Iran-US: ইরানের সঙ্গে সমঝোতা ‘প্রায় চূড়ান্ত’ পর্যায়ে! শীঘ্রই খুলবে হরমুজ, বড় দাবি ট্রাম্পের, পাল্টা তেহরান
Iran-US: মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, প্রস্তাবিত সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
Iran-US: পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মাঝেই এবার বৃহত্তর শান্তি চুক্তির পথে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তেমনটাই ইঙ্গিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তিনি জানিয়েছেন, উভয় দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা ‘প্রায় চূড়ান্ত’ পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে তিনি দাবি করেছেন।
রবিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে একটি সমঝোতার খসড়া প্রায় তৈরি, এখন শুধু চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষা।’ এই চুক্তির ফলে ইরান ফের হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে পারে বলেও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথায়, ‘বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ স্ট্রেট অব হরমুজ পুনরায় খুলে যেতে পারে।’ এই ঘোষণার আগে পশ্চিম এশিয়া-সহ একাধিক দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন ট্রাম্প। আলাদা করে কথা বলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও। ট্রাম্পের কথায়, ‘খুব ভালো আলোচনা হয়েছে।’ ট্রাম্প বলেন, 'আলাদাভাবে আমি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ‘বিবি’ নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছি। সেটিও খুব ভালো হয়েছে। চুক্তির চূড়ান্ত দিক ও বিস্তারিত বিষয় নিয়ে এখন আলোচনা চলছে এবং খুব শীঘ্রই তা ঘোষণা করা হবে।'
তিনি এই সমঝোতাকে 'শান্তি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক' বা 'মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং' (এমওইউ) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এটি এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং শনিবারের আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায়। এদিকে, ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, 'এ মুহূর্তে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটানো। প্রথম ধাপে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে একমত হওয়ার চেষ্টা চলছে। আলোচনায় মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যুদ্ধ বন্ধের ওপর- সব ফ্রন্টে, যার মধ্যে লেবাননও রয়েছে।' তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক হামলা বন্ধ করা, অথবা যাকে তারা নিজেরা নৌ অবরোধ বলে উল্লেখ করছে এবং ইরানের বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ মুক্ত করার মতো অন্যান্য বিষয়।
হরমুজ বিতর্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, প্রস্তাবিত সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তবে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে ইরান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান কেবল যুদ্ধের আগের মতো জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ফিরিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে যুদ্ধের আগে যেভাবে সম্পূর্ণ অবাধ চলাচল ছিল, সেটি আবার চালু হবে।
পারমাণবিক শান্তি চুক্তি?
ট্রাম্প তার ‘শান্তিচুক্তির কাছাকাছি’ বার্তায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনও আলোচনার কথা উল্লেখ করেননি। ইরানও বলেছে, এ বিষয়টি এখনও আলোচনায় ওঠেনি। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি ট্রাম্পের পোস্টকে ‘প্রচারমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনও ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প আগে বলেছেন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা যে কোনও চুক্তির প্রধান ও অবিচ্ছেদ্য শর্ত। কিন্তু ইরান এ বিষয়ে কোনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি এবং এই পর্যায়ে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।
পাকিস্তানের 'আশা'
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, তিনি আশা করছেন খুব শীঘ্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পরবর্তী দফা পাকিস্তানে আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ট্রাম্পের অসাধারণ প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনির ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। শেহবাজ শরিফ এক্সে পোস্টে লিখেছেন, 'পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে তার নিরলস প্রচেষ্টার জন্য আমি গভীর প্রশংসা জানাই। আলোচনাগুলো বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে মতবিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। পাকিস্তান আন্তরিকতার সঙ্গে শান্তি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই পরবর্তী দফার আলোচনা আয়োজন করতে পারব।'
E-Paper

