Vikram-1 Rocket Launch Update: ইতিহাস গড়তে চলেছে স্কাইরুট, মহাকাশে উড়বে ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’

মিশন আগমন সফল হলে শুধু স্কাইরুট অ্যারোস্পেস নয়, গোটা ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের জন্য এটি হবে এক বড় সাফল্য। ভবিষ্যতে দেশীয় সংস্থাগুলি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর সুযোগ পাবে।

Published on: Jul 16, 2026, 17:11:51 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Vikram-1 Rocket Launch Update: ভারতের মহাকাশ গবেষণায় আরও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। হায়দরাবাদ-ভিত্তিক মহাকাশ সংস্থা স্কাইরুট অ্যারোস্পেস ১৮ জুলাই তাদের প্রথম অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’ উৎক্ষেপণ করতে চলেছে। এই সফল উৎক্ষেপণ হলে ভারত বিশ্বের বেসরকারি অরবিটাল রকেট উৎক্ষেপণকারী দেশগুলির তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নেবে।

স্কাইরুট অ্যারোস্পেস ১৮ জুলাই তাদের প্রথম অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’ উৎক্ষেপণ করতে চলেছে।
স্কাইরুট অ্যারোস্পেস ১৮ জুলাই তাদের প্রথম অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’ উৎক্ষেপণ করতে চলেছে।

এই মিশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিশন আগমন’। শুক্রবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্রের (SDSC-SHAR) প্রথম উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হবে। স্কাইরুট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের আগে সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে। বিমান চলাচল এবং সমুদ্রপথে নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, যাতে উৎক্ষেপণের সময় কোনও সমস্যা না হয়।

এটি ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ বেসরকারি সংস্থার তৈরি অরবিটাল রকেটের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ। এই মিশনের মাধ্যমে স্কাইরুট তাদের নতুন প্রযুক্তি এবং রকেটের বিভিন্ন অংশ বাস্তব পরিস্থিতিতে কতটা কার্যকর, তা পরীক্ষা করবে। এই পরীক্ষার ফল ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেবে।

এর আগে ২০২২ সালের ১৮ নভেম্বর স্কাইরুট ‘বিক্রম-এস’ নামে একটি সাব-অরবিটাল রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছিল। সেটিই ছিল ভারতের মাটি থেকে উৎক্ষেপিত প্রথম বেসরকারি রকেট, যা মহাকাশে পৌঁছেছিল। সেই সাফল্যের পর এবার আরও বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে সংস্থাটি। বিক্রম-১ রকেটে একাধিক পেলোড বা বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম পাঠানো হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ‘মিশন এমব্রেস’ নামে একটি বিশেষ প্রযুক্তি। এটি তৈরি করেছে হায়দরাবাদের আর একটি মহাকাশ সংস্থা কসমোসার্ভ স্পেস।

এই প্রযুক্তির লক্ষ্য মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো অকেজো উপগ্রহ এবং মহাকাশের আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রিস নিরাপদে ধরার ব্যবস্থা তৈরি করা। এর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ ধরনের নরম ও নমনীয় রোবোটিক বাহু। এই বাহুগুলি ক্ষতিগ্রস্ত বা অকেজো উপগ্রহকে আলতোভাবে ধরে ভবিষ্যতে নিরাপদে সরিয়ে দেওয়ার প্রযুক্তি পরীক্ষা করবে। বর্তমানে মহাকাশে হাজার হাজার অকেজো উপগ্রহ ও ধ্বংসাবশেষ ঘুরে বেড়াচ্ছে। এগুলি ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযান এবং সক্রিয় উপগ্রহগুলির জন্য বড় বিপদ হয়ে উঠেছে। তাই এই সমস্যা সমাধানে নতুন প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। কসমোসার্ভের এই উদ্যোগ সেই দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মিশন আগমন সফল হলে শুধু স্কাইরুট অ্যারোস্পেস নয়, গোটা ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের জন্য এটি হবে এক বড় সাফল্য। ভবিষ্যতে দেশীয় সংস্থাগুলি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর সুযোগ পাবে। এর ফলে ভারতের মহাকাশ প্রযুক্তি, বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ পরিষেবা এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More