‘ঐতিহাসিক’ রায় দিয়েই হাসিনা-আসাদুজ্জামানকে হস্তান্তর করতে বলল বাংলাদেশ, ধানমন্ডিতে মুজিবের বাড়ি ভাঙার চেষ্টা
সোমবার বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে শেক হাসনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে। রায় ঘোষণার পরই ভারতকে হস্তান্তরের চিঠি দিল বাংলাদেশ প্রশাসন। পাশাপাশি ধানমন্ডিতে শুরু হল অশান্তি।
শেখ হাসিনার মৃত্যদণ্ডের সাজা ঘিরে উত্তাল বাংলাদেশের রাজনীতি। পাশাপাশি ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ে গেল। এই মুহূর্তে ভারত কী করবে, সেদিকে নজর রয়েছে গোটা বিশ্বের। ইতিমধ্যেই ভারতের বিদেশমন্ত্রকের কাছে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক থেকে চিঠি এসেছে প্রত্যর্পণের। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালকে প্রত্যর্পণ করতে বলেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি বলা হয়েছে, এই প্রত্যর্পণ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

ধানমন্ডিতে মুজিবের বাড়ি ভাঙার চেষ্টা
প্রসঙ্গত, রায় ঘোষণার পর থেকেই বাংলাদেশে শুরু হয়ে গিয়েছে দফায় দফায় অশান্তি। অশান্তির আবহ সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে মজুত রাখা হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। তার পরেও রাজধানীর ধানমন্ডিতে ৩২ নম্বর সড়কে দুটি এক্সক্যাভেটর নিয়ে বিক্ষোভকারীদের হামলা করতে দেখা গিয়েছে। তাদের যদিও আটকে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। কিন্তু তার পরেও বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে গিয়ে দফায় দফায় আক্রমণ হানার চেষ্টা করে চলেছে। লক্ষ্য শেখ মুজিবের বাসস্থান ভেঙে ফেলা।
বাংলাদেশ প্রশাসনের বিবৃতি
বাংলাদেশ প্রশাসনের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে একটি বিবৃতি। রায় পরবর্তী সময়ে অশান্তির আশঙ্কা করার পর বাংলাদেশের নাগরিকদের শান্ত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে জনগণকে শান্ত, সংযত ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড একটি ঐতিহাসিক রায়। এই মুহূর্তে এই রায়ের তাৎপর্যও বেশ গভীর। তা উপলব্ধি করে অন্তর্বর্তী সরকার সর্বস্তরের জনগণকে শান্ত, সংযত ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।
আরও পড়ুন - India Bangladesh: ‘বাংলাদেশের জনগণের…’, হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা পর্বের পর মুখ খুলল দিল্লি
আরও পড়ুন - Sheikh Hasina On Verdict: ফাঁসির সাজা শুনে গর্জন শেখ হাসিনার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে দুষলেন কাকে?
কড়া হাতে দমন করা হবে বিক্ষোভ
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যেকোনও ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা, উত্তেজনাপ্রসূত আচরণ, সহিংসতা বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে যেন নাগরিকরা বিরত থাকেন। পাশাপাশি বলা হয়, যেকোনও ধরনের অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা বা জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। প্রসঙ্গত, ধানমন্ডিতে বিক্ষোভকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন এক পুলিশকর্মী। আপাতত সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে আছেন র্যাব ও বিজিবির বাহিনী।












