Sonam Wangchuk Health Condition Update: সোনম ওয়াংচুকের শরীর এখন কেমন আছে? কী জানাল দিল্লির হাসপাতাল
সফদরজং হাসপাতালের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে না খাওয়া এবং শরীরে পানিশূন্যতার কারণে তাঁর শারীরিক শক্তি অনেকটাই কমে গিয়েছে।
টানা ২১ দিনের অনশন শেষে অবশেষে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি হলেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শনিবার সকালে দিল্লি পুলিশ তাঁকে যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থল থেকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার প্রথম সরকারি আপডেট প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিনের অনশন ও পানিশূন্যতার কারণে তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন। যদিও আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে, তবে সুস্থ করে তুলতে তাঁকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার আওতায় রাখা জরুরি।

সফদরজং হাসপাতালের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে না খাওয়া এবং শরীরে পানিশূন্যতার কারণে তাঁর শারীরিক শক্তি অনেকটাই কমে গিয়েছে। হাসপাতাল জানিয়েছে, বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল থাকলেও শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা প্রয়োজন।
দিল্লি পুলিশের দাবি, দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই ওয়াংচুককে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। সেই কারণেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ দিন ধরে অনশন করছিলেন সোনম ওয়াংচুক। তিনি 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)-র আন্দোলনে যোগ দিয়ে যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেছিলেন। অনশনের ২১তম দিনে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে. অ্যাংমো। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ তিনি জানান, তাঁর অনুমতি এবং পরিবারের সম্মতি ছাড়া সোনম ওয়াংচুককে কোনও ওষুধ, খাবার বা শিরায় তরল (ইন্ট্রাভেনাস) দেওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, গত ২০ দিন ধরে যে চিকিৎসক দল ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছিল, তাদের সঙ্গেও আলোচনা করেই পরবর্তী চিকিৎসা হওয়া উচিত।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে গীতাঞ্জলি জানান, "গতকালও ওঁর শারীরিক অবস্থা ভালোই ছিল। হাসপাতালে আনার কোনও প্রয়োজন ছিল না। সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি আমার অধিকার।"
অনশনের ফলে সোনম ওয়াংচুকের ওজন ইতিমধ্যেই ৮ কেজিরও বেশি কমে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখা চিকিৎসকেরা। দীর্ঘ সময় অনশন চালিয়ে যাওয়ায় তাঁর শরীরে চর্বির পাশাপাশি পেশিরও ক্ষয় শুরু হয়েছে বলে আগেই জানানো হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, দু'দিন আগে দিল্লি হাই কোর্ট কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিল, সোনম ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে যা যা প্রয়োজন, তা অবিলম্বে করতে হবে। আদালতের সেই পর্যবেক্ষণের পরই শনিবার সকালে তাঁকে আন্দোলনস্থল থেকে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে ওয়াংচুককে হাসপাতালে স্থানান্তর ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁকে জোর করে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে, আদালতের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এখন সবার নজর তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে এবং চিকিৎসায় তিনি কত দ্রুত সাড়া দেন, সেদিকেই।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


