মদের দোকানে কাজ, ডাক্তারির চাপ- বাবাকে মেরে টুকরো টুকরো করে নীল ড্রামে ভরল তরুণ
পুলিশ জানিয়েছে, ২০ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলা পড়াশোনা নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়।
বাবা চাইতেন ছেলে নিট পরীক্ষায় বসুক। কিন্তু ছেলে তা চাইতেন না। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে প্রায়শই অশান্তি হত। শুক্রবার বিকেলে সেই অশান্তি চরমে পৌঁছোয়। তারপর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের ওষুধ ব্যবসায়ী মানবেন্দ্র সিং। থানায় গিয়ে বাবার নিখোঁজ ডায়েরিও করে আসেন ছেলে অক্ষত সিং। কিন্তু তদন্তে নামতে যে তথ্য প্রকাশ্যে এল, তাতে হতবাক পুলিশ আধিকারিকরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মানবেন্দ্র সিং নিখোঁজ ছিলেন। তদন্তে নেমে পুলিস তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালালে একটি নীল ড্রামের ভেতর দেহের অংশ খুঁজে পায়। এরপর তাঁর ছেলে অক্ষত প্রতাপ সিংকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর হাড়হিম সত্যি বেরিয়ে আসে। অক্ষয় পুলিসের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ১৯ বছর বয়সি ওই যুবক তার বাবাকে গুলি করে হত্যা করার পর দেহ খণ্ডবিখণ্ড করে একটি নীল প্লাস্টিকের ড্রামে লুকিয়ে রেখেছিলেন। সোমবার পুলিশ অভিযুক্ত অক্ষত সিংকে গ্রেফতার করেছে।
হাড়হিম হত্যাকাণ্ড
নিহত মানবেন্দ্র সিং (৪৯) পেশায় এক মদ ব্যবসায়ী এবং প্যাথলজি ল্যাবের মালিক ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ২০ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলা পড়াশোনা নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। মানবেন্দ্র চেয়েছিলেন তার ছেলে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ডাক্তার হোক, কিন্তু ছেলে তাতে রাজি ছিল না। মেজাজ হারিয়ে অক্ষত নিজের লাইসেন্সড রাইফেল দিয়ে বাবাকে গুলি করে। এরপর তিন তলা থেকে দেহটি নীচে নামিয়ে এনে একটি খালি ঘরে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় টুকরো করে অক্ষত। এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে অক্ষতের একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট বোনের চোখের সামনেই। কাউকে কিছু বললে তাকেও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
বাবাকে খুনের পর প্রমাণ লোপাটের জন্য অক্ষত বাড়ির তিন তলা থেকে দেহটি টেনে নিচে নামিয়ে আনে এবং ঘরোয়া যন্ত্রপাতি দিয়ে দেহটি কয়েক খণ্ড করে। দেহের হাত ও পাগুলো গাড়িতে করে শহরের উপকণ্ঠে একটি নির্জন এলাকায় ফেলে দিয়ে আসে, আর ধড় ও মাথাটি একটি নীল ড্রামে ভরে বাড়ির নিচতলার একটি ঘরে লুকিয়ে রাখে। তারপর পুলিশকে বিভ্রান্ত করার জন্য, সে তার বাবার নামে একটি নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরি করে। দেহের কিছু অংশ সদরুনার কাছে ফেলে দিয়ে এলেও ধড়-সহ বাকি অংশ বাড়িতেই ড্রামে লুকিয়ে রাখে। অন্যদিকে, পুলিশ মানবেন্দ্রের ধড় উদ্ধার করলেও তাঁর কাটা মাথাটি এখনও খুঁজে পায়নি। অক্ষত তাঁর বাবার হাঁটু থেকে পা এবং দুই হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। নৃশংসভাবে কুপিয়ে বাবার শরীরের ধড়টি একটি স্লিপিং ব্যাগে ভরে বাড়ির ভেতরে রাখা একটি নীল রঙের ড্রামে লুকিয়ে রেখেছিল সে।
পুলিশি তদন্ত
অক্ষতের স্বীকারোক্তি পাওয়ার পর ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছে। বাকি দেহাংশ উদ্ধারেও চলছে তল্লাশি। অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, মানবেন্দ্র চেয়েছিলেন, অক্ষত ডাক্তার হোক। কিন্তু পড়াশোনায় আগ্রহ ছিল না ছেলের। পড়াশোনাকে কেন্দ্র করেই বাবা ও ছেলের সম্পর্কে তিক্ততা বাড়তে থাকে। লখনউয়ের আশিয়ানা এলাকার অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার বিক্রান্ত বীর জানিয়েছেন, ফরেনসিক ও ব্যালেস্টিক দল ঘটনার পুনর্গঠন করছে। বাড়ি থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে খুন, দেহ নষ্ট করা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
E-Paper

