South African High Commissioner Recalled: দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকমিশনারকে প্রত্যাহার করা হল ভারত থেকে, কী ঘিরে বিতর্ক?
গুপ্তা পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থাকার জেরে ভারতে নিযুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকমিশনার অনিল সুকলালকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিদেশমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, তাঁকে ‘অতিরিক্ত পরামর্শের’ জন্য সদর দফতরে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
South African High Commissioner Recalled: দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত গুপ্তা পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থাকার জেরে ভারতে নিযুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকমিশনার অনিল সুকলালকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিদেশমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, তাঁকে ‘অতিরিক্ত পরামর্শের’ জন্য সদর দফতরে ডেকে পাঠানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দক্ষিণ আফ্রিকার কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত গত জুন মাসে। ২৬ জুন উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারের একটি মন্দিরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা, ভারতে অবস্থানরত ব্যবসায়ী অজয় গুপ্ত এবং হাইকমিশনার অনিল সুকলালের একসঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ্যে আসে। সেই ছবি সামনে আসার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, কীভাবে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কূটনীতিক দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার প্রিটোরিয়ায় সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলা বলেন, অনিল সুকলালকে সদর দফতরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হবে। যদিও তিনি এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করেননি। তবে তিনি জানান, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিদের বিদেশ সফরের সময় কূটনৈতিক সহায়তা ও প্রোটোকল সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন আনার সুপারিশ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিদেশ মন্ত্রক (DIRCO)।
অনিল সুকলাল দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম অভিজ্ঞ কূটনীতিক। ১৯৯৫ সালে বিদেশ মন্ত্রকে যোগ দেওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন ব্রিকস (BRICS)-এর শেরপা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া জি-২০ শেরপা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বেলজিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০২৪ সালের জুন মাসে তাঁকে ভারতে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ২০১৯ সালে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ভারতের ‘প্রবাসী ভারতীয় সম্মান’ পুরস্কারও পান।
কেন বিতর্কের কেন্দ্রে গুপ্তা ভাইরা?
ভারতীয় বংশোদ্ভূত গুপ্তা ভাইদের নাম দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম বড় রাজনৈতিক দুর্নীতি কাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। অভিযোগ, জ্যাকব জুমা ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন গুপ্তা পরিবার তাঁর ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে সরকারি চুক্তি, মন্ত্রিসভা গঠন এবং রাষ্ট্রের অর্থ অপব্যবহারে প্রভাব খাটিয়েছিল। যদিও জুমা এবং গুপ্তা পরিবার বারবার এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জুমা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গুপ্তা ভাইরা দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে চলে যান। বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানোর সুপারিশ করে। বর্তমানে অজয় গুপ্ত ভারতে অবস্থান করছেন, আর অতুল ও রাজেশ গুপ্ত সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (ইউএই) রয়েছেন। ২০২৩ সালে ইউএই-এর একটি আদালত কারিগরি কারণে তাঁদের প্রত্যর্পণের আবেদন খারিজ করে দেয়।
তদন্তের দাবি
দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল এবং বর্তমান জোট সরকারের শরিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স এই ঘটনাকে ‘কূটনৈতিক প্রোটোকলের গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছে। দলটি অনিল সুকলালের ভূমিকা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
এর আগেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিদেশ মন্ত্রক সুকলালের ওই বৈঠকে উপস্থিতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছিল। মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, হাইকমিশনারের কাছ থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং সেই ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ভারতে সফরকালে জ্যাকব জুমা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, অজয় গুপ্ত তাঁর ‘বন্ধু ও ভাইয়ের মতো’। দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্যই তিনি ভারতে এসেছেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন জুমা। এই মন্তব্য এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতি ও কূটনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


