Pakistan Fuel Crisis Update: জ্বালানি সাশ্রয়ে পাকিস্তানের কড়া কৃচ্ছ্রসাধন, সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমল ৫০ শতাংশ
নতুন ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে সরকারি যানবাহনে জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো, নতুন সরকারি গাড়ি কেনায় নিষেধাজ্ঞা, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বন্ধ রাখা এবং সরকারি নৈশভোজ বাতিলের মতো পদক্ষেপ।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব সামলাতে এবার সরকারি খরচ কমানোর পথে হাঁটল পাকিস্তান। জ্বালানি সাশ্রয় এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে শাহবাজ শরিফ সরকার। বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নতুন ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে সরকারি যানবাহনে জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো, নতুন সরকারি গাড়ি কেনায় নিষেধাজ্ঞা, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বন্ধ রাখা এবং সরকারি নৈশভোজ বাতিলের মতো পদক্ষেপ।
পাকিস্তান সরকারের সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী তিন মাস সরকারি যানবাহনের জন্য জ্বালানি বরাদ্দ অর্ধেক করা হবে। তবে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, জরুরি পরিষেবা, অ্যাম্বুল্যান্স ও দমকলের মতো প্রয়োজনীয় পরিষেবার কার্যকর যানবাহন এই কাটছাঁটের বাইরে থাকবে। প্রশাসনিক বা অ-অপারেশনাল যানবাহনের ক্ষেত্রে অবশ্য ছাড় থাকছে না।
শুধু জ্বালানি নয়, সরকারি বাজেটেও কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষে কর্মী-সংক্রান্ত নয় এমন বাজেট ৫ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদেশে অবস্থিত পাকিস্তানের সরকারি মিশনগুলিকেও এই ব্যয়ের সংযমের আওতায় আনা হয়েছে। তবে ভাড়া, শিক্ষার খরচ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যয় বহাল থাকবে।
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী তিন মাস সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর ও ভ্রমণ বন্ধ থাকবে। বাধ্যতামূলক সফরের ক্ষেত্রেও বিশেষ বিধিনিষেধ থাকবে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের বৃত্তি, প্রশিক্ষণ বা নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচির আওতাভুক্ত কিছু সফর এর বাইরে থাকবে। একান্ত প্রয়োজন হলে মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি আধিকারিকদের বিদেশ ভ্রমণে শুধু অর্থনৈতিক শ্রেণির বিমানের টিকিট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি দপ্তরে নতুন গাড়ি কেনার ওপরও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম ছাড়া নতুন টেকসই পণ্য কেনাও বন্ধ করা হয়েছে। সরকারি বৈঠকের ক্ষেত্রে সরাসরি উপস্থিতির বদলে ভিডিও বা টেলিকনফারেন্স ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, এতে একদিকে জ্বালানি খরচ কমবে, অন্যদিকে যাতায়াত ও প্রশাসনিক ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।
সরকারি অনুষ্ঠান নিয়েও কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি নৈশভোজ আয়োজন বন্ধ করা হয়েছে। তবে বিদেশি প্রতিনিধিদের সম্মানে প্রয়োজনীয় নৈশভোজ এর আওতা থেকে বাদ রাখা হয়েছে। সরকারি অর্থে সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও সম্মেলনের মতো অনুষ্ঠানও যতটা সম্ভব কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একান্ত প্রয়োজন হলে সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহার করে এসব আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
এই কৃচ্ছ্রসাধনের পেছনে মূল কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পাকিস্তানের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের ওপর পড়ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পাকিস্তানের অর্থনীতি ও সরকারি ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
শুধু সরকারি খরচ কমানো নয়, সাধারণ মানুষের ওপর জ্বালানির চাপ সামলাতেও পাকিস্তান সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল, রিকশা এবং ৮০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির জন্য প্রতি লিটারে ১০০ পাকিস্তানি রুপির জ্বালানি ভর্তুকি কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে। অর্থাৎ একদিকে সরকারের নিজস্ব খরচ কমানো হচ্ছে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য ভর্তুকির মাধ্যমে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা চলছে।
এদিকে বাজার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির সময় নিয়েও বিধিনিষেধ চালু রয়েছে। দোকান ও বাজার রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ রয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠানস্থল রাত ১০টা এবং রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকান রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখতে পারবে। তবে ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, চিকিৎসা পরিষেবা, জ্বালানি কেন্দ্র ও কয়েকটি জরুরি পরিষেবা এই সময়সীমার বাইরে থাকবে।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের চাপে পাকিস্তান সরকার এখন সরকারি ব্যয়, জ্বালানি ব্যবহার এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে কড়া নিয়ন্ত্রণ আনছে। আগামী তিন মাসের এই পদক্ষেপ কতটা জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারে এবং সরকারের আর্থিক চাপ কতটা কমাতে পারে, সেটিই এখন নজরে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


