Supreme Court: 'যাচাই করতে হবে ন্যায্য প্রক্রিয়ায়!' অসমে 'বিদেশি' তকমা দেওয়া ২৭ জনকে সাময়িক 'সুপ্রিম' স্বস্তি

Supreme Court: আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন সবিত্রী দে, আজবাহার আলি, মহম্মদ আকবর আলি, আবেদা খাতুন এবং আনোয়ারা খাতুন। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা ও সরকারি নথিতে নামের বানানে সামান্য ভুল, টাইপগত ত্রুটি এবং তথ্যের ছোটখাটো অমিলের কারণেই তাঁদের বিদেশি ঘোষণা করা হয়েছে। 

Published on: Jul 13, 2026, 13:38:34 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Supreme Court: অসমে ২৭ জনকে বিদেশি নাগরিক ঘোষণার মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব বা বিদেশি পরিচয় নির্ধারণের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা অবশ্যই ন্যায্য, আইনসম্মত এবং যুক্তিসঙ্গত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হতে হবে। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই গুয়াহাটি হাইকোর্টের আগের রায় বাতিল করে মামলাগুলি নতুন করে শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট বিদেশি ট্রাইব্যুনালগুলিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

অসমে 'বিদেশি' তকমা দেওয়া ২৭ জনকে সাময়িক 'সুপ্রিম' স্বস্তি (HT_PRINT)
অসমে 'বিদেশি' তকমা দেওয়া ২৭ জনকে সাময়িক 'সুপ্রিম' স্বস্তি (HT_PRINT)

বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে বলেছে, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি বিষয়। তাই প্রতিটি মামলায় যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। তবে একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, অবৈধভাবে ভারতীয় নাগরিকত্ব দাবি রোধ করা সরকারের বৈধ এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু সেই স্বার্থের কথা বলে ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে আপস করা যাবে না। এই মামলায় গুয়াহাটি হাইকোর্টের রায় এবং বিদেশি ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট নির্দেশ বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নতুন করে শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই ২৭ জনের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের জোরপূর্বক পদক্ষেপ করা যাবে না।

আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন সবিত্রী দে, আজবাহার আলি, মহম্মদ আকবর আলি, আবেদা খাতুন এবং আনোয়ারা খাতুন। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা ও সরকারি নথিতে নামের বানানে সামান্য ভুল, টাইপগত ত্রুটি এবং তথ্যের ছোটখাটো অমিলের কারণেই তাঁদের বিদেশি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই অভিযোগ নিয়েই তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই রায়ে আবেদনকারীদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তাঁদের নাগরিকত্বের দাবির প্রমাণ আদালত এখনও বিচার করেনি। এই সমস্ত বিষয় স্বাধীনভাবে বিচার করবে সংশ্লিষ্ট বিদেশি ট্রাইব্যুনাল। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, নাগরিকত্বের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক বিষয় কোনও তড়িঘড়ি বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তে হতে পারে না। প্রক্রিয়াটি অবশ্যই স্বচ্ছ হতে হবে। এ বিষয়ে আদালত উল্লেখ করেছে, প্রামাণ্য নথিতে সামান্য নামের বানান বা বয়সের তারতম্যের মতো ছোটখাটো অসঙ্গতি থাকলেই কাউকে বিদেশি বলা যায় না। রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, দেশের নাগরিকত্বের প্রশ্নে রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করা অবশ্যই প্রয়োজন। যাঁরা আইনত ভারতের নাগরিক নন, তাঁরা যাতে মিথ্যে দাবি, প্রক্রিয়ার অপব্যবহার বা দীর্ঘসূত্রিতার সুযোগ নিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন করতে না পারেন, সেই দায়িত্ব রাষ্ট্রের রয়েছে। তবে সেই উদ্দেশ্য পূরণের নামে কোনওভাবেই আইনি প্রক্রিয়ার মৌলিক সুরক্ষা উপেক্ষা করা চলবে না।