'আমাদের মিত্রদের পাশে...,' ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কানাডার অবস্থান নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

এর আগে মার্ক কার্নি অবশ্য বলেছিলেন, ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

Published on: Mar 5, 2026, 11:35:36 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। ইরান ও ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের আঁচ এসে পড়েছে একাধিক দেশে। এই আবহে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানালেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণের সম্ভবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আর তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কানাডার অবস্থান নিয়ে জল্পনা (AP)
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কানাডার অবস্থান নিয়ে জল্পনা (AP)

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে কানাডা একত্রে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, যুদ্ধে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা যায় না। এই প্রেক্ষিতে সাংবাদিক সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে কার্নি পরিষ্কারভাবে বলতে পারেননি যে কানাডার সামরিক বাহিনী ভবিষ্যতে এই সংঘাতে যুক্ত হতে পারে কিনা। কার্নি বলেন, 'আপনি এমন এক সংঘাত ঘিরে এমন একটি প্রশ্ন করেছেন, যার উত্তর অনেক বিস্তৃত। তাই কোনও অংশগ্রহণকে কখনোই একেবারে ‘অসম্ভব’ বলা যায় না। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা অবশ্যই আমাদের মিত্রদের পাশে থাকবো।' তিনি আরও বলেন, 'আমরা সর্বদা কানাডিয়ানদের রক্ষা করব।' এর আগে মার্ক কার্নি অবশ্য বলেছিলেন, ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ তবে একই সঙ্গে তিনি মিত্রদের পাশে থাকারও আশ্বাস দিয়েছিলেন।

কার্নি বলেন, 'আমরা চাই এই সংঘাতের উত্তেজনা কমানো হোক; শুধু সরাসরি যুদ্ধরত পক্ষই নয়, বরং বৃহত্তর অন্যান্য দেশকেও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে হবে।' তিনি আরও বলেন, 'আমরা জোর দিয়ে বলছি, এটি অর্জন করা সম্ভব নয় যতক্ষণ না এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানো যায়, যেখানে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন, উন্নয়ন এবং ‘সন্ত্রাস’ রপ্তানির সক্ষমতা পুরোপুরি বন্ধ করা যায়। সেই প্রক্রিয়া অবশ্যই এই লক্ষ্যেই পৌঁছাতে হবে।' কার্নি জানান, ছয় সদস্যের গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) যেভাবে ‘অসাধারণ সংযম’ দেখাচ্ছে, তাদেরও উত্তেজনা হ্রাস প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হওয়া উচিত।

অস্ট্রেলিয়া সফরের লক্ষ্য

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর অস্ট্রেলিয়া সফরের লক্ষ্য বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আরেক ‘মধ্যম শক্তি’ অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'উত্তেজনা কমছে- এটা এখন সারা বিশ্ব দেখতে চায়। আমরা দেখছি, যেসব উপসাগরীয় দেশ এই যুদ্ধে জড়িত ছিল না, তারাও আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এমনকী বেসামরিক ও পর্যটন এলাকাগুলোতেও হামলা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আমরা চাই, আমাদের লক্ষ্যগুলোও যেন অর্জিত হয়।' অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সুরেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে কার্নি বলেন, 'আমরা স্বীকার করি যে বর্তমানে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে। এগুলো যুদ্ধবিরতির জন্য অপরিহার্য শর্ত।' উভয় রাষ্ট্রনেতাই গত শনিবার থেকে ইরানের ওপর শুরু হওয়া ইজরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলার প্রতি নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করেন।