'দোষীদের কাউকেই ছেড়ে...,' NCERT-র পাঠ্যবইকে নিষিদ্ধ করল SC, ক্ষমা চাইল কেন্দ্র

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের বইটির চতুর্থ অধ্যায়ে ‘বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতির চ্যাপ্টার’ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

Published on: Feb 26, 2026, 17:00:55 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইতে ‘বিচারবিভাগীয় দুর্নীতি’ সংক্রান্ত অধ্যায় ঘিরে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন বিতর্কে শেষ পর্যন্ত পিছু হঠল কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের হয়ে নিঃশর্ত ও দ্ব্যর্থহীন ক্ষমা চাইলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তবে কেবল ক্ষমাপ্রার্থনাতেই ক্ষান্ত হয়নি শীর্ষ আদালত। কেন এই ধরনের ‘আপত্তিকর’ বিষয় পাঠ্যবইতে অন্তর্ভুক্ত করা হল, তার ব্যাখ্যা চেয়ে এনসিইআরটি ডিরেক্টর এবং স্কুল শিক্ষা সচিবকে শো-কজ নোটিশ জারি করেছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। একই সঙ্গে এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির পাঠ্য পুস্তককে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

NCERT-র পাঠ্যবইকে নিষিদ্ধ করল SC
NCERT-র পাঠ্যবইকে নিষিদ্ধ করল SC

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের বইটির চতুর্থ অধ্যায়ে ‘বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতির চ্যাপ্টার’ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই কড়া সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট। একে বিচারবিভাগকে কালিমালিপ্ত করার এক ‘সুগভীর ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বৃহস্পতিবার আদালতে তিনি কঠোর ভাষায় জানান, 'কারা এর জন্য দায়ী, তা খুঁজে বের করা আমার কর্তব্য। দোষীদের কাউকেই ছেড়ে দেওয়া হবে না।' পাশাপাশি, ওই পুস্তকটি পুরোপুরি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রতিটি প্ল্যাটফর্ম অর্থাৎ অনলাইন, স্কুল ও বিভিন্ন দোকানেও যাতে এই বইয়ের কপি না পাওয়া যায়, দ্রুত সেই বিষয়টা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু দেশ নয়, বিদেশেও এই বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সে রকমই নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত,বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ।

ক্ষমাপ্রার্থী এনসিইআরটি

এদিন মামলার শুনানি চলাকালীন বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে কেন্দ্র। সরকারপক্ষের কৌঁসুলি তুষার মেহতা বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টকে জানান, ‘আমরা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি।' অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে কোনও প্রশ্ন থাকতে পারে না বলেও আদালতে বলেন তিনি। আদালতকে তিনি জানান, যে দু’জন ওই অধ্যায়ের বিষয়বস্তু তৈরি করেছেন, তাঁদের আর কোনও ভাবে শিক্ষা মন্ত্রক অথবা অন্য কোনও মন্ত্রকের সঙ্গে যুক্ত রাখা হবে না। কড়া প্রতিক্রিয়ায় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘ওরা ওদিকে গুলি করেছে, আর এদিকে বিচারবিভাগে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে।’ প্রধান বিচারপতি তুষার মেহতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মি. সলিসিটর, এটা অত্যন্ত অত্যন্ত পরিকল্পিত পদক্ষেপ। এটা শুধুমাত্র ছাত্রছাত্রীর বিষয় নয়। তাদের বাবা-মা, শিক্ষক শিক্ষিকারাও জানবে বিচারব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত।' প্রধান বিচারপতি আরও উল্লেখ করেন যে, ওই অধ্যায়ে সমাজে বিচার বিভাগের ভূমিকার উপর একটি সম্পূর্ণ অধ্যায় উৎসর্গ করা হলেও, এটি সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট এবং বিচার আদালতের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বাদ দিয়েছে। তিনি পর্যবেক্ষণ করেন যে, পাঠ্যটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো সংরক্ষণে বিচার বিভাগের অবদান স্বীকার করতে ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে এক বিবৃতিতে এনসিইআরটি জানিয়েছে, তারা ভারতের বিচারব্যবস্থাকে অত্যন্ত সম্মান করে এবং সংবিধানের রক্ষক ও মৌলিক অধিকারের অভিভাবক হিসেবে দেখে। সংস্থার বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ত্রুটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং এর জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। এনসিইআরটি আরও স্পষ্ট করেছে, নতুন পাঠ্যপুস্তকের মূল লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংবিধান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি করা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগানো এবং নাগরিক অংশগ্রহণের সঠিক শিক্ষা দেওয়া। কোনও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না।