Sonam Wangchuk Ladakh: লাদাখের পথে দেখা গেল না দীপকে-সৌরভ-আশুতোষকে, ওয়াংচুকের পদযাত্রা ঘিরে প্রশ্ন
লাদাখে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বরের হিংসার প্রথম বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখেই এ বার নতুন করে পথে নেমেছেন ওয়াংচুক। লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় এলাকার জন্য সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সমর্থনের বার্তা ছিল। কিন্তু মাটির আন্দোলনে দেখা গেল না তাঁদের। লাদাখে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের ডাকে প্রতীকী পদযাত্রায় কক়রোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র কোনও বড় নেতাই যোগ দেননি। অভিজীত দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঁকা সমাজমাধ্যমে ওয়াংচুকের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। কিন্তু বুধবার লেহ-তে আয়োজিত পদযাত্রায় তাঁদের কাউকেই দেখা যায়নি।

লাদাখে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বরের হিংসার প্রথম বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখেই এ বার নতুন করে পথে নেমেছেন ওয়াংচুক। লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় এলাকার জন্য সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন তিনি। ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর লেহ-তে এই দাবিকে ঘিরে বিক্ষোভ হিংসাত্মক হয়ে উঠেছিল। সেই ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন।
এ বার প্রথমে ১৯ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন ওয়াংচুক। আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য দিল্লি থেকে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো বার্তাও দেন তিনি। সেখানে নিজের আগের অনশনের প্রসঙ্গ তুলে বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং সমর্থকদের লাদাখে আসার আহ্বান জানান। তাঁর সেই বার্তার পর দীপকে, দাস এবং রাঁকার তরফে অনলাইনে সমর্থনের কথা জানানো হলেও, তাঁরা লাদাখে যাওয়ার বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা করেননি। পরে আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে মূল কর্মসূচি বদলে এক দিনের প্রতীকী পদযাত্রার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বুধবার লেহ-তে সেই পদযাত্রায় ওয়াংচুকের সঙ্গে কয়েক ডজন মানুষ ছিলেন। লাদাখের পাশাপাশি অন্য কয়েকটি রাজ্য থেকেও কিছু সমর্থক সেখানে যোগ দেন। তবে সিজেপির তিন পরিচিত মুখকে সেখানে দেখা যায়নি। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ওয়াংচুক নিজে বিষয়টিকে বড় করে দেখাতে চাননি। তিনি জানান, এক বার সকলকে যোগ দেওয়ার আবেদন করেছিলেন। পরে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের স্বাগত জানিয়েছেন। অর্থাৎ, তাঁর বক্তব্যে উপস্থিতির সংখ্যা বা নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাপ তৈরির ইঙ্গিত নেই।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই লাদাখ প্রশাসনের তরফে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের লেহ হিংসার সঙ্গে যুক্ত ২০ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনয় কুমার সাক্সেনা। লাদাখ পুলিশের পর্যালোচনার পরে এই মামলাগুলি বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ওই হিংসায় নিহত চার জনও রয়েছেন।
প্রশাসনের বক্তব্য, বৃহত্তর শান্তি, জনশৃঙ্খলা এবং সামাজিক সম্প্রীতির স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে, ওয়াংচুক-সহ আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলি এখনও বহাল। তাঁদের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে লাদাখের সাংবিধানিক সুরক্ষা, রাজ্যের মর্যাদা এবং স্থানীয় মানুষের অধিকারের প্রশ্ন। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্র ও লাদাখের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হলেও এখনও সব দাবির বিষয়ে চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।
ফলে লাদাখে আন্দোলনের ময়দান এবং দিল্লির রাজনৈতিক পরিসর—দুই জায়গাতেই এখন আলাদা সমীকরণ দেখা যাচ্ছে। এক দিকে ওয়াংচুকের পদযাত্রা ফের পুরনো দাবিগুলিকে সামনে এনেছে, অন্য দিকে ২০২৫-এর হিংসার মামলায় প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্তও আলোচনায় এসেছে। তবে সিজেপির নেতারা শেষ পর্যন্ত লাদাখের কর্মসূচিতে না যাওয়ায় তাঁদের আগের অনলাইন সমর্থন কতটা মাঠের আন্দোলনে পরিণত হবে, তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


