়গা ছেড়ে দিতে বলা নয়।
থারুর আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে এই ধরনের বিষয় আলাদা করে বোঝানোর প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়। বিশেষ করে স্বাধীনতা দিবসের দিনে এমন পরিস্থিতি আরও বেশি উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বার্তার শেষে ছিল ‘স্ট্যান্ড উইথ মহুয়া’ হ্যাশট্যাগ।
এর পাশাপাশি, মহুয়া মৈত্র লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন। সেখানে তিনি পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। মহিলা সাংসদদের মর্যাদা এবং নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টিও তিনি চিঠিতে তুলে ধরেছেন।
মহুয়ার দাবি, তিনি সংসদের অধিবেশন শেষ হওয়ার পর রাত কাটানোর জন্য কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউসে গিয়েছিলেন। সাংসদ হিসেবে সেখানে থাকার অধিকার তাঁর রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। মহুয়া জানিয়েছেন, তিনি সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট নাগাদ সার্কিট হাউসে পৌঁছন। কর্মীরা তাঁকে তাঁর পরিচিত ঘরেই নিয়ে যান। ঘরটি আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। সন্ধ্যা ৭টায় তাঁর ঘরে চা দেওয়া হয়। রাত ৯টা ২০ মিনিটে রাতের খাবারও পৌঁছে দেওয়া হয়।
এর পরই পরিস্থিতি বদলে যায় বলে দাবি মহুয়ার। রাত ৯টা ৪৭ মিনিটে নদিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসকের কাছ থেকে ফোন পান তিনি। তাঁকে সার্কিট হাউস ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কারণ জানতে চাইলে ‘উপর থেকে নির্দেশ এসেছে’ বলে তাঁকে জানানো হয় বলে দাবি করেন মহুয়া।
মহুয়ার আরও অভিযোগ, তিনি ঘর ছাড়তে অস্বীকার করার পর সার্কিট হাউসের বাইরে একটি বড় জমায়েত হয়। সেখানে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি তাঁর। এই ঘটনার প্রতিবাদে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। অন্যদিকে, তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে শশী থারুরের মন্তব্যের পর বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্ব পেয়েছে। এখন প্রশাসনের তরফে এই অভিযোগের কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


