Sheikh Hasina to Tarique Rahman: ‘তোমার বাবা তো ভারতে এসেছিলেন, তুমি কেন নয়?’ ব্রিকস বৈঠক এড়ানোয় তারেককে খোঁচা হাসিনার

দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার তারেকের সিদ্ধান্তকে ‘অপরিণত’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। হাসিনার বক্তব্য, কোনও এক ব্যক্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণে দুই দেশের সম্পর্ক কিংবা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।

Published on: Oct 14, 2026, 14:18:14 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

বাবা জিয়াউর রহমান যখন ভারতে এসেছিলেন, তখনও দিল্লিতে ছিলেন শেখ হাসিনা। তা হলে তাঁর উপস্থিতির অজুহাতে ভারতের মাটিতে পা রাখতে আপত্তি কেন তারেক রহমানের? বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ঠিক এই প্রশ্নেই বিঁধলেন সে দেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘অপরিণত’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। হাসিনার বক্তব্য, কোনও এক ব্যক্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণে দুই দেশের সম্পর্ক কিংবা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় ক্ষতি হয়েছে ঢাকারই।

Despite hosting Hasina since she fled Dhaka in August 2024, New Delhi has been keen on a visit by Rahman as it believes only consultations at the highest levels can help address differences between the two countries. (AFP) (HT_PRINT)
Despite hosting Hasina since she fled Dhaka in August 2024, New Delhi has been keen on a visit by Rahman as it believes only consultations at the highest levels can help address differences between the two countries. (AFP) (HT_PRINT)

ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর। দিল্লিতে আয়োজিত হয়েছিল ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন। ভারত ছাড়াও চিন, রাশিয়ার মতো শক্তিধর দেশ এই জোটের সদস্য। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের জোট বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসাবে তারেক রহমানকে সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ঢাকার তরফে কোনও প্রতিনিধিকেও পাঠানো হয়নি।

কেন এই সিদ্ধান্ত? কূটনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান, ভারতে আশ্রয়ে থাকা হাসিনাকে ঘিরে নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে যে টানাপড়েন চলছে, তার প্রভাব পড়ে থাকতে পারে এই সিদ্ধান্তে। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে এই কারণের কথা জানায়নি কোনও পক্ষ।

বাবার প্রসঙ্গ টেনে তারেককে খোঁচা

সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেকের সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন হাসিনা। তাঁর প্রশ্ন, অতীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসাবে জিয়াউর রহমান যখন ভারত সফর করেছিলেন, তখন তো তিনি নিজেও দিল্লিতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। তা হলে আজ তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তারেকের ভারত সফর নিয়ে আপত্তি কেন? বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের পিছনে আসল কারণ কী, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী।

হাসিনার বক্তব্য, রাষ্ট্রের বিদেশনীতি কোনও ব্যক্তিগত রাগ, অভিমান কিংবা সাময়িক রাজনৈতিক হিসাবের উপর নির্ভর করে চলতে পারে না। দুই দেশের সম্পর্কও এক জন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, ব্রিকসের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের যোগদান অর্থনীতি, বিনিয়োগ, পরিকাঠামো এবং সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারত। কিন্তু সম্মেলন এড়িয়ে সেই সম্ভাবনার দরজাই বন্ধ করেছে ঢাকা। দায়িত্বশীল সরকারের কাজ দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা, সুযোগ এলে তা এড়িয়ে যাওয়া নয়, মন্তব্য হাসিনার।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ফের অস্বস্তি?

২০২৪ সালের অগস্টে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারতে রয়েছেন হাসিনা। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা হয়েছে। তাঁকে প্রত্যর্পণের দাবিও জানিয়েছে ঢাকা। এই পরিস্থিতিতে হাসিনার ভারতে থাকা দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম অস্বস্তির কারণ।

চলতি বছর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু হাসিনার দিল্লি থেকে বক্তব্য রাখা এবং তারেকের প্রস্তাবিত ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা ফের কূটনৈতিক জটিলতা বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া ও চিন সফর করলেও ভারত সফরে যাননি তারেক। ফলে তাঁর বিদেশনীতি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

হাসিনার মতে, বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল এমন বিদেশনীতি তৈরি করা, যা দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে। তাঁর এই মন্তব্যে তারেক সরকারের ভারতনীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল। তবে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পিছনে হাসিনাকে ঘিরে অস্বস্তিই প্রধান কারণ ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More