'চমক আছে!' যমজ বোনকে ৮৪ বার ছুরির কোপ, হামলার আগে মা'কে কী বলেছিল উত্তরপ্রদেশের ইঞ্জিনিয়ার?
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হার্দিক প্রায় দেড় বছর ধরে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পুণের এক মুসলিম তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল।
উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে এক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা সামনে এসেছে, যা পুলিশ, চিকিৎসক ও প্রতিবেশীদের হতবাক করে দিয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে এক অদ্ভুত কাহিনি-সোশ্যাল মিডিয়ায় গড়ে ওঠা একতরফা সম্পর্ক, একাকীত্ব এবং ক্রমশ বাড়তে থাকা মানসিক অবসাদ।

গত সপ্তাহেই ২৫ বছর বয়সি ইঞ্জিনিয়ার হার্দিককে নিজের যমজ বোন হিমশিখাকে নৃশংসভাবে খুন করে এবং পরে নিজের মা নীলিমাকেও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে হোলির দিনে। অভিযুক্ত হার্দিক এবং তার বোন হিমশিখা দুজনেই আইটি পেশাদার ছিলেন। দুই ভাইবোনই আগে গুরুগ্রামের আইটি সেক্টরে কাজ করতেন। হিমশিখা চাকরির পাশাপাশি এমবিএ করছিলেন। অন্যদিকে, হার্দিক প্রায় দেড় বছর আগে চাকরি ছেড়ে ইউটিউবে কনটেন্ট তৈরি করা শুরু করে। বাইরে থেকে একটি সফল এবং শিক্ষিত পরিবারের প্রতিচ্ছবি মনে হলেও, অন্তরালে যে এমন ভয়াবহ আক্রোশ লুকিয়ে ছিল, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি হার্দিকের আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। সে গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল ফোনে আটকে থাকতো এবং অনলাইনে চ্যাট করত।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু সম্পর্ক
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হার্দিক প্রায় দেড় বছর ধরে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পুণের এক মুসলিম তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। তারা নিয়মিত ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলত এবং কখনও দেখা না হলেও বিয়ে করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, হার্দিকের যমজ বোন হিমশিখা ও তাঁর মা নীলিমা তাঁকে বারবার অনলাইন সম্পর্কে অতিরিক্ত জড়িয়ে না পড়ে নিজের ক্যারিয়ারের দিকে মন দিতে বলতেন। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ৬ মার্চ সন্ধ্যায় এই নিয়ে বচসার চলাকালীন হার্দিক তার বোন হিমশিখার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। অভিযোগ উঠেছে যে, সে তার বোনের শরীরে একের পর এক ছুরিকাঘাত করে। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির রান্নাঘরের সবজি কাটার ছুরি দিয়েই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, হিমশিখার শরীরে ৮৪টি ছুরির আঘাত ছিল।
খুনের পর মাকেও হত্যার পরিকল্পনা
যমজ বোনের এমন নৃশংস মৃত্যু নিশ্চিত করার পর হার্দিকের আক্রোশ থামেনি। বোনকে বাড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে সে তার মায়ের অফিসের দিকে রওনা হয়। তার মা একটি বেসরকারি বীমা সংস্থায় সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। মাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার বাহানায় সে অফিস থেকে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসে। হার্দিক বলে , 'চলো বাড়ি যাই। তোমার জন্য আমার একটা সারপ্রাইজ আছে।' এরপর মা বাড়িতে পৌঁছে দরজা খুলতেই বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়ের দেহ দেখতে পান। এরপরেই হার্দিক তাঁর ওপরও ছুরি নিয়ে চড়াও হয়। তবে নীলিমা প্রাণে বেঁচে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি পালিয়ে সাহায্য চান। নীলিমা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং বিপদমুক্ত বলে জানা গেছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ নিউ মোরাদাবাদ এলাকা থেকে হার্দিককে গ্রেফতার করে এবং আদালতে তোলার পর তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। এসপি সিটি রাম বিজয় সিং জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত দাবি করেছে, তার বোন তার ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করছিল। বোনের এই উপদেশ এবং মন্তব্যে সে ক্রমশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
E-Paper











