NEET PG 2026: বায়ুসেনার দায়িত্ব সামলে পড়াশোনা! নিট পিজি-তে বাজিমাত ড. পাল্লাক্ষী প্রসাদের

NEET PG 2026: ড. পাল্লাক্ষী প্রসাদের এই সাফল্য আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি কাজের থেকে কোনও ছুটি না নিয়েই এই পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন।

Published on: Sep 27, 2026, 23:29:52 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

NEET PG 2026: দৃঢ় ইচ্ছা আর লক্ষ্য অর্জনের তীব্র তাগিদ থাকলে সময়ের অভাব বা কাজের ক্লান্তি কোনও কিছুই এগিয়ে চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। ভারতীয় বিমানবাহিনীর (IAF) নির্ভীক আধিকারিক স্কোয়াড্রন লিডার ড. পাল্লাক্ষী প্রসাদ এই কথাই সত্যি করে দেখিয়েছেন। বর্তমানে এয়ার ফোর্স স্টেশন কানপুরে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ড. পাল্লাক্ষী প্রসাদ দেশের অন্যতম কঠিন মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট পিজি ২০২৬’ (NEET PG 2026)-এ অল ইন্ডিয়া র​্যাঙ্ক ২ (AIR 2) অর্জন করে গোটা দেশের সামনে অনুপ্রেরণা হিসেবে সামনে এসেছেন।

বায়ুসেনার দায়িত্ব সামলে পড়াশোনা! নিট পিজিতে বাজিমাত ড. পাল্লাক্ষী প্রসাদের (সৌজন্যে এক্স )
বায়ুসেনার দায়িত্ব সামলে পড়াশোনা! নিট পিজিতে বাজিমাত ড. পাল্লাক্ষী প্রসাদের (সৌজন্যে এক্স )

যেখানে শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য দিনরাত কেবল পড়াশোনাতেই মগ্ন থাকেন, সেখানে একজন সেনা আধিকারিকের কঠিন দায়িত্ব সামলে ৭২০ নম্বরের মধ্যে ৬৩৩ নম্বর পেয়ে এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছেন ড. পাল্লাক্ষী প্রসাদ। নিট পিজি টপার মণীশের সঙ্গে তাঁর নম্বরের ব্যবধান মাত্র ৮।

এএফএমসি পুণে থেকে পড়াশোনা, বিশেষ শুভেচ্ছা ডিজিএএফএমএস-এর

ড. পাল্লাক্ষী প্রসাদ বরাবরই অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠান আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ (AFMC), পুণে থেকে তিনি এমবিবিএস (MBBS) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তাঁর এই অভূতপূর্ব সাফল্যে আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল সার্ভিসেস (AFMS)-এর অন্দরে এখন উৎসবের আবহ। আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল সার্ভিসেসের ডিরেক্টর জেনারেল (DGAFMS) এয়ার মার্শাল সন্দীপ থরেজা ব্যক্তিগতভাবে ড. পাল্লাক্ষীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি জানান, দেশের সেবায় নিরলস দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতীয় স্তরের এমন এক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই চমকপ্রদ ফল ড. পাল্লাক্ষীর নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও শিক্ষাগত উৎকর্ষতারই প্রমাণ।

অন-ডিউটি প্রস্তুতি এবং দুর্দান্ত সাফল্য

ড. পাল্লাক্ষী প্রসাদের এই সাফল্য আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি কাজের থেকে কোনও ছুটি না নিয়েই এই পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সারা দিন হাসপাতাল ও মিলিটারি স্টেশনে ডিউটি করার পর অনেক সময় তিনি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়তেন। কখনো কখনো মনে এই সংশয়ও জাগত যে, অন্যান্য পরীক্ষার্থীরা যেখানে দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পড়াশোনা করছেন, তাঁদের সঙ্গে তিনি কীভাবে টেক্কা দেবেন? কিন্তু তিনি মনোবল হারাননি। তিনি নিয়মিত রিভিশন, প্রশ্নপত্রের অনুশীলন এবং মক টেস্টের ওপর বাড়তি জোর দেন। প্রতিদিন অল্প অল্প করে পড়েও তিনি নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন।

দেশের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার কাছে অনুপ্রেরণা

স্কোয়াড্রন লিডার ড. পাল্লাক্ষী প্রসাদের এই অনন্য কৃতিত্ব দেশের সেই লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর কাছে এক বড় বার্তা, যাঁরা প্রায়শই সময়ের অভাব বা সীমিত সুযোগ-সুবিধার অজুহাত দেন। তাঁর এই লড়াইয়ের গল্প শেখায় যে, পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, নিজের লক্ষ্যের প্রতি সৎ থেকে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলে সাফল্য ধরা দিতে বাধ্য।