Sonia Gandhi: 'গত ১২ বছরে দেশের গণতান্ত্রিক...,' সনিয়ার নিশানায় বিজেপি, 'জরুরি অবস্থা' তোপ কেন্দ্রের
Sonia Gandhi: দেশে জারি থাকা জরুরি অবস্থা প্রসঙ্গে সনিয়া গান্ধী স্বীকার করেছেন যে, সেই সময়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হয়েছিল এবং মৌলিক অধিকার স্থগিত করা হয়েছিল। তবে তিনি জানান, এ পদক্ষেপটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কার্যকর করা হয়েছিল।
Sonia Gandhi: গত ১২ বছরে দেশের গণতন্ত্র, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি করেছে বিজেপি। তবে দেশের মানুষ এখন পরিস্থিতি নিয়ে ধীরে ধীরে অসন্তুষ্ট হতে শুরু করেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বুঝতে পারছেন। এমনই মন্তব্য করলেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধী।

আগামী ১০ নভেম্বর সনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী ‘বিলঙ্গিং: আ জার্নি অব লাভ’ প্রকাশিত হবে। এই উপলক্ষে সংবাদমাধ্যম 'দ্য হিন্দু'কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৭৯ বছর বয়সি এই প্রবীণ রাজনীতিক বর্তমান নরেন্দ্র মোদী সরকারের নীতি ও শাসনব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা, পারিবারিক ট্র্যাজেডি এবং রাজনীতিতে নিজের সক্রিয় প্রবেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বস্তুনিষ্ঠ ভাবে তুলে ধরেছেন। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতাচ্যুত হলে রাজনীতিতে আবার নীতি ও কর্মসূচিভিত্তিক লড়াই ফিরবে কিনা, সেই প্রশ্নের উত্তরে কংগ্রেস নেত্রী বলেন, 'গত ১২ বছরে আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং প্রতিষ্ঠানগুলির যে ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামত করতে অনেক সময় ও রাজনৈতিক দলগুলির সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে। তবে তিনি হতাশ নন।' তাঁর বক্তব্য, মানুষ এখন ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছেন এবং দেশের ক্ষতির বিষয়টি উপলব্ধি করছেন। সঠিক শাসনব্যবস্থায় ফেরার জন্য তাঁরা অপেক্ষা করছেন।
সনিয়া গান্ধীরর বক্তব্যের বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বলেন, 'সনিয়াজি কী ১৯৭৫ সালের কথা ভুলে গেছেন, যখন গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরা হয়েছিল? হাজার হাজার নেতাকে জেলে পোরা হয়েছিল, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল।' অর্জুন রাম মেঘওয়ালের পাল্টা দাবি, গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করেছেন। ভারতকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি। বলে রাখা প্রয়োজন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন জারি করা হয়েছিল জরুরি অবস্থা। তা ওঠে ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ।
এদিকে, দেশে জারি থাকা জরুরি অবস্থা প্রসঙ্গে সনিয়া গান্ধী স্বীকার করেছেন যে, সেই সময়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হয়েছিল এবং মৌলিক অধিকার স্থগিত করা হয়েছিল। তবে তিনি জানান, এ পদক্ষেপটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কার্যকর করা হয়েছিল। জরুরি অবস্থার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সনিয়া গান্ধী বলেন, ‘সেই সময় দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছিল। দেশজুড়ে জায়গায় জায়গায় বিক্ষোভ, সরকারি দফতর ও গণপরিবহণে আগুন লাগিয়ে দেওয়া, জায়গায় জায়গায় অশান্তির ঘটনা ঘটছিল। এমনকী প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ অমান্য করার বার্তা দেওয়া হচ্ছিল। ইন্দিরা গান্ধী সেই সময় দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।’ জরুরি অবস্থার যাবতীয় অনিয়মের জন্য কেবল সঞ্জয় গান্ধীকে দায়ী করার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে সনিয়া গান্ধীর বক্তব্য, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর উপরে তাঁর কয়েক জন প্রবীণ সহকর্মীর চরম রাজনৈতিক চাপ ছিল। তৎকালীন সময়ে রাজীব গান্ধী ইন্দিরা গান্ধীকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কংগ্রেস নেত্রী বলেন, 'ভুলে গেলে চলবে না মিসেস গান্ধী নিজেই বুঝতে পেরে ১৯৭৭ সালের মার্চে নির্বাচন ডেকেছিলেন। জরুরি অবস্থা উঠেছিল। পরে তিনি নিজেই প্রকাশ্যে জরুরি অবস্থার বাড়াবাড়ির জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছিলেন, ক্ষমা চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিকভাবেই বিষয়টি মিটেছিল।'
রাজনীতিতে কখনও কখনও আপস করতে হলেও বিজেপি ও আরএসএসের সঙ্গে কংগ্রেস কখনও আপস করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না বলে স্পষ্ট করেছেন সনিয়া গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক উত্থান প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, আরএসএসের ভিতরে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছতে নরেন্দ্র মোদীকে বঞ্চিত ও অনগ্রসর পরিবেশ থেকে উঠে আসতে হয়েছে। তবে আরএসএসের আদর্শ থেকে শেখার কিছু নেই বলেই মনে করেন তিনি। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও সরব হয়েছে কংগ্রেস। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলন করছে হাত শিবির। ভোট চুরির অভিযোগে ব্যালট পেপারে ভোট ফেরানোর দাবিও তুলেছে তারা। এদিকে নির্বাচন কমিশনের দুই আধিকারিক সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের' প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিরোধীরা সমান সুযোগ পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন সনিয়া গান্ধী। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপর শাসক দলের নিয়ন্ত্রণ, মূলধারার সংবাদমাধ্যমের উপর প্রভাব, বিপুল অর্থবল এবং ধর্মের ব্যবহার বিরোধীদের লড়াই কঠিন করে তুলেছে। তবে একের পর এক নির্বাচনে পরাজয়ের পরেও কংগ্রেস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি সনিয়া গান্ধীর। তাঁর বক্তব্য, দলের কর্মী ও নেতারা নানা ধরনের চাপের মুখেও সংবিধানের মূল্যবোধ রক্ষায় লড়ছেন। সমমনোভাবাপন্ন দলগুলির সঙ্গে একজোট হয়ে কাজ করছে কংগ্রেস। দলের নির্বাচনী সম্ভাবনাও প্রতিদিন উন্নত হচ্ছে বলে আশাবাদী তিনি।
E-Paper

