Smriti-Harmanpreet Tussle: অধিনায়কত্ব নিয়ে স্মৃতি-হরমনপ্রীতের ঠান্ডা লড়াই, দুই শিবিরে ভাগ ভারতীয় ড্রেসিংরুম?

হরমনপ্রীত কৌর সব ফরম্যাটে অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন। তার পরেই স্মৃতি মন্ধানার হাতে এসেছে নেতৃত্ব। ৬ অক্টোবর এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। হরমনপ্রীত অবশ্য ক্রিকেটার হিসেবে দলে থাকছেন। ফলে দুই ক্রিকেটারকে এখন একই ড্রেসিংরুমে নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে। আর সেখানেই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

Published on: Oct 7, 2026, 09:25:19 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

এক দলে দুই তারকা। এক জন দীর্ঘ দিনের অধিনায়ক। অন্য জন দলের সবচেয়ে বড় ব্যাটিং ভরসা। বাইরে থেকে সম্পর্ক ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কেই নাকি ফাটল ধরেছিল। মতের মিল হচ্ছিল না। তার প্রভাব পড়েছিল ড্রেসিংরুমেও। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে নেতৃত্ব বদলের পর এখন বার বার সামনে আসছে সেই পুরনো প্রশ্ন। স্মৃতি মন্ধানা এবং হরমনপ্রীত কৌরের মধ্যে দূরত্ব কি দলের অন্দরে গোষ্ঠীবাজির জন্ম দিয়েছিল?

হরমনপ্রীত কৌর সব ফরম্যাটে অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন। তার পরেই স্মৃতি মন্ধানার হাতে এসেছে নেতৃত্ব। (AFP)
হরমনপ্রীত কৌর সব ফরম্যাটে অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন। তার পরেই স্মৃতি মন্ধানার হাতে এসেছে নেতৃত্ব। (AFP)

হরমনপ্রীত কৌর সব ফরম্যাটে অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন। তার পরেই স্মৃতি মন্ধানার হাতে এসেছে নেতৃত্ব। ৬ অক্টোবর এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। হরমনপ্রীত অবশ্য ক্রিকেটার হিসেবে দলে থাকছেন। ফলে দুই ক্রিকেটারকে এখন একই ড্রেসিংরুমে নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে। আর সেখানেই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

এনডিটিভিতে প্রকাশিত পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে দলের একটি সূত্রের দাবি, বেশ কিছু দিন ধরেই স্মৃতি এবং হরমনপ্রীত এক মত ছিলেন না। দুজনের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। সেই অস্বস্তির ছাপ নাকি ড্রেসিংরুমেও দেখা গিয়েছিল। অর্থাৎ বিষয়টি শুধু অধিনায়কত্বের লড়াইয়ে আটকে ছিল না। দলের পরিবেশেও তার প্রভাব পড়ার কথা সামনে এসেছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই দূরত্বের শুরু কোথায়?

স্মৃতি দীর্ঘ দিন ধরেই ভারতীয় দলের সহ অধিনায়ক ছিলেন। নেতৃত্বের জন্য তাঁকে তৈরি করা হচ্ছে, এমন ধারণাও ছিল। কিন্তু হরমনপ্রীতের অধিনায়কত্ব চলতেই থাকে। ঘরের মাঠে এক দিনের বিশ্বকাপ জয়ের পরও নেতৃত্বে বদল হয়নি। তার পরপরই টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন আরও বাড়ে। নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়।

এই পরিস্থিতিতে স্মৃতির ধৈর্যও নাকি ফুরিয়ে যাচ্ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। এমনকি সম্প্রতি নিজের নেতৃত্বের ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন। ফলে অধিনায়কত্বের প্রশ্নটি শুধু নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত ছিল না। দলের দুই বড় মুখের সম্পর্কের সঙ্গেও বিষয়টি জড়িয়ে যায়।

এখানেই সামনে আসে গোষ্ঠীবাজির প্রসঙ্গ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতৃত্বের পরিবর্তনের সময় আগেও ভারতীয় মহিলা দলে এমন সমস্যা দেখা গিয়েছিল। মিতালি রাজের কাছ থেকে নেতৃত্ব হরমনপ্রীতের হাতে যাওয়ার সময় দুই প্রবীণ ক্রিকেটারের সম্পর্কেও তীব্র টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। সেই সময় দলের মধ্যে বিভাজনের কথাও উঠে এসেছিল। এবার স্মৃতি এবং হরমনপ্রীতের সম্পর্ক ঘিরে একই ধরনের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

তবে একটা বড় পার্থক্য রয়েছে। মিতালি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে গিয়েছিলেন। কিন্তু হরমনপ্রীত এখনই যাচ্ছেন না। বরং আরও দুই থেকে তিন বছর ক্রিকেটার হিসেবে খেলার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। অর্থাৎ নতুন অধিনায়ক স্মৃতির সঙ্গেই তাঁকে খেলতে হবে। পুরনো অস্বস্তি ভুলে দুজন মাঠে এবং মাঠের বাইরে কতটা একসঙ্গে কাজ করতে পারেন, সেটাই এখন আসল পরীক্ষা।

এর মধ্যেই হরমনপ্রীতের ব্যাটিং নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অধিনায়কত্বের চাপ আর নেই। ফলে এবার তাঁকে শুধুই ক্রিকেটার হিসেবে বিচার করা হবে। তাঁর পারফরম্যান্সের উপরেও বাড়বে চাপ। অন্য দিকে স্মৃতির সামনে আরও বড় দায়িত্ব। শুধু রান করলেই হবে না। দলের মধ্যে বিশ্বাস ফেরাতে হবে। বিভিন্ন গোষ্ঠী থাকলে সেগুলিকে এক জায়গায় আনতে হবে।

শেষ পর্যন্ত ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়ের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করতে পারে এই সম্পর্কের উপর। নেতৃত্ব বদল হয়েছে। কিন্তু ড্রেসিংরুমের পুরনো অস্বস্তি সত্যিই শেষ হয়েছে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More