Sonam Wangchuk Latest Update: সিজেপি-পাক যোগ, সিআইএ যোগ নিয়ে প্রশ্ন, সোনম ওয়াংচুক বললেন...

প্রখর গুপ্তর একটি পডকাস্টে ওয়াংচুককে আন্দোলনের অর্থের উৎস এবং বিদেশি যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। মজার ছলে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি সিআইএ-র সঙ্গে যুক্ত? উত্তরে ওয়াংচুক রসিকতা করে বলেন, তিনি যদি সিআইএ-র লোকও হন, তা হলে এখনও নিজেই তা আবিষ্কার করতে পারেননি। 

Published on: Sep 3, 2026, 11:57:52 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি-কে ঘিরে চলা আন্দোলনে কোনও বিদেশি শক্তির যোগ রয়েছে—এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর দাবি, আন্দোলনকে সমর্থন করার আগে তিনি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন, সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ও অনুসারীদের বিশ্লেষণ দেখেছেন এবং দিল্লির মাটিতে আন্দোলনের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এসবের ভিত্তিতেই তাঁর মনে হয়েছে, আন্দোলনের পিছনে কোনও বিদেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণ নেই।

প্রখর গুপ্তর একটি পডকাস্টে ওয়াংচুককে আন্দোলনের অর্থের উৎস এবং বিদেশি যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। (HT_PRINT)
প্রখর গুপ্তর একটি পডকাস্টে ওয়াংচুককে আন্দোলনের অর্থের উৎস এবং বিদেশি যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। (HT_PRINT)

প্রখর গুপ্তর একটি পডকাস্টে ওয়াংচুককে আন্দোলনের অর্থের উৎস এবং বিদেশি যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। মজার ছলে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি সিআইএ-র সঙ্গে যুক্ত? উত্তরে ওয়াংচুক রসিকতা করে বলেন, তিনি যদি সিআইএ-র লোকও হন, তা হলে এখনও নিজেই তা আবিষ্কার করতে পারেননি। অত্যন্ত গোপন পদ্ধতিতে নিয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে বলেও ঠাট্টা করেন তিনি।

সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পাকিস্তান, বাংলাদেশ বা আমেরিকার সঙ্গে তাঁর কথিত যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ওয়াংচুক স্বীকার করেন, তিনি নিজে কোনও ‘সফিস্টিকেটেড রিসার্চ সফটওয়্যার’ ব্যবহার করে বিস্তারিত তদন্ত করেননি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিজেপি-র বিদেশে বড় অনুসারী গোষ্ঠী রয়েছে বলে দাবি ওঠার পর তিনি সামাজিক মাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করেন।

ওয়াংচুকের দাবি, সেই বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিজেপি-র প্রায় ৯৪ শতাংশ অনুসারী ভারতীয় এবং মাত্র ৬ শতাংশ বিদেশি। তাঁর মতে, এত কম বিদেশি অনুসারীকে উচ্চঝুঁকির ইঙ্গিত হিসেবে দেখার কারণ নেই। তিনি বলেন, বিদেশি অনুসারীর সংখ্যা যদি ৩০ শতাংশের মতো হত, তা হলে বিষয়টি নিয়ে তাঁর সন্দেহ তৈরি হতে পারত। কিন্তু ৯৪ শতাংশ ভারতীয় অনুসারী, মাঠের পরিস্থিতি এবং সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথাবার্তা—সব মিলিয়ে তিনি আন্দোলনের পিছনে কোনও বিদেশি শক্তির হাত দেখতে পাননি।

ওয়াংচুক আরও বলেন, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কিছু কাজ বা তাঁদের অতীত নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, কিন্তু তাঁদের কোনও বিদেশি শক্তি পরিচালনা করছে—এমন প্রমাণ তিনি পাননি। সেই কারণেই তিনি প্রকাশ্যে আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

জুন মাস থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি-সমর্থিত প্রতিবাদে ওয়াংচুক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। আন্দোলনকারীদের সমর্থনে তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশনেও বসেছিলেন। ওয়াংচুকের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনকারীরা দিল্লিতে পৌঁছনোর পর গ্রেফতার হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় তিনি ঘোষণা করেন, তাঁদের সঙ্গে থাকবেন এবং তাঁরা গ্রেফতার হলে অনশনে বসবেন।

তবে ভবিষ্যতে সিজেপি-র নেতৃত্ব বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ উঠলে তদন্তের বিরোধিতা করছেন না ওয়াংচুক। তাঁর মতে, কোনও নেতা মিথ্যা দাবি করলে বা নিজের পরিচয় ও যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দিলে অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত। তবে আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

ওয়াংচুক বলেন, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে যে প্রতিবাদ গড়ে উঠেছিল, তার পিছনে মূল উদ্বেগ ছিল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। তাঁর দাবি, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ২০ জন শিশুর আত্মহত্যার ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একটি মৃত্যুও যখন দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করতে পারে, সেখানে এতগুলি তরুণ প্রাণের মৃত্যু উপেক্ষিত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত ওয়াংচুক স্পষ্ট করেন, তাঁর সমর্থনের মূল জায়গা ছিল কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন নয়, বরং আন্দোলনের উত্থাপিত শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষার অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়। তাঁর বক্তব্য, মানুষ বা সংগঠনকে ঘিরে বিতর্ক থাকতেই পারে, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল যে সমস্যার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ আওয়াজ তুলছে, সেই সমস্যার সমাধান করা।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More