Sikkim Landslide Teesta Flash Flood Alert: পাহাড় ধসে তিস্তার গতিপথে বাধা, হড়পা বানের আশঙ্কায় সিকিমে হাই অ্যালার্ট

মঙ্গন জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার মাঝরাতে তিস্তা ও চ্যাকুং নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে ‘থেং টানেল’-এর বিপরীতে নাগা জঙ্গল এলাকায় এই ধস নামে। ‘নাগা-তোসা রোড’-এর নতুন অংশ নির্মাণের জন্য পাহাড়ের ঢাল কাটার কাজ চলছিল।

Published on: Sep 6, 2026, 15:59:23 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ফের বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা সিকিমে। শনিবার গভীর রাতে উত্তর সিকিমের মঙ্গন জেলায় পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে তিস্তা ও চ্যাকুং নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে নদীর গতিপথ আংশিক অবরুদ্ধ হয়ে যায়। বিকট শব্দে পাহাড়ের ঢাল ভেঙে নদীর দিকে নেমে আসার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তিস্তার নিচের দিকে ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করেছে সিকিম প্রশাসন।

শনিবার গভীর রাতে উত্তর সিকিমের মঙ্গন জেলায় পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে তিস্তা ও চ্যাকুং নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে নদীর গতিপথ আংশিক অবরুদ্ধ হয়ে যায়। (ANI Video Grab)
শনিবার গভীর রাতে উত্তর সিকিমের মঙ্গন জেলায় পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে তিস্তা ও চ্যাকুং নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে নদীর গতিপথ আংশিক অবরুদ্ধ হয়ে যায়। (ANI Video Grab)

মঙ্গন জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার মাঝরাতে তিস্তা ও চ্যাকুং নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে ‘থেং টানেল’-এর বিপরীতে নাগা জঙ্গল এলাকায় এই ধস নামে। ‘নাগা-তোসা রোড’-এর নতুন অংশ নির্মাণের জন্য পাহাড়ের ঢাল কাটার কাজ চলছিল। সেই কাটা অংশের বড় একটি অংশ আচমকা ধসে পড়ে। এর ফলে নদী দুটির প্রবাহে সাময়িক বাধা তৈরি হয় এবং তিস্তার স্বাভাবিক জলপ্রবাহও ব্যাহত হয়।

তবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিস্তা ও চ্যাকুং নদীতে জল কিছুটা জমলেও দু’টি নদীর প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। নদী আংশিকভাবে নিজের গতিপথে প্রবাহিত হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি।

ভূমিধসের পর তিস্তার জলে ঘোলাভাব দেখা দিয়েছে। সঙ্কলং ওপি এবং ফিডাং ওপি এলাকায় জলের স্তর স্বাভাবিক রয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হচ্ছে কি না, তা বোঝার জন্য ওই এলাকাগুলিতে নদীর জলস্তরের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশ কন্ট্রোল রুমকেও সতর্ক রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নদীতে ধসের ফলে প্রাকৃতিক ভাবে কোনও জলাধার বা অস্থায়ী বাঁধ তৈরি হয়ে থাকলে তা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। প্রশাসনের আশঙ্কা, এই ধরনের প্রাকৃতিক বাঁধ হঠাৎ ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ জল একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রথম ধাক্কা পড়তে পারে সিকিমের তিনটেক এলাকায়। পরে সেই জলের স্রোত কালিম্পং, দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ির কিছু অংশেও পৌঁছতে পারে।

এই আশঙ্কায় তিস্তার নিচের দিকের এলাকাগুলিতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে সিকিম প্রশাসন। নদীর কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে মাইকে প্রচার করে সতর্ক করা হচ্ছে। বাসিন্দাদের পাশাপাশি শ্রমিক, মৎস্যজীবী এবং গাড়িচালকদেরও নদী থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নদীর উপর থাকা ঝুলন্ত সেতু এবং পথচারী সেতু ব্যবহার না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদীতে মাছ ধরা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

মঙ্গন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা ভূমিধস কবলিত এলাকা এবং তিস্তার তীরবর্তী অঞ্চল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে নদীর জলস্তর আচমকা বাড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

পাহাড়ি এলাকায় ফের বড়সড় ভূমিধস এবং তার জেরে নদীর প্রবাহে বাধা তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে। আপাতত তিস্তার জলপ্রবাহ সচল থাকলেও পরিস্থিতি যে নজরদারির বাইরে নয়, প্রশাসনের ‘হাই অ্যালার্ট’ থেকেই তা স্পষ্ট। এখন নজর একটাই—ধসে তৈরি হওয়া বাধা স্থায়ী হয় কি না এবং তিস্তার জলস্তরে কোনও হঠাৎ পরিবর্তন ঘটে কি না।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More