Sourav Ganguly: বিগ বস থেকে ফের আইপিএলের ময়দানে ‘দাদা’, এবার কোন নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে
সৌরভের প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে দিল্লি ক্যাপিটালসেও শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়। ২০২৫ ও ২০২৬ মরশুমে দলের কোচিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন হেমাং বদানি। তাঁর নেতৃত্বাধীন কোচিং সেটআপের বিদায়ের পরই নতুন মুখ হিসেবে সৌরভকে বেছে নিয়েছে দিল্লি।
ক্রিকেটে ফের নতুন ভূমিকায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এ বার সরাসরি আইপিএলের ডাগআউটে। আগামী মরশুমে দিল্লি ক্যাপিটালসের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। মঙ্গলবারই আনুষ্ঠানিক ভাবে এই ঘোষণা করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজি। আইপিএলে কোনও দলের হেড কোচ হিসেবে এটাই সৌরভের প্রথম দায়িত্ব। এত দিন দিল্লির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল পরামর্শদাতা, ক্রিকেট ডিরেক্টর এবং মেন্টরের ভূমিকায়। এবার সেই সম্পর্কই পৌঁছল একেবারে ডাগআউটের কেন্দ্রে।

সৌরভের প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে দিল্লি ক্যাপিটালসেও শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়। ২০২৫ ও ২০২৬ মরশুমে দলের কোচিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন হেমাং বদানি। তাঁর নেতৃত্বাধীন কোচিং সেটআপের বিদায়ের পরই নতুন মুখ হিসেবে সৌরভকে বেছে নিয়েছে দিল্লি। আইপিএল ২০২৬-এ দিল্লির অভিযান অবশ্য প্রত্যাশামতো হয়নি। লিগ পর্বে ষষ্ঠ স্থানে শেষ করতে হয়েছিল দলকে। এখনও পর্যন্ত আইপিএলের ট্রফি জিততে পারেনি দিল্লি। ২০০৮ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম মরশুম থেকে অংশ নিলেও সেই অধরা ট্রফির অপেক্ষাই থেকে গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সৌরভের নিয়োগকে শুধু কোচ বদল হিসেবে দেখছে না ক্রিকেটমহল। দিল্লির সঙ্গে তাঁর পুরনো সম্পর্ক, দলের কাঠামো সম্পর্কে অভিজ্ঞতা এবং আগ্রাসী নেতৃত্বের ভাবমূর্তি—সব মিলিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজির আশা, ‘দাদা’র হাত ধরে এবার বদল আসবে দলের মানসিকতায়ও। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং মূল ক্রিকেটারদের সঙ্গে সৌরভের আগে থেকেই পরিচয় রয়েছে। ফলে নতুন দায়িত্বে তাঁকে একেবারে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে না।
দিল্লির সঙ্গে সৌরভের সম্পর্ক অবশ্য বেশ পুরনো। ২০১৯ সালে তিনি দলের পরামর্শদাতা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। পরে পুরুষ ও মহিলা—দুই দলেরই ক্রিকেট ডিরেক্টরের দায়িত্ব সামলেছেন। রিকি পন্টিং কোচ থাকাকালীনও দিল্লির কোচিং কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এ বার সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগিয়ে দলের মাঠের পরিকল্পনার দায়িত্ব নিজের হাতে নেবেন।
কোচ হিসেবে সৌরভের প্রস্তুতিও একেবারে শূন্য নয়। চলতি বছরের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ লিগে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের হেড কোচের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেটিই ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক কোচিং অ্যাসাইনমেন্ট। ফলে এবার আইপিএলে নামার আগে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের কোচিংয়ের স্বাদও হয়ে গিয়েছে তাঁর। প্রশাসক হিসেবে বিসিসিআই এবং ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের কাজের অভিজ্ঞতাও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে।
নতুন দায়িত্ব নিয়ে সৌরভের বার্তাও যথেষ্ট স্পষ্ট। দিল্লি ক্যাপিটালস তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই দলের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছেন তিনি। নিজের প্রথম আইপিএল কোচিং দায়িত্বে তাঁর লক্ষ্য, নতুন মরশুমে একটি ‘শক্তিশালী এবং নির্ভীক’ দল তৈরি করা। অর্থাৎ কৌশল থেকে মানসিকতা—দুই জায়গাতেই বদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এদিকে দিল্লির মালিকপক্ষও সৌরভের অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখছে। তাঁদের বক্তব্য, দলের ক্রিকেট কাঠামোকে শক্তিশালী করতে সৌরভ ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। এবার কোচ হিসেবে তাঁর ক্রিকেটীয় ভাবনা ও নেতৃত্ব দলকে আইপিএল খেতাবের লড়াইয়ে আরও এগিয়ে দেবে বলেই আশা ফ্র্যাঞ্চাইজির।
অর্থাৎ, রাজনীতি নয়, ক্রিকেটের বাইশ গজেই আবার জোর গলায় ‘দাদাগিরি’। সামনে নতুন মরশুম। আর সৌরভের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—দিল্লি ক্যাপিটালসের দীর্ঘ খরা কাটিয়ে প্রথম আইপিএল ট্রফি এনে দেওয়া।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


