ডিজি-কে গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে! রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে 'সুপ্রিম' উদ্বেগ
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পথে। এরমধ্যেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। ফের একবার রাজ্যের ডিজি পীযূষ পাণ্ডেকে কার্যত সতর্ক করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বললেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে রাজ্যের ডিজি-কে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে।

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে একের পর এক উত্তেজক ঘটনা সামনে আসছে। বিভিন্ন জেলায় রোল অবজার্ভার এবং বুথস্তরের আধিকারিকদের বিক্ষোভের মুখে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ফর্ম-৭ জমা ও তা ঘিরে আপত্তি নিয়েও একাধিক স্থানে অশান্তির খবর মিলেছে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনের আগে আইন-শৃঙ্খলার এই অবনতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে অনুকূল নয়। যদি অবিলম্বে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া না হয়, কিংবা পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ না করে, তবে ডিজি-কে জবাবদিহি করতে হবে। এদিন শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের তরফেও রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়। কমিশনের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে মেটাতে অতিরিক্ত গ্রুপ-বি কর্মী চেয়ে রাজ্যকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি রাজ্যের অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, রাজ্যের কাছে কর্মী না থাকা আইনি বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী, আর কর্মী থাকা সত্ত্বেও তাঁদের কাজে না ছাড়াটা অগ্রহণযোগ্য। প্রয়োজনে কমিশন নিজেদের আধিকারিক এনে কাজ চালাতে পারবে বলেও আদালত জানিয়েছে।
আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। কমিশন এবং রাজ্য - উভয়েরই বিষয়টি সমানভাবে উপলব্ধি করা উচিত। অন্যদিকে, রাজ্যের আইনজীবী অভিযোগ করেন যে, কমিশন ‘বিশেষ পর্যবেক্ষক’ পদ তৈরি করে ইআরও-দের কাজে হস্তক্ষেপ করছে। যদিও কমিশন এই দাবি খারিজ করে জানায়, প্রথম থেকেই এই পর্যবেক্ষকরা দায়িত্বে রয়েছেন। আদালতে প্রধান বিচারপতি কমিশনকে প্রশ্ন করেন, পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হচ্ছে না? জবাবে কমিশন জানায়, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তারা দ্বিধাগ্রস্ত। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে এসআইআর-এর কাজ করানোর জন্য রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। এদিকে, ডিজির আইনজীবী দাবি করেছেন যে, কমিশন আদালতে মিথ্যা বলছে। সব মিলিয়ে, এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যে গুরুতর জটিলতা তৈরি হবে, তা কমিশন ও রাজ্য-উভয়কেই মনে করিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ভোটের আগে প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে রাজ্যের ওপর যে বড়সড় চাপ তৈরি হল, তা বলাই বাহুল্য।
E-Paper

