CJP Protest Update: ২৬ দিনের অনশনের পরও জয়ের ভাষণে ব্রাত্য সোনম ওয়াংচুক, প্রশ্নের মুখে অভিজিৎ দীপকে

অভিজিৎ দীপকে বলেন, এই জয় কোনও এক ব্যক্তির নয়, বরং গোটা দেশের ছাত্র-যুব সমাজের। বক্তব্যে তিনি প্রশ্নফাঁসে ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের, আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করেন। তবে গোটা আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুকের নাম না আসায় অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

Published on: Jul 26, 2026, 09:41:25 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ঘিরে দেশজুড়ে যখন সিজেপি (CJP)-র আন্দোলনে উচ্ছ্বাস, তখনই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। অভিযোগ, জয়ের ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ, লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের নামই উল্লেখ করতে ভুলে যান। অথচ টানা ২৬ দিন অনশন করে আন্দোলনকে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াংচুকের ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্দোলনের সমর্থকদের একাংশ।

অভিজিৎ দীপকের ভাষণে সোনম ওয়াংচুকের নাম না আসায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।
অভিজিৎ দীপকের ভাষণে সোনম ওয়াংচুকের নাম না আসায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।

শনিবার দিল্লির যন্তর-মন্তরে আয়োজিত সমাবেশে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর জানিয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, এই জয় কোনও এক ব্যক্তির নয়, বরং গোটা দেশের ছাত্র-যুব সমাজের। বক্তব্যে তিনি প্রশ্নফাঁসে ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের, আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করেন। তবে গোটা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ সোনম ওয়াংচুকের নাম না আসায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, ওয়াংচুক অবশ্য এই ঘটনায় প্রকাশ্যে কোনও ক্ষোভ দেখাননি। বরং তিনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে সিজেপি এবং দেশের জেন-জি প্রজন্মকে অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে ভয়কে জয় করে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আন্দোলনে সামিল হওয়া সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানান। পরে অভিজিৎ দীপকেও সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে তাঁকে ভিডিও কলে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। সেই পোস্টের শিরোনাম ছিল, **"Cockroach is Back"**।

এই আন্দোলনের সূচনা হয় ৬ জুন, যখন অভিজিৎ দীপকে আমেরিকা থেকে ভারতে ফিরে যন্তর-মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। কিন্তু আন্দোলন প্রত্যাশিত গতি না পাওয়ায় ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেন সোনম ওয়াংচুক। দীর্ঘ ২৬ দিন তিনি অনশন চালিয়ে যান। ১৮ জুলাই তাঁকে শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে জোর করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও তিনি আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বারবার বার্তা দেন।

২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে সিজেপি-র মিছিল সফল করার আহ্বানও জানিয়েছিলেন ওয়াংচুক। সেই কর্মসূচির পর আন্দোলন নতুন মোড় নেয়। দিল্লি পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ এবং বলপ্রয়োগের অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আরও বেশি মানুষ আন্দোলনের পাশে দাঁড়ান। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের আশ্বাসের ভিত্তিতে ২২ জুলাই অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন ওয়াংচুক।

তবে তাঁর অনশন প্রত্যাহার নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। সমালোচকদের একাংশের দাবি ছিল, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মতো মূল দাবি পূরণ হওয়ার আগেই তিনি অনশন ভেঙেছেন। যদিও ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো সেই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে বলেন, মানুষের উচিত তাঁর আত্মত্যাগের মূল্য উপলব্ধি করা।

এদিকে সিজেপি-র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সোনম ওয়াংচুকের অবদান কোনওভাবেই অস্বীকার করা যায় না। তাঁর কথায়, ওয়াংচুকই গোটা দেশের যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন এবং আন্দোলনকে নতুন শক্তি দিয়েছিলেন। তাই যন্তর-মন্তরের মঞ্চে জয়ের ভাষণে তাঁর নাম না ওঠা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর লেগেছে। আন্দোলনের সাফল্যের নেপথ্যে সোনম ওয়াংচুকের ভূমিকা যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে আন্দোলনের অন্দরে কার্যত কোনও দ্বিমত নেই।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More