Bhojshala Case: 'সংবেদনশীল বিষয়' ভোজশালায় আপাতত মুসলিমদের নমাজ পাঠের আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টের
Bhojshala Case: সুপ্রিম কোর্ট মধ্যপ্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যে, শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টের মধ্যে মুসলিমদের নমাজ পড়ার জন্য ভোজশালা চত্বর লাগোয়া একটি উন্মুক্ত স্থানের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
Bhojshala Case: ধার শহরে অবস্থিত বিতর্কিত নির্মাণ ভোজশালা চত্বরকে ‘মন্দির’ বলে ঘোষণা করেছিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মুসলিম পক্ষের দায়ের করা আপিল মামলাটি শুনতে রাজি হল সুপ্রিম কোর্ট। তবে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত বিতর্কিত স্থানে শুক্রবারের নমাজ পড়ার ক্ষেত্রে কোনও অন্তর্বর্তী অনুমতি দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। এই বিষয়টিকে 'সংবেদনশীল' বলে উল্লেখ করে হিন্দু ও মুসলিম-উভয় পক্ষকেই ধৈর্য ধরার আবেদন জানিয়ে শীর্ষ আদালত জানায়, প্রয়োজনে তারা এই মামলার প্রতিদিন শুনানি (ডে-টু-ডে বেসিস) করতে এবং বিষয়টির সমাধান করতে প্রস্তুত। তবে শীর্ষ আদালত আপাতত ওই বিতর্কিত স্থানে শুক্রবারের নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট মধ্যপ্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যে, শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টের মধ্যে মুসলিমদের নমাজ পড়ার জন্য ভোজশালা চত্বর লাগোয়া একটি উন্মুক্ত স্থানের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
শীর্ষ আদালত এও নির্দেশ দিয়েছে, আদালতের অনুমতি ছাড়া আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই) ওই বিতর্কিত কাঠামোর কোনওরকম পরিবর্তন করতে পারবে না। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, এই মামলার ক্ষেত্রে প্রতিটি শব্দ ব্যবহারের সময় আদালতকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। চলতি বছরের মে মাসে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ২০০৩ সালের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (এএসআই) একটি নির্দেশিকা বাতিল করে দেয়। ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী, মুসলিমদের শুক্রবার এবং হিন্দুদের মঙ্গলবার ভোজশালা চত্বরে প্রার্থনা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মে মাসের রায়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট জানায়, ভোজশালায় একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র এবং দেবী সরস্বতীর মন্দিরের অস্তিত্বের প্রমাণ রয়েছে। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় মুসলিম পক্ষ, যেখানে তারা পুনরায় নমাজ পড়ার অধিকার দাবি করে।
হিন্দুরা দাবি করে আসছে যে, এই ভোজশালাটি আসলে বিদ্যার দেবী বাগদেবী (সরস্বতী)-র মন্দির, যা রাজা ভোজ নির্মাণ করেছিলেন। অন্যদিকে, মুসলিম পক্ষের দাবি, এটি বহু শতাব্দী ধরে কামাল মওলা মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই বিতর্কের জেরে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট এএসআই-কে ওই চত্বরে বিজ্ঞানসম্মত সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেয়। ২২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া টানা ৯৮ দিন ধরে সমীক্ষা চালানোর পর এএসআই আদালতে প্রায় ২,০০০ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করে। রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, একটি বিশাল প্রাচীন কাঠামো ভেঙেই বর্তমান মসজিদটি তৈরি করা হয়েছিল এবং এই কাজে মন্দিরেরই নানা অংশ ব্যবহার করা হয়েছিল। হিন্দু পক্ষ দাবি করে, এএসআই-এর সমীক্ষায় উদ্ধার হওয়া মুদ্রা, ভাস্কর্য ও শিলালিপি প্রমাণ করে যে এটি আদতে মন্দিরই ছিল। তবে মুসলিম পক্ষের অভিযোগ ছিল, এএসআই-এর এই রিপোর্ট একপেশে এবং তা হিন্দু আবেদনকারীদের দাবিকে সমর্থন করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।
E-Paper

