SIR Case Update: বঙ্গের এসআইআর নিয়ে বড় তথ্য, ভোটারদের আবেদনের নিষ্পত্তিতে ১২ বছর লাগতে পারে

কমিশনের হিসাব বলছে, বর্তমান গতিতে আপিলের শুনানি চললে সব আবেদন মেটাতে ১২ বছরেরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। এই তথ্য সামনে আসার পর দ্রুত শুনানি শেষ করতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন।

Published on: Sep 21, 2026, 14:22:25 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা নিয়ে শুরু হওয়া নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআরের জট এখনও কাটেনি। তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পর বহু মানুষ ফের নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করেছেন। সেই আবেদনের শুনানি এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এবার এই মামলাতেই সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

A Booth Level Officer (BLO) helps voters check their names in the newly released Draft Electoral Roll 2026 as part of the Election Commission of India's Special Intensive Revision (SIR), at a voter verification camp inside a polling station in Amritsar on August 16, 2026. (Photo by Narinder NANU / AFP) (AFP)
A Booth Level Officer (BLO) helps voters check their names in the newly released Draft Electoral Roll 2026 as part of the Election Commission of India's Special Intensive Revision (SIR), at a voter verification camp inside a polling station in Amritsar on August 16, 2026. (Photo by Narinder NANU / AFP) (AFP)

কমিশনের হিসাব বলছে, বর্তমান গতিতে আপিলের শুনানি চললে সব আবেদন মেটাতে ১২ বছরেরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। এই তথ্য সামনে আসার পর দ্রুত শুনানি শেষ করতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন।

এসআইআরের পর পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৭.১৬ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ২২ লক্ষেরও বেশি মানুষ নিজেদের নাম ফের ভোটার তালিকায় যুক্ত করার জন্য আবেদন করেছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা প্রায় ২২ লক্ষ ২১ হাজার। অর্থাৎ বাদ পড়া ভোটারদের প্রায় ৮২ শতাংশই আপিলের পথে গিয়েছেন।

তবে শুধু নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে নয়, ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম ওঠার বিরুদ্ধেও আবেদন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এসআইআর সংক্রান্ত আপিলের সংখ্যা প্রায় ৩৮.৩ লক্ষ। এর মধ্যে প্রায় ৩৭ লক্ষ আবেদন এখনও বিচারাধীন রয়েছে। ফলে বিপুল সংখ্যক মামলা এখনও ট্রাইব্যুনালের সামনে আটকে আছে।

বর্তমানে ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল এই মামলাগুলি দেখছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, এই সংখ্যায় এত বিপুল আবেদন দ্রুত শেষ করা সম্ভব নয়। তাই ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪২টি করার আবেদন করা হয়েছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, এর ফলে দ্রুত বেশি সংখ্যক মামলার শুনানি করা সম্ভব হবে।

শুধু ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর কথাই বলা হয়নি। অনলাইন শুনানির সুযোগ বাড়ানোরও প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা যাতে নিজেদের বাসস্থান বা অন্য কোনও জায়গা থেকেও অনলাইনে শুনানি করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার পরিবর্তনের আবেদন করা হয়েছে।

কমিশনের আরও একটি তথ্য নজর কেড়েছে। ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনগুলির মধ্যে বিপুল সংখ্যক আবেদনকারী তাঁদের পক্ষে সিদ্ধান্ত পেয়েছেন। সাম্প্রতিক হলফনামায় কমিশন জানিয়েছে, ১ লক্ষ ২৬ হাজার ১৯৪টি আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে। এর প্রায় ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের পক্ষে সিদ্ধান্ত গিয়েছে এবং তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় ফের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৮,৬৪৯টি আবেদনে আবেদনকারীরা হেরে গিয়েছেন। তাঁদের নাম বাদ থাকার সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে।

তবে এই পরিসংখ্যান নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। মোট আপিলের মধ্যে কতগুলি সরাসরি বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন এবং কতগুলি অন্য ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে করা হয়েছে, তার আলাদা হিসাব কমিশনের হলফনামায় স্পষ্ট করা হয়নি বলে প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সম্পূর্ণ ছবিটি বুঝতে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।

এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মূল বিষয় এখন তাই দুটি। একদিকে ভোটার তালিকায় নাম থাকা বা বাদ যাওয়ার প্রশ্ন। অন্যদিকে, সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি। এত বিপুল সংখ্যক আবেদন দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে। এখন আদালত ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো এবং শুনানির প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ে কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More