SC To Delhi Police: 'ভয় তৈরি করতে হবে...,' দিল্লিতে নারী নির্যাতন বন্ধে পুলিশকে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
SC To Delhi Police: দিল্লি ও এনসিআর-এর বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি যৌন নির্যাতনের বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে আসার পর এই পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের।
SC To Delhi Police: দিল্লি ও সংলগ্ন এনসিআর (NCR) এলাকায় ক্রমশ বেড়ে চলা নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধমূলক কাজ বন্ধ করতে পুলিশের উদ্দেশ্যে এবার বড় বার্তা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শীর্ষ আদালত জোর দিয়ে বলেছে যে, কার্যকরী পুলিশি ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভাব্য অপরাধীদের মনে 'ভয়ের' সঞ্চার করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, দিল্লিজুড়ে বিভিন্ন বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের সামনে দুষ্কৃতীরা প্রতিনিয়ত ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে থাকে। অবিলম্বে পুলিশকে এই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে নজরদারি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে দিল্লির অলিতে-গলিতে গজিয়ে ওঠা হাজার হাজার বেআইনি খাবারের দোকান বা রেস্তোরাঁকে চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত, যেখানে অনেকেই জমায়েত করে উন্মুক্তভাবে মদ্যপান করে।

দিল্লি ও এনসিআর-এর বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি যৌন নির্যাতনের বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে আসার পর এই পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের। শুনানিকালে বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ, দিল্লি পুলিশকে জানায় যে, অপরাধ দমনে ভীতি বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি এবং মাঠপর্যায়ে পুলিশি কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। দিল্লি পুলিশকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেছে, 'আপনাদের অসামাজিক উপাদানগুলোর মনে ভয়ের সৃষ্টি করতে হবে।' বিচারপতি পারদিওয়ালা বলেন, অপরাধীদের এমনভাবে বিশ্বাস করানো উচিত যে অপরাধ করার চেষ্টা করলে তাদের গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ না আপনারা অপরাধীদের মনে এই ভয় তৈরি করতে পারছেন যে, যৌন অপরাধ করলেই মরতে হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ সম্ভব হবে না।’
দক্ষিণ দিল্লির একটি মেয়েদের কলেজের মাত্র ২ কিলোমিটারের মধ্যে পার্কে ঘটে যাওয়া এক গণধর্ষণের ঘটনা উল্লেখ করেও পুলিশের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলে, ‘এই ঘটনার ক্ষেত্রেও স্থানীয় মানুষ আপনাদের আগে থেকেই ওই অপরাধীদের ব্যাপারে সতর্ক করেছিল। তা হলে আপনারা আগে থেকে কী ব্যবস্থা নিয়েছিলেন?’ দিল্লিতে এই ধরনের অপরাধ বন্ধ করতে পুলিশের একটি বিশেষ ‘ওয়ার রুম’ তৈরির বিষয়েও নির্দেশ দিয়ছে শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি, যৌন অপরাধীদের ডেটাবেস ব্যবহার করে সন্দেহভাজনদের উপরে কড়া নজরদারি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিন শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানতে চায়, দিল্লির ‘ভালনারেবল’ বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে পুলিশি নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপের জন্য কোনও কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে কিনা। দিল্লি পুলিশের উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্টের আরও কড়া বার্তা, পরিস্থিতি অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নিতে যেন পুলিশ দ্বিধা না করে। বিচারপতিরা বলেন, ‘পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন। কিন্তু গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া থেকে পিছিয়ে আসা উচিত নয়।’ তবে একই সঙ্গে আদালত পুলিশের উপর মানুষের আস্থা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছে। অর্থাৎ, অপরাধীদের জন্য পুলিশের কঠোরতা যেমন প্রয়োজন, তেমনই সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশকে নিরাপত্তার জায়গা হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মানুষ যেন পুলিশের কাছে যেতে ভয় না পান, বরং সাহায্য চাইতে নিরাপদ বোধ করেন— এই ভারসাম্যের উপরও জোর দিয়েছে বেঞ্চ।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, দিল্লিজুড়ে বিভিন্ন বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের সামনে দুষ্কৃতীরা প্রতিনিয়ত ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে থাকে। অবিলম্বে পুলিশকে এই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে নজরদারি জোরদার করতে হবে এবং যে কোনও ধরনের শ্লীলতাহানি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া, অবৈধ খাবারের দোকান ও মদের দোকানগুলোকে এমন স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে বখাটেরা জড়ো হতে পারে। তাই পুলিশের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা একটি সামগ্রিক প্রতিরোধমূলক পুলিশি কৌশলের অংশ হিসেবে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিচারপতি পারদিওয়ালা মনে করিয়ে দেন, ২০১২ সালের 'নির্ভয়া' কাণ্ডেও অপরাধীরা আক্রমণের আগে এই জাতীয় অবৈধ ঠেকেই মদ্যপান করেছিল। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে পুরো দিল্লিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
E-Paper

