Sonam Wangchuk's Wife: সোনম ওয়াংচুককে বিচার করবেন না, আবেদন স্ত্রীর; ককরোচ আন্দোলন ঘিরে জোর বিতর্ক

সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়ে  গীতাঞ্জলি বলেছেন, অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে সোনম ওয়াংচুককে তাড়াহুড়ো করে বিচার করা উচিত নয়। দীর্ঘ ২৬ দিনের অনশনে তিনি শারীরিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই সমালোচনার বদলে তাঁর প্রতি সহানুভূতি দেখানো প্রয়োজন।

Published on: Jul 25, 2026, 10:42:46 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ২৬ দিনের অনশন ভাঙার পর সমালোচনার মুখে পড়েছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। এই পরিস্থিতিতে তাঁর পাশে দাঁড়ালেন স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমো। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন, অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে সোনম ওয়াংচুককে তাড়াহুড়ো করে বিচার করা উচিত নয়। দীর্ঘ ২৬ দিনের অনশনে তিনি শারীরিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই সমালোচনার বদলে তাঁর প্রতি সহানুভূতি দেখানো প্রয়োজন।

সোনম ওয়াংচুকের পাশে দাঁড়ালেন স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমো। (ANI Video Grab)
সোনম ওয়াংচুকের পাশে দাঁড়ালেন স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমো। (ANI Video Grab)

সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে গীতাঞ্জলি লেখেন, কোনও বড় উদ্দেশ্যের জন্য টানা ২৬ দিন অনশন করা কতটা কঠিন, তা না বুঝে কেউ যেন ওয়াংচুককে সমালোচনা না করেন। তিনি জানান, বর্তমানে সোনম ওয়াংচুক আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন। অনশনের ফলে তাঁর ওজন ১১ কেজি কমেছে। শুধু চর্বি নয়, শরীরের পেশিও অনেকটাই নষ্ট হয়েছে। নিজের আরাম-আয়েশের কথা না ভেবে বৃহত্তর স্বার্থে তিনি এই আত্মত্যাগ করেছেন। তাই অন্তত একদিন তাঁকে শান্তিতে থাকতে দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

গীতাঞ্জলি আরও বলেন, নিঃস্বার্থভাবে মানুষের জন্য কাজ করা একজন ব্যক্তিকে বিচার করার আগে প্রত্যেকের নিজের নৈতিক অবস্থান নিয়ে ভাবা উচিত। তিনি সকলের কাছে মানবিক হওয়ার আবেদন জানান।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে সোনম ওয়াংচুক তাঁর অনশন ভাঙেন। এরপর কেন্দ্র সরকার আশা প্রকাশ করে যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে চলতে থাকা আন্দোলনের সমাধানের পথ খুলতে পারে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।

তবে আন্দোলন থামছে না। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, ওয়াংচুক অনশন শেষ করলেও তাঁদের আন্দোলন চলবে। নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা অনড় রয়েছেন।

অন্যদিকে বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা ও সাংসদ ওয়াংচুকের আলোচনার পথে এগিয়ে আসার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, আন্দোলনের পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।

নিজেও সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে সোনম ওয়াংচুক জানান, দেশে সম্ভাব্য হিংসার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই তিনি অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, কেন্দ্র সরকারের লিখিত আশ্বাস এবং ৬৫ জন বিরোধী সাংসদের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তিনি বিশ্বাস করেছেন যে, দেশের পরীক্ষাব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

সরকারি সূত্রের দাবি, অনশন ভাঙানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন গীতাঞ্জলি অ্যাংমো। জানা গিয়েছে, তিনি সরকার এবং ওয়াংচুকের মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম সেতুবন্ধন ছিলেন। দীর্ঘ অনশনের কারণে স্বামীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তিনি আন্দোলনের পরিবর্তে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার পক্ষে ছিলেন এবং অতিরিক্ত কোনও শর্ত না রেখে অনশন শেষ করার পরামর্শ দেন।

এদিকে বিরোধী দলও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরব। তবে গীতাঞ্জলি অ্যাংমো এর আগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিরোধী দল সোনম ওয়াংচুকের জনপ্রিয়তা এবং আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার পর আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোয়, কেন্দ্র ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনায় কোনও সমাধান বেরিয়ে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More