স্যার ক্রিকে পাকিস্তানের নতুন সামরিক তৎপরতা? চিন-তুরস্কের সহযোগিতার দাবি ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘অপারেশন আবাবিল: দ্য ডিভাইন স্ট্রাইক’ নামে একটি নতুন সামরিক পরিকল্পনা শুরু করেছে পাকিস্তান। এই অভিযানে চিন ও তুরস্কের সহযোগিতাও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও পাকিস্তান, চিন বা তুরস্কের তরফে এ বিষয়ে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Published on: Aug 6, 2026, 09:34:35 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Sir Creek Border Latest Update: গুজরাট সংলগ্ন স্যার ক্রিক সীমান্তে পাকিস্তানের নতুন সামরিক তৎপরতার দাবি ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘অপারেশন আবাবিল: দ্য ডিভাইন স্ট্রাইক’ নামে একটি নতুন সামরিক পরিকল্পনা শুরু করেছে পাকিস্তান। এই অভিযানে চিন ও তুরস্কের সহযোগিতাও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও পাকিস্তান, চিন বা তুরস্কের তরফে এ বিষয়ে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ভারতও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি নিয়ে মন্তব্য করেনি।

‘অপারেশন আবাবিল: দ্য ডিভাইন স্ট্রাইক’ নামে একটি নতুন সামরিক পরিকল্পনা শুরু করেছে পাকিস্তান।
‘অপারেশন আবাবিল: দ্য ডিভাইন স্ট্রাইক’ নামে একটি নতুন সামরিক পরিকল্পনা শুরু করেছে পাকিস্তান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের বিতর্কিত জলাভূমি অঞ্চল স্যার ক্রিকে পাকিস্তান নৌসেনা তাদের স্পেশ্যাল সার্ভিস গ্রুপ (এসএসজি-এন)-এর কমান্ডো মোতায়েন করেছে। স্থল, জল ও আকাশ— তিন ক্ষেত্রেই দ্রুত অভিযান চালানোর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই বিশেষ বাহিনীকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি তুরস্কের তৈরি সশস্ত্র ড্রোনও ওই এলাকায় ব্যবহার করা হচ্ছে বলে খবর। নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজন হলে হামলা চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে এই ড্রোনগুলির।

স্যার ক্রিক অঞ্চলটি কাদামাটি ও জলাভূমিতে ভরা হওয়ায় সেখানে সাধারণ নৌযানের চলাচল অত্যন্ত কঠিন। সেই কারণেই পাকিস্তানকে বিশেষ ধরনের হোভারক্রাফ্ট এবং মেরিন অ্যাসল্ট ক্রাফ্ট সরবরাহ করেছে চিন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকায় দ্রুত টহল এবং সেনা মোতায়েন আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শুধু সীমান্তেই নয়, পাকিস্তানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতেও চিন ও তুরস্কের ভূমিকা বাড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে। সম্প্রতি চিন পাকিস্তানের হাতে প্রথম হ্যাংগর-শ্রেণির স্টেলথ সাবমেরিন তুলে দিয়েছে। পাশাপাশি চিনের সহায়তায় তৈরি তুঘরাইল-শ্রেণির যুদ্ধজাহাজও পাকিস্তান নৌবহরে যুক্ত হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই নতুন যুদ্ধসামগ্রী পাকিস্তানের সমুদ্রপথে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরে নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই কাজ করছে ইসলামাবাদ। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্যার ক্রিক এবং ‘হারামি নালা’ সংলগ্ন এলাকায় নতুন মেরিন সিকিউরিটি পোস্ট তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলে টহলদারি বাড়াতে একাধিক প্রতিরক্ষা নৌযান, মেরিন অ্যাসল্ট ক্রাফ্ট এবং গশ্তি নৌকা মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, স্যার ক্রিক দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকা। ফলে সেখানে যে কোনও সামরিক তৎপরতা স্বাভাবিকভাবেই দুই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতীয় নৌসেনা ও উপকূলরক্ষী বাহিনীও দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে কড়া নজরদারি চালিয়ে আসছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই পশ্চিম সীমান্ত এবং আরব সাগরে ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্যার ক্রিকে পাকিস্তানের নতুন সামরিক তৎপরতার দাবি সামনে আসায় কৌশলগত মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সরকারি স্তরে এই দাবিগুলির স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ এখনও হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নজর থাকলেও, পরিস্থিতির প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য সরকারি তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More