Wangchuk-CJP Rift Speculation: আন্দোলনে ফাটল? সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙার পরে সিজেপির সঙ্গে মতপার্থক্য ঘিরে জল্পনা
টানা ২৬ দিন অনশনের পর গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি অনশন ভাঙেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দেওয়া হয়। জানানো হয়, ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলা আন্দোলনে নতুন মোড়। আন্দোলনের অন্যতম মুখ সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করলেও, আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতার পর ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত আন্দোলনের ভিতরে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

গত ২৮ জুন থেকে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। টানা ২৬ দিন অনশনের পর গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি অনশন ভাঙেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দেওয়া হয়। জানানো হয়, ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। পাশাপাশি নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে এবং সংসদে পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এই আশ্বাসের পর সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি ভিডিও পোস্ট করে ওয়াংচুক লেখেন, **“ক্ষুধার সমাপ্তি, এবার জবাবদিহির শুরু।”** তবে তাঁর এই সিদ্ধান্তে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ জনতা পার্টি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।
আন্দোলনের শুরুতে ওয়াংচুক এবং সিজেপির অন্যতম প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। কিন্তু সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতায় সেই দাবি আর জায়গা পায়নি। এখান থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে মতভেদের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওয়াংচুক অনশন ভাঙার পর তাঁর পোস্ট করা ভিডিও বা বার্তা সিজেপি বা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে তাঁদের সরকারি সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে ভাগ করে নেননি। এই ঘটনাও দুই পক্ষের দূরত্বের জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
অন্যদিকে, সিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যন্তর-মন্তরে তাদের অবস্থান-বিক্ষোভ চলবে। ফলে ওয়াংচুক আন্দোলন থেকে সরে এলেও সিজেপি নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
এদিকে দিল্লির যন্তর-মন্তরে এখনও হাজার হাজার আন্দোলনকারী অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবার উপরও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। বিষয়টি সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বিরোধী দলগুলি ছাত্রদের দাবির সমর্থনে সরব হয়ে সংসদে সরকারের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াচ্ছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন আনার ঘোষণা করলেও বিরোধীরা তাতে সন্তুষ্ট নয়। ককরোচ জনতা পার্টি এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, উভয়েই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকারের সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হওয়া উচিত ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করে সরকারের ঘোষণাকে কটাক্ষ করেছেন।
সব মিলিয়ে, সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহার সরকারের জন্য সাময়িক স্বস্তি এনে দিলেও আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে সিজেপির পরবর্তী পদক্ষেপের উপর। ওয়াংচুক ছাড়াও আন্দোলনের ধার কতটা বজায় রাখতে পারে সংগঠনটি, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


