Success Story: মা বেচতেন সবজি, বাবা দিনমজুর, সেই ছেলেরই টানা ৩ বার UPSC-তে বাজিমাত, হলেন IPS
Success Story: ছোটোবেলা থেকে লড়াই করে বড় হয়েছেন। আর্থিক অবস্থা একেবারেই ভালো ছিল না। বাড়িতে ছিল না কারেন্টও। লণ্ঠনের আলোয় পড়াশোনায় করতে হত। সেই ছেলেই টানা তিনবার ইউপিএসসি ক্র্যাক করেছেন। হয়েছেন আইপিএস অফিসার।
Success Story: বাবা ছিলেন দিনমজুর। মা সবজি বিক্রি করতেন। আর্থিক অবস্থা এমনই ছিল যে বাড়িতে কারেন্ট পর্যন্ত ছিল না। সেই ছেলেই টানা তিনবার ইউপিএসসি পরীক্ষা ক্র্যাক করেছেন। শেষ দু'বার ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় বাজিমাত করেন। প্রথমবার আইপিএস হন। দ্বিতীয়বার আইএফএস হওয়ার সুযোগ পান। তবে শেষপর্যন্ত আইপিএস ক্যাডারেই থাকেন মহারাষ্ট্রের শরণ কাম্বলে। বর্তমানে তিনি রাজস্থান ক্যাডারের আইপিএস অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

১২ কিমি হেঁটে স্কুলে যেতেন শরণ
মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শরণ। ছোটোবেলার দিনগুলো চরম অর্থকষ্টের মধ্যে দিয়ে কেটেছে। বাবা ছিলেন একজন দিনমজুর। মা পাড়ায় ঘুরে-ঘুরে সবজি বিক্রি করতেন। পরিবারের অনটন এতই তীব্র ছিল যে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার মতো সামর্থ্যও ছিল না। সেই পরিস্থিতিতে গ্রামের সরকারি প্রাথমিক স্কুলে পড়তেন। পরবর্তীতে মাধ্যমিকের জন্য তাঁকে প্রতিদিন ১২ কিলোমিটার পথ হেঁটে যাতায়াত করতে হত। সন্ধ্যা নামলেই লণ্ঠনের হালকা আলোয় পড়তে হত। কিন্তু মনের ভিতর জ্বলা স্বপ্নের আলো কখনও নিভতে দেননি শরণ।
আরও পড়ুন: Success Story: স্কুলের ফি জোগাতে বাড়ি-বাড়ি কাজ করতেন মা, UPSC দিয়ে IPS অফিসার হলেন ছেলে সাফিন
IISc থেকে স্নাতকোত্তর, ২০ লাখ প্যাকেজের চাকরি
সেই রেশ ধরেই কঠোর পরিশ্রম করে শরণ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। সেখান থেকে বি.টেক পাশ করেন। তারপর সুযোগ পান দেশের অন্যতম শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (IISc) স্নাতকোত্তর করার। আর সেখান থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পরে একটি সংস্থায় বার্ষিক ২০ লাখ টাকা প্যাকেজের চাকরির অফার পান।
UPSC-র প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেন শরণ
কিন্তু সেই চাকরির পরিবর্তে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেসের পথ বেছে নেন শরণ। দিল্লিতে গিয়ে প্রস্তুতি শুরু করে দেন। তাঁর মেধা ও অধ্যবসায়ের ফল মিলতে বেশি সময় নেয়নি। টানা তিনবার ইউপিএসসি পরীক্ষায় বাজিমাত করেন।
টানা তিনবার UPSC-তে বাজিমাত
২০১৯ সালের ইউপিএসসি সিএপিএফ পরীক্ষায় অষ্টম স্থান অধিকার করেন। ২০২০ সালে প্রথমবারেই সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা দিয়ে দেশে ৫৪২ তম স্থান অধিকার করেন. হন আইপিএস অফিসার। ২০২১ সালে ফের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা দেন। এবার ১২৭ তম স্থান অধিকার করেন। মনোনীত হন ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (আইএফএস) পদের জন্য। তবে তিনি নিজের প্রথম পছন্দ হিসেবে আইপিএস পদেই বহাল থাকেন।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


