Supreme Court: পেট্রলে ইথানলের পরিমাণ জানানো বাধ্যতামূলক করার মামলা খারিজ সুপ্রিম কোর্টের
Supreme Court: বিচারপতি এম.এম. সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি. ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ আইনজীবী নরেন্দ্র কুমার গোস্বামীর দায়ের করা আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে ৷ তবে, ওই আইনজীবী চাইলে নিজের রাজ্যের সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে এই আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বিচারপতিরা৷
Supreme Court: দেশের প্রতিটি পেট্রল পাম্পের ‘বিল বোর্ড’-এ বড় অক্ষরে উল্লেখ করতে হবে, সেই পাম্প থেকে বিক্রি হওয়া পেট্রলে কী পরিমাণে ইথানল (Ethanol) মেশানো হয়েছে। একই ভাবে বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে পেট্রল বিক্রির পর পাম্প থেকে গ্রাহকদের দেওয়া রসিদেও। এমন আর্জি জানিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলাটি গ্রহণ করল না সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) ৷

বিচারপতি এম.এম. সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি. ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ আইনজীবী নরেন্দ্র কুমার গোস্বামীর দায়ের করা আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে ৷ তবে, ওই আইনজীবী চাইলে নিজের রাজ্যের সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে এই আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বিচারপতিরা৷ সোমবার শীর্ষ আদালতে শুনানি চলাকালীন আইনজীবী নরেন্দ্র কুমার গোস্বামী জানান, তিনি কেন্দ্রের ইথানল মিশ্রণ নীতিকে চ্যালেঞ্জ করছেন না। তাঁর দাবি, সাধারণ গ্রাহকদের কাছে বিক্রি হওয়া পেট্রোলে ঠিক কত শতাংশ ইথানল রয়েছে, তা জানানো উচিত। তিনি বলেন, 'আমি নীতির বিরোধিতা করছি না। আমি শুধু জানতে চাই। জানার অধিকার আমার রয়েছে। আমরা যখন বিস্কুটের একটি প্যাকেটও কিনি, তখন তার উপাদান জানতে পারি।' তিনি আরও বলেন, বিষয়টি কোনও ব্যক্তিগত সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং নাগরিকদের অধিকার ও ভোক্তার জানার অধিকারের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বক্তব্য, 'আমরা কী কিনছি, তা জানার অধিকার আমাদের রয়েছে।'
তবে ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরামানি এইভাবে বিষয়টি আদালতে উপস্থাপনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, 'তিনি (গোস্বামী) ভারত সরকারকে তাঁর কাছে জবাবদিহি করতে চাইছেন!' অ্যাটর্নি জেনারেল এই আবেদনকে 'প্রক্সি পিটিশন' বলেও অভিহিত করেন এবং উল্লেখ করেন যে, গত বছর একই ধরনের একটি আবেদন সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করেছিল। শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালত মামলাটি গ্রহণ না করে আবেদনকারীকে উপযুক্ত প্রতিকারের জন্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ দেয়।
আইনজীবী নরেন্দ্র কুমার গোস্বামী তাঁর আবেদনে জানিয়েছিলেন, দেশের সব ফুয়েল স্টেশনে গ্রাহকরা যে জ্বালানি কিনবেন, তার রসিদে বিক্রি হওয়া পেট্রলে কত শতাংশ ইথানল মেশানো রয়েছে তা স্পষ্টভাবে এবং সহজে পড়া যায় সেভাবে উল্লেখ থাকতে হবে৷ আবেদনে বলা হয়েছিল, 'বিবাদী পক্ষকে (কেন্দ্রীয় সরকার ও অন্যান্য) নির্দেশ দেওয়া হোক, যেন তারা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যানবাহন-ভিত্তিক সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সরকারি ও সর্বজনীন ডাটাবেস প্রস্তুত ও প্রকাশ করে৷ সেই ডাটাবেসে গাড়ির প্রস্তুতকারক সংস্থা, মডেল, ইঞ্জিনের ধরন এবং উৎপাদনের বছর উল্লেখ থাকবে৷ আর সেই তালিকা যাতে সহজে সার্চ করে পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে৷ আর সেই তালিকায় প্রতিটি যানবাহনের জন্য বিভিন্ন মাত্রার ইথানল মিশ্রণের উপযোগিতা বা অনুপযোগিতার বিষয়টিও উল্লেখ থাকতে হবে৷'
শুধু তাই নয়, বর্তমানে চলাচলকারী যানবাহনগুলিতে ই২০ জ্বালানির উপযোগিতা বা সামঞ্জস্য যাচাই করে, সেই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ ও জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়৷ আর তার জন্য একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনেরও আহ্বান জানানো হয়েছিল আবেদনে৷ সেই কমিটিতে পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক, সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রক এবং ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস-এর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি স্বাধীনভাবে কাজ করেন এমন অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারদের অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানান ওই আইনজীবী৷ সুপ্রিম কোর্টে ওই আবেদনে বলা হয়েছিল, আদালত যেন একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পুরনো ও বর্তমান প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন (নন-কম্প্যাটিবল) যানবাহনের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ কাঠামো প্রণয়ন ও প্রকাশ করে৷ যে প্রক্রিয়ায় কারিগরি, অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক দিক থেকে যেখানেই সম্ভব, সেখানে কম ইথানল-যুক্ত পেট্রল সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত ও জনমতের ভিত্তিতে একটি যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবিও করা হয়৷
E-Paper

