Sheikh Hasina: তিস্তা থেকে প্রতিরক্ষা ইস্যুতে চিনের দিকে ঝুঁকে তারেকের বাংলাদেশ! এবার মুখ খুললেন শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর শেষ বৈঠকেও তিস্তা নদী উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ভারত এই প্রকল্পে সহযোগিতা করতে আগ্রহী ছিল। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি অন্য দিকে নিয়ে গিয়েছে। তিস্তা নিয়ে চিনের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা।

Published on: Sep 2, 2026, 14:44:44 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাংলাদেশে ফেরার বার্তা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তবে তাঁর বক্তব্যে এবার বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে তিস্তা প্রসঙ্গ। বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের চিন-ঘনিষ্ঠতার সমালোচনা করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, তিস্তা নিয়ে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা তাঁর আমলেই হয়েছিল। কিন্তু এখন বাংলাদেশ সেই প্রকল্পে চিনের সঙ্গে এগোচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর শেষ বৈঠকেও তিস্তা নদী উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। (REUTERS)
শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর শেষ বৈঠকেও তিস্তা নদী উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। (REUTERS)

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর শেষ বৈঠকেও তিস্তা নদী উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ভারত এই প্রকল্পে সহযোগিতা করতে আগ্রহী ছিল। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি অন্য দিকে নিয়ে গিয়েছে। তিস্তা নিয়ে চিনের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা।

এই সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন হাসিনা। তাঁর মতে, তিস্তা বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি নদী নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কৃষি, জলসম্পদ এবং সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবন। ফলে প্রকল্পে কোন দেশের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে, তার কৌশলগত গুরুত্বও রয়েছে।

তিস্তা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। নদীর জল বণ্টন নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কেও বহুবার টানাপোড়েন দেখা গিয়েছে। এর মধ্যেই তিস্তা অববাহিকায় উন্নয়ন প্রকল্পে চিনের আগ্রহ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

চিনের প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগ রয়েছে বলেও মনে করা হয়। কারণ তিস্তা নদীর উৎস ভারতের উত্তরবঙ্গে। ফলে নদীর জল, অববাহিকা এবং পরিকাঠামো ঘিরে কোনও বড় প্রকল্পে চিনের অংশগ্রহণ নয়াদিল্লির কৌশলগত নজরে পড়াই স্বাভাবিক।

শেখ হাসিনা অবশ্য সরাসরি ভারতকে দোষারোপ করেননি। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান বাংলাদেশ সরকার কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁর বলার কিছু নেই। তবে ভারতকে বাদ দিয়ে তিস্তা নিয়ে চিনের সঙ্গে এগোনোর সিদ্ধান্তকে ঘিরে যে প্রশ্ন উঠছে, তা তিনি কার্যত সামনে এনেছেন।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে চিনের বাড়তে থাকা প্রভাব। হাসিনার অভিযোগ, দেশের অর্থনীতি যখন চাপের মধ্যে, তখন চিনের কাছ থেকে প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলারে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। অর্থাৎ তিস্তা থেকে প্রতিরক্ষা—একাধিক ক্ষেত্রেই ঢাকার সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে। ভারতের কাছে এই প্রবণতা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

শেখ হাসিনা এও বলেছেন, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। ভারতের নিরাপত্তার জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক তখনই শক্তিশালী হবে, যখন গণতন্ত্র, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। তবে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন অন্য জায়গায়। শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ক্ষমতায় ফেরার জন্য নয়। মানুষের পাশে দাঁড়াতেই দেশে ফিরতে চান তিনি।

কিন্তু দেশে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও তাঁকে ফেরানোর জন্য ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে। ফলে ডিসেম্বরের ‘ফেরা’ বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠছে। তার মধ্যেই তিস্তা নিয়ে তাঁর মন্তব্য নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে ভারত। অন্যদিকে চিন। আর মাঝখানে বাংলাদেশ। তিস্তা প্রকল্প এখন শুধু নদী বা উন্নয়নের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে ভারত-চিন প্রতিযোগিতা, বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান এবং গোটা দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণ।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার বার্তা স্পষ্ট। তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান তিনি সমর্থন করছেন না। আর এই ইস্যুই ফের সামনে এনে দিল—চিনের দিকে ঢাকার ঝোঁক বাড়ছে কি না, এবং তাতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More