ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলনে নয়া মোড়! মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের হুঙ্কার, রাহুলের কুশপতুল পোড়ানোর...
Jharkhand Students Protest: ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (JSSC) বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করছেন চাকরিপ্রার্থীরা। আগামী ২০ অগস্ট মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সরকারি বাসভবন ঘেরাওয়েরও ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
Jharkhand Students Protest: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় ‘অনিয়ম’-এর অভিযোগ ঘিরে পড়ুয়াদের আন্দোলন (Jharkhand Student Movement) ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। রবিবার পড়ুয়াদের এই আন্দোলন ২৩ দিনে পা দিল। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাঁচিতে চলা এই বিক্ষোভে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের (Hemant Soren) পদত্যাগের দাবি উঠল। পড়ুয়াদের অভিযোগ, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি করছে শাসক ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM) এবং কংগ্রেস জোট। সমস্যার সমাধান না হলে মুখ্যমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (JSSC) বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করছেন চাকরিপ্রার্থীরা। আগামী ২০ অগস্ট মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সরকারি বাসভবন ঘেরাওয়েরও ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে বিক্ষোভস্থল থেকে ১৩ দিন অনশনরত আন্দোলনকারী প্রেম নায়ক বলেন, সরকার এই আন্দোলনকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে না। তাঁর কথায়, 'আজ বিক্ষোভের ২৩তম দিন এবং অনশনের ১৩তম দিন। সরকার মোটেও আন্তরিক নয়।' তিনি আরও বলেন, জ্বর আসায় পর তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। কর্মকর্তারা তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। প্রেম নায়কের অভিযোগ, তাঁর সহকর্মী দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাঁকে বিক্ষোভস্থলে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে এবং বিকল্প প্রতিবাদ হিসেবে ‘জেল ভরো আন্দোলন’ ও স্কুল-কলেজ বন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ রবীন্দ্র পাশওয়ান (Ravindra Paswan) বলেন, সরকার এখনও আন্দোলনকারীদের দাবির জবাব দেয়নি। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, 'আজ যদি আপনি পড়ুয়াদের স্বার্থে কোনও সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সমগ্র ছাত্র সমাজ আপনার পাশে দাঁড়াবে।' আন্দোলন আরও তীব্র করতে রবিবার ঝাড়খণ্ডের ২৪টি জেলার সদর দফতরে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) কুশপুতুল পোড়ানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন পড়ুয়া নেতারা। কংগ্রেস নেতৃত্বকে নিশানা করার কারণ হিসেবে আন্দোলনকারীরা রাজনৈতিক ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী যদি পড়ুয়াদের দাবিগুলি পূরণে পদক্ষেপ না করেন, তাহলে কংগ্রেসকে অবিলম্বে জেএমএম নেতৃত্বাধীন জোট সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করতে হবে। ছাত্র প্রতিনিধিদের অভিযোগ, কংগ্রেস নেতারা তাঁদের আন্দোলনের পাশে থাকার মৌখিক আশ্বাস দিলেও সমস্যা সমাধানে এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেননি।
নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরানোই আন্দোলনকারীদের মূল লক্ষ্য। তাঁদের প্রধান দাবিগুলি হল, ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরীক্ষা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। পুরো বিষয়টির সিবিআই (CBI) তদন্ত করতে হবে অথবা রাজ্যের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে স্বাধীন বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। নিয়োগকারী সংস্থাগুলির সম্পূর্ণ সংস্কার করতে হবে, যাতে পরীক্ষাব্যবস্থার উপর চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা ফেরে। রাজ্য প্রশাসনের বক্তব্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের সমস্যা শুধু ঝাড়খণ্ডে নয়, গোটা দেশেরই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই একাধিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি সরকারের। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি মন্ত্রিসভা পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং পড়ুয়াদের ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ঘটনায় প্রশাসনিক কর্তাদের পদত্যাগ এবং গ্রেফতারও হয়েছে। তবে সরকারের এই পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা।
E-Paper

