Shashi Tharoor vs Congress: 'রাজনৈতিক ফায়দা তোলাতেই...,' মোদীস্তুতি নিয়ে অস্বস্তি বাড়ল কংগ্রেসের, পাল্টা তোপ থারুরের
Shashi Tharoor vs Congress: পবন খেরার কটাক্ষের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় পাল্টা জবাব দেন শশী থারুর। তিনি জানান, তিনি শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যই তুলে ধরেছেন। সরকারি নথিতে নেই, প্রধানমন্ত্রী মোদীকে নিয়ে তেমন কিছু বলেননি।
Shashi Tharoor vs Congress: বিধানসভা নির্বাচনের ভরাডুবির পর পশ্চিমবঙ্গে ছত্রখান তৃণমূল কংগ্রেস। বিদ্রোহী বিধায়করা নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করছেন। অন্যদিকে, বিদ্রোহী সাংসদরা আবার অখ্যাত দলে যোগদান করেছে। দলের অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত টাকা নিয়েও টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। তবে শুধুই পশ্চিমবঙ্গ নয়, মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা-সাংসদরাও ঘোড়া কেনাবেচায় শামিল হয়েছেন বলে খবর। উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টিতেও বিদ্রোহ জোরাল হয়ে উঠছে বলে জানা যাচ্ছে। আর এই আবহে কংগ্রেসের অন্দরেও নতুন করে ফাটল চোখে পড়ছে। সম্প্রতি তিরুঅনন্তপুরমের বর্ষীয়ান সাংসদ শশী থারুরের বক্তব্যকে ঘিরে হাত শিবিরে অসন্তোষ বাড়ছে ক্রমশ।

ঘটনার সূত্রপাত
গত দু’বছরে একাধিক বার শশী থারুরের সঙ্গে কংগ্রেস হাইকমান্ডের মনোমালিন্যের খবর সামনে এসেছে। দলের অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন এনডিএ সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করেছেন বার বার। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। ফ্রান্সে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে সেই নিয়ে কেন কড়া প্রশ্ন তুললেন না প্রধানমন্ত্রী, সেই নিয়ে বিরোধীরা যখন একযোগে আক্রমণাত্মক, সেই সময়ও প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রশস্তিই শোনা গিয়েছে থারুরের গলায়। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও ট্রাম্পের সাক্ষাৎ নিয়ে সম্প্রতি বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজের অবস্থান স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রকাশ্য বৈঠকেও, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক জাহাজে যে হামলা হওয়া উচিত নয়, সেই বার্তা দেওয়া উচিত ছিল। ওঁরা সৈনিক নন, সেই বার্তাই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ভারতের পতাকা লাগানো জাহাজে এবং অন্য জাহাজে ভারতীয়রা রয়েছে। অবরোধ লঙ্ঘন হলে অন্য ব্যবস্থা নিন। প্রাণে মেরে ফেলবেন না।'
শশী থারুরকে কটাক্ষ কংগ্রেসের
অন্যদিকে, শশী থারুরের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ পবন খেরা। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার সিনিয়র সতীর্থ শশী থারুরের মুগ্ধতা বাস্তব জগতের সব সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এখন তো মনে হচ্ছে, মোদী যা মুখে উচ্চারণ পর্যন্ত করেননি, তাও শুনতে পাচ্ছন উনি। মোদী-ট্রাম্পের সাক্ষাৎ নিয়ে বিদেশ মন্ত্রক যে প্রতিলিপি প্রকাশ করেছে, তাতে ওমান উপসাগরে ঠান্ডা মাথায় তিন ভারতীয়কে হত্যার উল্লেখ নেই। অপারেশন সিঁদুরের পর মোদী-ট্রাম্পের প্রথম বৈঠক। অথচ বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভারতকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করিয়েছেন বলে ট্রাম্প যে ১২০ বারের বেশি দাবি করেছেন, তারও কোনও উল্লেখ নেই। ভারতের অতিথি হয়ে আসা ইরানের নৌবাহিনীর জাহাজ আরআইএস ডেনা-র উল্লেখও পাওয়া যায়নি প্রতিলিপিতে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী মোদীর জোরাল বক্তব্য, বলিষ্ঠ বিরোধিতা এবং আপসহীন কূটনীতির কথা শুনতে পেয়েছেন থারুর, যা সরকারি নথিতে পর্যন্ত নেই। আমরা তো সাধারণ মানুষ। হতে পারে মানবিক ইন্দ্রিয়ই আমাদের সীমাবদ্ধতা। মহামানব মোদীর ভক্তদের ক্ষেত্রে বিষয়টি উল্টো। তিনি যত কম কথা বলেন, তত বেশি শুনতে পান ভক্তরা।'
শশী থারুরের পাল্টা জবাব
পবন খেরার কটাক্ষের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় পাল্টা জবাব দেন শশী থারুর। তিনি জানান, তিনি শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যই তুলে ধরেছেন। সরকারি নথিতে নেই, প্রধানমন্ত্রী মোদীকে নিয়ে তেমন কিছু বলেননি। একটি ইউটিউব ভিডিও-ও পোস্ট করেছেন থারুরু। শশী থারুর সাফ জানিয়েছেন, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, অদ্ভূতভাবে ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষা নিয়ে তাঁর একটি বক্তব্যকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ওই বক্তব্যের অপব্যাখা করা হয়েছে। তিনজন ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা ও অসামরিক নাবিকদের উপর সামরিকভাবে নিশানা না করার নীতি সম্পর্কে ছিল তাঁর ওই বক্তব্য। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে রাজনীতির ইস্যুতে পরিণত করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। যদি কেউ এই গুরুতর উদ্বেগের সমাধানের বদলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলাতেই বেশি আগ্রহী হন, তাহলে সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।
E-Paper

