Iran Slams US: ‘কাভি ইন্ডিয়া আকে তো দেখো...,' ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পকে চরম কটাক্ষ ইরানের

Iran Slams US: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্মগত নাগরিকত্ব আইনের পরিবর্তনের ডাক দিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক কমেন্টেটর ও রেডিয়ো সঞ্চালক মাইকেল স্যাভেজ ভারত ও চিনকে নরক বা হেল-হোল বলে উল্লেখ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয়দের নাম না করে গ্যাংস্টার বলে উল্লেখ করেছেন।

Published on: Apr 24, 2026, 13:11:52 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Iran Slams US: ভারত-চিনের মত দেশগুলি নরকের মত। এইসব দেশগুলির মানুষ মার্কিনীদের বড় ক্ষতি করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক তরজা। ইতিমধ্যে কড়া জবাব দিয়েছে ভারত। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ বলেই উল্লেখ করেছে। এবার ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খোঁচা দিল ইরান।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চরম কটাক্ষ ইরানের (Bloomberg)
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চরম কটাক্ষ ইরানের (Bloomberg)

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পরই এক্স হ্যান্ডেলে মুম্বইয়ে ইরানের কনস্যুলেট জেনারেল মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতি ও ভৌগলিক ঐতিহ্যের ছবি তুলে ধরেন। ওই পোস্টে লেখা হয়েছে, 'মিস্টার ট্রাম্পকে সাংস্কৃতিক ডিটক্সের জন্য পাঠানো উচিত। তাহলে হয়তো এই বাজে বকা কমবে।' একই সঙ্গে লেখা হয়েছে, ‘কাভি ইন্ডিয়া আকে তো দেখো, ফির বোলনা!’ (কখনও ভারতে এসে দেখো, তারপর বলো)।

নরক বা হেল-হোল

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্মগত নাগরিকত্ব আইনের পরিবর্তনের ডাক দিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক কমেন্টেটর ও রেডিয়ো সঞ্চালক মাইকেল স্যাভেজ ভারত ও চিনকে নরক বা হেল-হোল বলে উল্লেখ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয়দের নাম না করে গ্যাংস্টার বলে উল্লেখ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই পোস্ট শেয়ার করেন। এরপরই বিতর্ক শুরু হয়। সেই পোস্টে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশু সে দেশের নাগরিকত্ব পেয়ে যায়, আর তার ফলে পরবর্তীতে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও সেখানে সুযোগ তৈরি হয়। এছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি খাতে ভারত ও চিনের কর্মীদের আধিপত্য নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে, যদিও এর পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ দেওয়া হয়নি। যদিও ট্রাম্প নিজে ওই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেননি, তিনি সম্পূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও ক্লিপ ও চিঠিটি শেয়ার করেন। ফলে সেই মন্তব্য আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ে।

ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন অনভিপ্রেত পোস্টে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য কেবল 'তথ্যহীন' নয়, বরং অত্যন্ত 'অসংলগ্ন ও কুরুচিপূর্ণ।' বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেছে, ’ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভারত-মার্কিন দ্বিপা ক্ষিক সম্পর্কের প্রকৃত চিত্রকে কোনওভাবেই প্রতিফলিত করে না। দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।' বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স পোস্টে লিখেছেন, 'আমরা মন্তব্যগুলো দেখেছি, এবং এর জবাবে মার্কিন দূতাবাস কর্তৃক পরবর্তীতে প্রকাশিত বিবৃতিটিও দেখেছি। মন্তব্যগুলি স্পষ্টতই তথ্যভিত্তিক নয়, অনুপযুক্ত এবং অরুচিকর।'

কী বলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র?

বিতর্ক বাড়তেই পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসে মার্কিন প্রশাসন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেয় মার্কিন দূতাবাস। এক মুখপাত্র জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ভারতের প্রশংসা করেছেন এবং বলেন যে, দেশটির নেতৃত্বে রয়েছেন তাঁর একজন 'খুব ভাল বন্ধু।' যা আদতে 'ড্যামেজ কন্ট্রোল'-এর চেষ্টা বলেই মনে করা হচ্ছে। নয়া দিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র ক্রিস্টোফার এলমস জানান যে, এই রিপাবলিকান নেতা (ডোনাল্ট ট্রাম্প) ভারতের বিষয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি ভারতকে একটি 'মহান রাষ্ট্র' হিসেবে অবিহিত করেছেন। উল্লেখ করেন যে, দেশটির নেতার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব রয়েছে।