Sonam Wangchuk: ফের রাজপথে সোনম ওয়াংচুক! নয়া আন্দোলনের ভ্রূকুটি? লাদাখে চড়ছে পারদ
Sonam Wangchuk: প্রথমে কারগিল থেকে লেহ পর্যন্ত এক দীর্ঘ পদযাত্রার পরিকল্পনা থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও তীব্র ঠান্ডার কারণে তা কমিয়ে ২০ কিলোমিটারের একটি প্রতীকী পদযাত্রায় রূপ দেওয়া হয়েছে।
Sonam Wangchuk: সদ্য ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে শামিল হয়ে অনশন করেছিলেন। তাতে সাফল্য মিলেছে। এবার লাদাখের জন্য পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে চারজনের মৃত্যুর এক বছর পূর্তিতে ২০ কিলোমিটার পদযাত্রার ঘোষণা করলেন পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর লেহ শহরে এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে এবং ২৪ সেপ্টেম্বরকে ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে।

প্রথমে কারগিল থেকে লেহ পর্যন্ত এক দীর্ঘ পদযাত্রার পরিকল্পনা থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও তীব্র ঠান্ডার কারণে তা কমিয়ে ২০ কিলোমিটারের একটি প্রতীকী পদযাত্রায় রূপ দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় সোনাম ওয়াংচুক জানান, 'লাদাখের সংস্কৃতি, পরিবেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে এই পদযাত্রার ডাক দেওয়া হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর আমাদের শহিদ ভাইদের স্মরণে ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে পালিত হবে।'
আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সোনম ওয়াংচুকের
গত সপ্তাহে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় সোনম ওয়াংচুক এবং লাদাখের অন্যান্য নেতারা ১৯ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। অন্যদিকে, বার্ষিকী স্মরণের আগেই রবিবার লাদাখ প্রশাসন মোট ১.৫২ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। পুলিশের গুলিতে নিহত চারজনের পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, গুরুতর আহতদের জন্য ৩ লক্ষ টাকা এবং আংশিক আহতদের জন্য ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথা জানানো হয়েছে।
তবে গত সপ্তাহে সোনম ওয়াংচুক বলেছেন, তিনি এই আর্থিক সহায়তার পরিমাণে অসন্তুষ্ট। তাঁর কথায়, 'এই ক্ষতিপূরণে আমি খুশি নই। বরং লজ্জায় আমার মাথা নত হয়ে গেছে।' গত বছর ২৪ সেপ্টেম্বর লাদাখের রাজ্য পুনর্গঠন, পরিবেশ রক্ষা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তপশিলভুক্ত করার দাবিতে আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ নেয়। লেহ শহরে বিক্ষোভ ছড়ালে পুলিশের গুলিতে চারজন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং ৪৪ জন আহত হন। ওই সময়ে অনশনরত সোনাম ওয়াংচুককে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (এনএসএ) গ্রেফতার করে যোধপুর জেলে পাঠানো হয়। ছয় মাস পর তিনি মুক্তি পান। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও এখনও পর্যন্ত সেই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। ক্ষয়ক্ষতি পূরণের এই পদক্ষেপে আন্দোলনকারীদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হলেও ষষ্ঠ তপশিল ও রাজ্য মর্যাদার দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকেই পূর্ণ রাজ্যের স্বীকৃতি নিয়ে সরব সেই অঞ্চলের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরেই লাদাখের মানুষ দাবি করেছেন, পূর্ণ রাজ্য হিসাবে স্বায়ত্তশাসনের অধিকার দেওয়া হোক তাঁদের।
E-Paper

