'এ কোন সংস্কৃতি গড়ে...,' ভোটের মুখে ‘খয়রাতি নীতি', কড়া সমালোচনা সুপ্রিম কোর্টের

মামলার মূল বিষয় ছিল, ডিএমকে সরকারের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা তামিলনাড়ু পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কর্পোরেশন লিমিটেডের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে, তাঁরা মানুষের রোজগার নির্বিশেষে তামিলনাড়ুর প্রত্যেককে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে৷ 

Published on: Feb 19, 2026, 20:06:38 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

নির্বাচনের মুখে ভোটারদের টানতে রাজনৈতিক দলগুলির যথেচ্ছ ‘খয়রাতি’ বা বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার প্রবণতার কড়া সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, এমন ‘খয়রাতির সংস্কৃতি’ আদতে দেশের আর্থিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই এগুলি পুনর্বিবেচনা করার উপযুক্ত সময় এখনই।

‘খয়রাতি নীতি'র কড়া সমালোচনা সুপ্রিম কোর্টের (HT_PRINT)
‘খয়রাতি নীতি'র কড়া সমালোচনা সুপ্রিম কোর্টের (HT_PRINT)

তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকার অধীনস্থ বিদ্যুৎবণ্টন সংস্থা তামিলনাড়ু পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কর্পোরেশন লিমিটেড সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে। মামলার মূল বিষয় ছিল, ডিএমকে সরকারের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা তামিলনাড়ু পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কর্পোরেশন লিমিটেডের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে, তাঁরা মানুষের রোজগার নির্বিশেষে তামিলনাড়ুর প্রত্যেককে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে৷ সেই মামলার শুনানি চলাকালীনই ‘খয়রাতির নীতি’র সমালোচনা করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কোনও রাজ্যের সরকার যদি গরিবদের সহায়তা করে, তাহলে তা বোঝা যায়।

‘খয়রাতি সংস্কৃতি’

প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ চলছে, ‘উন্নয়নের দিকে নজর না রেখে, বেশির ভাগ রাজ্য এই সব খয়রাতির নীতি অবলম্বন করছে। এদিকে দেশের বেশিরভাগ রাজ্যই রাজস্ব ঘাটতির সমস্যার সম্মুখীন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির আরও বেঞ্চ বলেছে, 'ভারতে আমরা এ কোন সংস্কৃতি গড়ে তুলছি? দেশের অধিকাংশ রাজ্যই রাজস্ব ঘাটতির মুখে, তবুও তারা উন্নয়নের বিষয়টি উপেক্ষা করে এ ধরনের ফ্রি সুবিধা দিচ্ছে৷' বেঞ্চ আরও জানায়, এ ধরনের উদার অনুদানমূলক বণ্টনের ফলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হয় এবং রাজ্যগুলির উচিত সবার জন্য বিনামূল্যে খাদ্য, সাইকেল বা বিদ্যুৎ দেওয়ার পরিবর্তে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার দিকে মনোযোগ দেওয়া।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, 'এইভাবে খয়রাতি বিলি করলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধাক্কা খাবে। হ্যাঁ, মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাজ্যের কর্তব্য, কিন্তু যারা এই বিনামূল্যের সুবিধা নিচ্ছেন... সেই বিষয়টাও কী খতিয়ে দেখা উচিত নয়?' তিনি আরও বলেন, 'রাজ্যগুলি ঋণের বোঝায় ডুবে যাচ্ছে, কিন্তু তারপরেও খয়রাতি বিলি করে চলেছে। ভাবুন, বছরে আপনারা যে রাজস্ব আদায় করেন, তার ২৫ শতাংশ কেন রাজ্যের উন্নয়নে ব্যবহার করা যাবে না?' আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই সমস্যা শুধু একটি রাজ্যের নয়, দেশের সব রাজ্যের। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী যোগ করেন, 'আমরা শুধু একটা রাজ্যের কথা বলছি না, সব রাজ্যের ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য। এটা একটা পরিকল্পিত খরচ। আপনারা বাজেটে প্রস্তাব এনে তার সপক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন না কেন? কেন বলছেন না যে, বেকারদের জন্য আমার এই বরাদ্দ রয়েছে?'