Anaya Bangar: ICCর মানা! তবু রূপান্তরিত ক্রিকেটার অনয়াকে ছাড়পত্র অস্ট্রেলিয়ার, বিস্ফোরক প্রোটিয়া তারকা

Anaya Bangar: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-এর কড়া নিয়ম অনুসারে, পুরুষ বয়ঃসন্ধির মধ্যে দিয়ে যাওয়া কোনও রূপান্তরিত নারী আন্তর্জাতিক এলিট মহিলা ক্রিকেটে অংশ নিতে পারেন না। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও (BCCI) এই একই নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করে।

Published on: Aug 28, 2026, 23:07:04 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Anaya Bangar: ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান অনয়া বাঙ্গার (Anaya Bangar) (পূর্বনাম আরিয়ান) সম্প্রতি সংবাদের শিরোনামে এসেছেন। অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসাগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন করে ছেলে থেকে মেয়ে হওয়ার পর, তিনি পুনরায় পেশাদার ক্রিকেটে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। আন্তর্জাতিক স্তরে বাধা থাকলেও, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (CA) তাঁকে তাদের দেশের এলিট মহিলা ক্রিকেটে (Elite Women's Cricket) খেলার সবুজ সংকেত দিয়েছে। এমনকী অনয়া বাঙ্গার আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাস থেকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে 'উইমেন্স বিগ ব্যাশ লিগ' (WBBL)-সহ শীর্ষস্তরের এলিট মহিলা ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা পেস-বোলিং অলরাউন্ডার মারিজান ক্যাপ।

অনয়া বাঙ্গার
অনয়া বাঙ্গার

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৪টি টেস্ট, ১৬২টি ওডিআই এবং ১২৬টি টি-টোয়েন্টি খেলা মারিজান ক্যাপ তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এই সংক্রান্ত একটি সংবাদের স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, 'একেবারে হাস্যকর, এটা কোনওভাবেই হতে দেওয়া উচিত নয়!' একই সঙ্গে তিনি পোস্টটি ডব্লিউবিবিএল-এর অফিশিয়াল হ্যান্ডেলকে ট্যাগ করেন। চলতি বছরের মার্চ মাসেই থাইল্যান্ড থেকে লিঙ্গ পরিবর্তন করেছিলেন অনয়া। সম্প্রতি মুম্বইয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সবুজ সংকেতের বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, 'আমাকে আবার ক্রিকেট খেলতে অনুমতি দেওয়ার জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার কাছে এই লড়াই অনেক কঠিন। একটা সময় মনে হয়েছিল, আর ক্রিকেট কোনওদিন খেলতে পারব না। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সেই সুযোগ করে দেওয়ায় তাদের ধন্যবাদ।'

এর আগে ভারতে খেলার জন্য বিসিসিআই (BCCI)-এর দ্বারস্থ হলেও সেখান থেকে কোনও সাড়া পাননি অনয়া। এরপরই তিনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ইন্টিগ্রিটি বিভাগের প্রধান জ্যাকি পার্টট্রিজ এক চিঠিতে অনয়ার খেলার যোগ্যতা অর্জনের শর্তাবলী স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, ২০২৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার যে কোনও রাজ্য বা অঞ্চলের প্রিমিয়ার ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন অনয়া, কারণ এই টুর্নামেন্টগুলি নিয়মের অধীনে 'কমিউনিটি ক্রিকেট' হিসেবে গণ্য হয়। তবে ২০২৭ সালের পর শীর্ষ স্তরের বা 'এলিট' ক্রিকেটে অংশ নিতে হলে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১০ ন্যানোমোল/লিটারের নিচে রাখার প্রমাণ দিতে হবে।

তবে অনয়ার এই সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং বৈশ্বিক ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থাগুলির নিয়মে স্পষ্ট ফারাক লক্ষ্য করা যায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-এর কড়া নিয়ম অনুসারে, পুরুষ বয়ঃসন্ধির মধ্যে দিয়ে যাওয়া কোনও রূপান্তরিত নারী আন্তর্জাতিক এলিট মহিলা ক্রিকেটে অংশ নিতে পারেন না। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও (BCCI) এই একই নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করে। এর ফলে ভারতে অনয়ার মহিলা ক্রিকেটে খেলার কোনও সুযোগ ছিল না। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্ষেত্রে বিসিসিআই এখনও তাদের কোনও নির্দিষ্ট নীতি ঘোষণা করেনি। একসময় সরফরাজ খানদের সঙ্গে মুম্বইয়ের বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় খেলা অনয়া বাঙ্গার এখন কঠিন পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নতুন করে নিজের পরিচয় গড়তে মরিয়া।