Strait of Hormuz Latest Update: হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের ঝুঁকি, ভারতীয় নাবিকদের মোতায়েনে নিষেধাজ্ঞা কেন্দ্রের
DGMA জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির উপর কেন্দ্র সরকার নিয়মিত নজর রাখছে। ভারতীয় নাবিকদের জীবন যাতে কোনওভাবেই ঝুঁকির মুখে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে।
Strait of Hormuz Latest Update: আমেরিকা-ইরান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে ক্রমশ বাড়ছে নিরাপত্তা সংকট। সাম্প্রতিক হামলায় একাধিক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনার পর এবার বড় পদক্ষেপ নিল ভারত সরকার। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী কোনও জাহাজে ভারতীয় নাবিকদের মোতায়েন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

ভারতের সামুদ্রিক প্রশাসনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (DGMA) সমস্ত শিপিং সংস্থা, জাহাজ মালিক এবং ক্রু নিয়োগকারী সংস্থার উদ্দেশে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করবে এমন কোনও বাণিজ্যিক জাহাজে আপাতত ভারতীয় নাবিকদের পাঠানো যাবে না। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনাকে মাথায় রেখেই এই সতর্কতা।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ DGMA জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির উপর কেন্দ্র সরকার নিয়মিত নজর রাখছে। ভারতীয় নাবিকদের জীবন যাতে কোনওভাবেই ঝুঁকির মুখে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে।
শুধু মোতায়েনে নিষেধাজ্ঞাই নয়, শিপিং সংস্থাগুলির জন্য একাধিক নিরাপত্তা নির্দেশও জারি করা হয়েছে। পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর নিরাপত্তা বিধি (ISPS Code) কঠোরভাবে মেনে চলার পাশাপাশি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব সতর্কবার্তার উপর নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে মেরিটাইম কমিউনিকেশন সেন্টার (MMDAC) এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে পশ্চিম এশিয়ায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি বাণিজ্যিক জাহাজ **এমটি আল বাহিয়া** এবং **এমটি মোম্বাসা**-র উপর হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হন এবং আরও ১০ জন আহত হন। ওই দুই জাহাজে মোট ৩০ জন ভারতীয় কর্মী ছিলেন। বিদেশ মন্ত্রক এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সামিল এবং অবিলম্বে তা বন্ধ হওয়া উচিত।
নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র ‘নাবিক প্রথম’ নামে বিশেষ উদ্যোগও শুরু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় পশ্চিম এশিয়ায় কর্মরত প্রত্যেক ভারতীয় নাবিকের অবস্থার উপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি এবং সমন্বয় রক্ষা করা হবে। পাশাপাশি নাবিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ হেল্পলাইন পরিষেবা। টোল-ফ্রি নম্বর, আন্তর্জাতিক সহায়তা নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ই-মেলের মাধ্যমে যে কোনও সময় সাহায্য চাওয়া যাবে।
এদিকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা আক্রমণ এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে উত্তেজনা যত বাড়ছে, ততই উদ্বেগ বাড়ছে ভারত-সহ আন্তর্জাতিক মহলে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষায় কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


