২০২৪র ৫ আগস্টের পর দিল্লিতে প্রথম জনমসক্ষে হাসিনা-কণ্ঠ!জুলাই ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে বললেন…

এছাড়াও ২০২৪ সালের যে আন্দোলন শেখ হাসিনাকে মসনদ থেকে সরিয়েছিল, সেই আন্দোলন নিয়ে বলতে গিয়ে হাসিনা বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনটি শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণ ছিল না’।

Published on: Aug 5, 2026, 19:41:43 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

‘কবে বাংলাদেশ যাব, তারিখ, সময়.. নিশ্চয়ই সময় হলে জানাব’, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দিল্লিতে প্রথমবার জনসমক্ষে শোনা গেল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠ! এদিন দিল্লিতে, ফরেন করসপন্ডেন্ট ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া-র আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন শেখ হাসিনা। সেখানেই তিনি বক্তব্য রাখেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি বাংলাদেশে জনতা-ছাত্র অভ্যুত্থানের জেরে সেদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেন হাসিনা। এরপর আজ ২০২৬ সালের সেই ৫ আগস্টই প্রথমবার দিল্লিতে জনসনক্ষে শোনা গেল শেখ হাসিনার কণ্ঠস্বর।

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষের দিকে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে নিজেই সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন। (AFP)
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষের দিকে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে নিজেই সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন। (AFP)

‘বাংলাদেশ যখনই কঠিন অবস্থায় ছিল, তখনই বাংলাদেশকে সাহায্য করেছে ভারত। আমি বিশ্বাস করি, ভারত সেই অবস্থানেই থাকবে। ভারত বন্ধুই থাকবে।’ তাঁর বাংলাদেশ যাত্রায় তৃতীয়পক্ষের কোনও অবস্থান থাকবে কি না, তা জানতে চাইলে হাসিনা একথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্ন নেওয়ার আগে, এদিন নিজের বক্তব্যে শেখ হাসিনা ফের একবার ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের প্রসঙ্গ তোলেন। বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনার কণ্ঠে তখন তাঁর পরিবারের গণহত্যার প্রসঙ্গ। এছাড়াও ২০২৪ সালের যে আন্দোলন শেখ হাসিনাকে মসনদ থেকে সরিয়েছিল, সেই আন্দোলন নিয়ে বলতে গিয়ে হাসিনা বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনটি শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণ ছিল না’। তিনি অভিযোগ করেন যে, ‘সংগঠিত গোষ্ঠীগুলো‘ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোকে একটি ‘সহিংস রাজনৈতিক হাতিয়ারে‘ পরিণত করেছে এবং দাবি করেন যে, আন্দোলনটি শেষ পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়।কোটা বিষয়ক হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং আলোচনার জন্য ছাত্রনেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁর সরকার এই বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করেছিল, বলেও জানান হাসিনা। তিনি যুক্তি দেন যে, বিক্ষোভ যখন দেশব্যাপী সহিংসতায় রূপ নেয়, তখন তাঁর নেওয়া সেই প্রচেষ্টাগুলোকে উপেক্ষা করা হয়েছিল।

এছাড়াও মহম্মদ ইউনুসের সরকার থেকে শুরু করে বর্তমানে বাংলাদেশের বিএনপির সরকারের বিরুদ্ধেও মুখ খোলেন শেখ হাসিনা।

এদিনের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ছাড়াও ছিলেন সেদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী মহম্মদ গিয়াসউদ্দিন, বাংলাদেশের ক্রিকেট তারকা সাকিব উল হাসান, ছিলেন হাসিনাপুত্র সাজীব জয়। এদিনের অনুষ্ঠানে বারবার হাসিনার কাছে যায় তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে মতামত। হাসিনা বলেন, ‘১৯৮১ আমি যখন ফিরেছিলাম, আমাকে ধরার চেষ্টা করে, এরপর বিভিন্ন সময় আমি দেশে ফিরতে চেয়েছিলাম তখনই তারা আটকাতে চেয়েছিল। মানুষের সমর্থনই বড় বিষয়।’ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে পুত্র জয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাঁদের সঙ্গে কি বর্তমান ঢাকার রাজনৈতিক তরফে কোনও যোগাযোগ হয়েছে, জয় জানান, তারেক সরকারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ হয়নি।

  • Sritama Mitra
    ABOUT THE AUTHOR
    Sritama Mitra

    শ্রীতমা মিত্র হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন চিফ কনটেন্ট প্রোডিউসার। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি শ্রীতমার আগ্রহের জায়গা ক্রিকেট। এছাড়াও তিনি জ্যোতিষ বিভাগ দেখাশোনা করেন এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পেশাদার জীবন: পেশাদার জীবনের শুরুতে শ্রীতমা আকাশবাণী, শান্তিনিকেতনে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ইটিভি নিউজ বাংলায় কপি এডিটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ানইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগ দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: শ্রীতমা মিত্র ইংরেজিতে স্নাতক (বি.এ.) এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: সাংবাদিকতার বাইরে শ্রীতমা একজন সাহিত্যপ্রেমী, ভ্রমণও তাঁর অন্যতম নেশা। ছুটির দুপুরগুলো তাঁর কাটে গল্পের বই নিয়ে। একটু লম্বা ছুটি পেলে তিনি দেশের ভিতর বা কখনও সখনও দেশের বাইরেও বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর প্রতিটা বেড়ানোর পিছনেই কাজ করে কোনও না কোনও বই বা সিনেমা থেকে তৈরি হওয়া কৌতূহল। অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে বার বার নিয়ে গিয়ে ফেলে নানা অচেনা শহরে। সেই সব অভিজ্ঞতাকে লেখার রূপ দিতেও পিছপা হন না শ্রীতমা।Read More