Sonam Wangchuk: ‘আমাকে এনকাউন্টারে মেরে ফেলা হতে পারে’, লাদাখে সভা থেকে বিস্ফোরক দাবি সোনমের

ওয়াংচুকের দাবি, তাকে এর আগে জেলে পাঠানো হয়েছিল। এখন তার আশঙ্কা, কোথাও পুলিশি অভিযানের নামে তার উপর হামলা হতে পারে। তবে তার কথায়, এমন কিছু ঘটলে তাতেও তিনি ভয় পাচ্ছেন না। বরং তার মৃত্যু যদি দেশের মানুষের নজর লাদাখের সমস্যার দিকে ফেরায়, তা হলে সেই পরিণতির মুখোমুখি হতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান।

Published on: Sep 25, 2026, 10:29:35 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

লাদাখে আন্দোলন ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা। নিজের প্রাণ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার লেহতে এক সভায় তিনি দাবি করেন, সরকারের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার কারণে তাকে এনকাউন্টারে মেরে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি এই ধরনের সতর্কবার্তাও নাকি তিনি পেয়েছেন। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর লাদাখে আন্দোলনের সময় চার জনের মৃত্যুর এক বছর পূর্তিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।

Climate activist Sonam Wangchuk (PTI) (HT_PRINT)
Climate activist Sonam Wangchuk (PTI) (HT_PRINT)

ওয়াংচুকের দাবি, তাকে এর আগে জেলে পাঠানো হয়েছিল। এখন তার আশঙ্কা, কোথাও পুলিশি অভিযানের নামে তার উপর হামলা হতে পারে। তবে তার কথায়, এমন কিছু ঘটলে তাতেও তিনি ভয় পাচ্ছেন না। বরং তার মৃত্যু যদি দেশের মানুষের নজর লাদাখের সমস্যার দিকে ফেরায়, তা হলে সেই পরিণতির মুখোমুখি হতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ওয়াংচুকের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে গত বছরের লাদাখ হিংসার ঘটনা। রাজ্যের মর্যাদা, সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় সুরক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সেই আন্দোলন ঘিরে লেহতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের গুলিতে চার জনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন। ওই ঘটনার কারণ ও পুলিশি পদক্ষেপ খতিয়ে দেখতে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এক বছর পর সেই তদন্তের রিপোর্ট এখনও প্রকাশ্যে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওয়াংচুক। তার দাবি, তদন্তের ফল দ্রুত সামনে আনা উচিত। রিপোর্ট প্রকাশ না করা হলে পুলিশি গুলি চালানোর ঘটনা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন জন ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথাও বলেছেন তিনি। তার বক্তব্য, গত বছরের ঘটনায় কার দায়িত্ব ছিল, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার।

ওয়াংচুক একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগও দাবি করেছেন। লাদাখের গত বছরের ঘটনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাজনৈতিক ভাবে দায় নিতে হবে বলে দাবি তার। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় যুবকদের উপর স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। পাশাপাশি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে ওয়াংচুকের একাধিক অভিযোগ মানতে রাজি নয় লাদাখ পুলিশ। পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবারের স্মরণসভায় মানুষকে যোগ দিতে আটকানো হয়নি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল স্বাভাবিক নিয়মের অংশ। পুলিশ জানিয়েছে, লেহর এনডিএস ময়দানে অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে ৮০০ জনেরও কম মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেডও দেওয়া হয়েছিল মূলত যান চলাচল ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য বলে পুলিশের বক্তব্য।

এ দিকে বৃহস্পতিবার লেহ, কার্গিল-সহ লাদাখের বেশ কিছু এলাকায় বন্ধ পালিত হয়েছে। দোকানপাট বন্ধ ছিল, রাস্তায়ও তুলনামূলক কম ছিল যানবাহন। গত বছরের নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন জায়গায় কর্মসূচি হয়। ওয়াংচুকের বক্তব্য, কঠোর নিরাপত্তা এবং নানা বিধিনিষেধের কারণে অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতি কমেছে। যদিও পুলিশ সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে।

সব মিলিয়ে, গত বছরের রক্তাক্ত আন্দোলনের এক বছর পর লাদাখে ফের রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ছে। এক দিকে সংবিধানগত সুরক্ষা ও স্থানীয় অধিকারের দাবি, অন্য দিকে গত বছরের ঘটনার তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের প্রশ্ন। তার মধ্যেই নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াংচুকের এই দাবি পরিস্থিতিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More