Silchar Municipal Election: বাঙালি অধ্যুষিত শিলচরে প্রথম পুরনিগম ভোটে বিজেপির দাপট, ৪২টির মধ্যে ৩৪ আসন এনডিএর

৪২টি আসনের মধ্যে ৩৪টি দখল করেছে শাসক জোট। তার মধ্যে একাই বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে ৩২টি আসন। শরিক অসম গণ পরিষদ বা এজিপি পেয়েছে আরও দু’টি আসন। কংগ্রেসের জয় মাত্র দুটিতে। ছয়টি আসন গিয়েছে নির্দলদের দখলে।

Published on: Oct 7, 2026, 10:06:22 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

অসমের বাঙালি অধ্যুষিত শহর শিলচরে বড় জয় বিজেপির। সদ্য গঠিত শিলচর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে বিরোধীদের কার্যত উড়িয়ে দিল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। ৪২টি আসনের মধ্যে ৩৪টি দখল করেছে শাসক জোট। তার মধ্যে একাই বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে ৩২টি আসন। শরিক অসম গণ পরিষদ বা এজিপি পেয়েছে আরও দু’টি আসন। কংগ্রেসের জয় মাত্র দুটিতে। ছয়টি আসন গিয়েছে নির্দলদের দখলে।

অসমের বাঙালি অধ্যুষিত শহর শিলচরে বড় জয় বিজেপির।
অসমের বাঙালি অধ্যুষিত শহর শিলচরে বড় জয় বিজেপির।

শিলচরের এই ফলকে তাই শুধু পুরভোটের জয় বলে দেখছে না বিজেপি। সামনে বিধানসভা ভোট। তার আগে বরাক উপত্যকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহরে এই ফল যে গেরুয়া শিবিরকে বাড়তি অক্সিজেন দিল, তা স্পষ্ট। বিশেষ করে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে বিজেপির এমন দাপুটে জয় রাজনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

শিলচর রয়েছে বরাক উপত্যকায়। এই গোটা অঞ্চলের জনসংখ্যার বড় অংশই বাংলাভাষী। ২০১১ সালের জনগণনার তথ্যেও বরাক উপত্যকাকে প্রধানত বাঙালি ভাষাভাষী অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নতুন পুরনিগমে মোট ৪২টি ওয়ার্ড। তার মধ্যে ৪০টিতে ভোট হয়েছে। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেন্দ্র প্রসাদ সিংহ এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ভক্তি সেন তালুকদার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই জয়ী হয়েছিলেন। বাকি ৪০টি ওয়ার্ডে ৩ অক্টোবর ভোট হয়। ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৭০.২২ শতাংশ। ভোট হয়েছে ব্যালট পেপারে। গণনা শুরু হয় ৬ অক্টোবর।

ফল প্রকাশের পর অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ব্যালট পেপারেও কংগ্রেস হারল। বরং আরও বড় ব্যবধানে হারল। বিজেপির দাবি, এই ফল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব এবং অসম সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার উপর মানুষের আস্থার প্রতিফলন।

ভোটের আগে শিলচরে জোরদার প্রচার চালিয়েছিলেন হিমন্ত। প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। বিজেপির প্রার্থী জিতলে প্রতি ওয়ার্ডে এক কোটি টাকা করে উন্নয়ন তহবিল দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছিলেন। রাস্তা, নিকাশি, জলাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ এবং পানীয় জলের মতো স্থানীয় সমস্যাগুলিই প্রচারের কেন্দ্রে ছিল।

এই জায়গাতেই বিজেপির জয় আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিলচরের ভোটে বরাবরই নাগরিক পরিষেবা, স্থানীয় উন্নয়ন এবং পরিচয়ের রাজনীতি পাশাপাশি কাজ করে। এ বার সেই ভোটেই কংগ্রেসের আসন কমে মাত্র দুইয়ে দাঁড়াল। অন্য দিকে বিজেপি একাই পেল ৩২টি। অর্থাৎ পুরনিগমের প্রথম নির্বাচিত বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল এনডিএ।

তবে ফল পুরোপুরি বিতর্কমুক্ত নয়। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে নির্দল এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে কংগ্রেস প্রার্থীর জয়ের পর পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। সেই দাবির বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তা সত্ত্বেও বড় ছবি বদলাচ্ছে না। বাঙালি অধ্যুষিত শিলচরে প্রথম পুরনিগম ভোটেই বিজেপির এমন বড় জয় অসমের রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিল। বরাক উপত্যকায় গেরুয়া শিবিরের প্রভাব কতটা বেড়েছে, সেই প্রশ্ন এখন আরও জোরালো। সামনে বড় নির্বাচন। তার আগে শিলচরের এই ফল বিজেপির কাছে নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাসের বড় কারণ।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More