Delhi SIR: SIR নোটিস দিল্লির বর্তমান-প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে! নথিতে কোন অসঙ্গতি? কী বলছে নির্বাচন কমিশন?
Delhi SIR: নির্বাচন কর্তৃপক্ষের আগে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৩,৭৯,৭৮৫ জন ভোটার 'নন-ম্যাপিং' বিভাগের আওতায় পড়েছেন। আরও ১৯,৩৩,১৩৪ জন ভোটারের ক্ষেত্রে লজিক্যাল অসঙ্গতি চিহ্নিত হয়েছে।
Delhi SIR: নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার জেরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে। ৩৩.১ লক্ষ ভোটারকে ইতিমধ্যেই শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই তালিকায় নাম রয়েছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের।
দিল্লিতে ভোটার তালিকায় নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর চলছে। দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর এবার সেই ভোটারদের তালিকা প্রকাশ্যে এনেছে, যাঁদের ভোটার রেকর্ডে অসঙ্গতি পাওয়ায় নোটিস পাঠানো হয়েছে। গত ৩১ অগাস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের প্রায় তিন সপ্তাহ পর এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
দিল্লি এসআইআর
শনিবার দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর এসআইআর প্রক্রিয়ায় নোটিস পাওয়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করে। তাঁদের কারও ভোটার তথ্যে ‘যৌক্তিক অসংগতি’ ধরা পড়েছে। আবার কারও তথ্য আগের এসআইআর তালিকার সঙ্গে মেলানো যায়নি। নির্বাচন কর্তৃপক্ষের আগে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৩,৭৯,৭৮৫ জন ভোটার 'নন-ম্যাপিং' বিভাগের আওতায় পড়েছেন। আরও ১৯,৩৩,১৩৪ জন ভোটারের ক্ষেত্রে লজিক্যাল অসঙ্গতি চিহ্নিত হয়েছে। এই ভোটারদের নাম খসড়া ভোটার তালিকায় থাকলেও তাঁদের রেকর্ডে চিহ্নিত সমস্যার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়েছে। এসআইআর-এর পাশাপাশি দিল্লিতে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যাতেও পরিবর্তন হয়েছে। আগে যেখানে ১৩,০৩৩টি ভোটকেন্দ্র ছিল, এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৪,৯৪৭টি—প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি। দিল্লির ৭০টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটকেন্দ্রগুলোর পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে এবং নির্বাচন কর্তৃপক্ষ সব কেন্দ্রের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।
দিল্লির বর্তমান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নোটিস
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নামেও নোটিস ইস্যু করা হয়েছে। তাঁর নামেও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি রয়েছে। মা-বাবার বয়সের থেকে তাঁর বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম হওয়ায় নোটিস দেওয়া হয়েছে। যদিও পরে শালিমার বাগের নির্বাচনী আধিকারিক জানান যে তথ্য যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মুখ্যমন্ত্রীর নাম যোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের তথ্য আগের এসআইআর-এর রেকর্ডের সঙ্গে মেলানো যায়নি। একই কারণে তাঁর স্ত্রী সুনীতা কেজরিওয়াল, তাঁর বাবা গোবিন্দ রাম কেজরিওয়াল, মা গীতা দেবী এবং ছেলে পুলকিতকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁদের নাম তালিকা থেকে মোটেও বাদ যায়নি, বরং আগের এসআইআর তালিকার সঙ্গে নিজেদের ম্যাপিং বা সংযোগ না করার কারণেই নোটিস জারি করা হয়েছে। এই সংশোধনীর পর আগামী ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে।
এদিকে, আপ-এর অফিসিয়াল এক্স (X) হ্যান্ডলে ক্ষোভ প্রকাশ করে পোস্ট করা হয়, 'কীভাবে সম্ভব যে তিনবারের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালজি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামই দিল্লির ভোটার তালিকা থেকে নিখোঁজ?' নয়া দিল্লি বিধানসভা কেন্দ্রের খসড়া তালিকায় কেজরিওয়ালের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী সুনীতা কেজরিওয়াল, পিতা গোবিন্দ রাম কেজরিওয়াল, মাতা গীতা দেবী এবং পুত্র পুলকিতের নাম নোটিশের আওতায় এসেছে। অথচ গত বছরের বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁরা সকলেই ভোট দিয়েছিলেন।
তালিকায় কপিল সিব্বল, বীরেন্দ্র সচদেবও
এই তালিকায় রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বলের নামও রয়েছে। আগের এসআইআর ভোটার তালিকার সঙ্গে তাঁর তথ্য মেলেনি বলে তাঁকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। দিল্লির প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেবও নোটিস পেয়েছেন। তাঁর স্ত্রী ও ভাইয়ের নামেও বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি পাওয়ায় তাঁদেরও নোটিস পাঠানো হয়েছে। তালিকায় নাম রয়েছে প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়, তাঁর স্ত্রী সুদেশ ধনকড়, সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মদন লোকুর, প্রাক্তন মন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম স্বামী, দিল্লির মন্ত্রী প্রবেশ সিংয়ের। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা ও পরিচিত ব্যক্তিদের শুনানি কেন্দ্রে সরাসরি যেতে হবে না। তাঁদের ক্ষেত্রে নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তা বুথ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় পাঠিয়ে তথ্য ও নথি যাচাই করতে পারেন।
কী করতে হবে?
ইআরও (ERO) জানিয়েছে, যাদের নাম বা অভিভাবকের নাম খসড়া ভোটার তালিকায় নেই, তারা ফর্ম ৬-র মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। ১০ অক্টোবরের মধ্যে নোটিসের নিষ্পত্তির কাজ শেষ করতে হবে। শনিবার দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) অশোক কুমার বলেন, 'এসআইআরের খসড়া তালিকার মধ্যে যাঁদের নাম ও জন্মতারিখ সংক্রান্ত অসঙ্গতি রয়েছে, সে বিষয়ে একটি তালিকা নির্বাচন কমিশন অনলাইনে প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র পেশ করার জন্য নোটিসও পাঠানো হচ্ছে।' সিইও আরও বলেন, 'এখন মতামত এবং আপত্তি সংক্রান্ত শুনানি চলছে। তাই নোটিস পাঠানো হচ্ছে। মূলত দু’ধরনের নোটিস পাঠানো হচ্ছে— একটি আনম্যাপড ভোটারদের জন্য। অন্যটি যাঁদের নাম বা জন্মতারিখে সামান্য অসঙ্গতি রয়েছে।'
E-Paper

