Delhi NCR Rape Cases: 'নির্ভয়া কাণ্ডের বেদনাদায়ক সাদৃশ্য...,' দিল্লিতে একের পর এক ধর্ষণ মামলায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ SCর

Delhi NCR Rape Cases: সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ‘২০১২ সালের নির্ভয়া-কাণ্ডের সঙ্গে এই ঘটনাগুলির বেদনাদায়ক সাদৃশ্য না টেনে উপায় নেই।’

Published on: Sep 28, 2026, 13:19:16 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Delhi NCR Rape Cases: রাজধানী দিল্লি ও সংলগ্ন এনসিআর (NCR) এলাকায় একের পর এক নৃশংস ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের এবার স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। কালকাজি মন্দিরের কাছের একটি পার্কে গণধর্ষণের ঘটনা এবং চলন্ত 'স্লিপার' বাসে এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়টি বিশেষভাবে নজরে রেখেছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পর্যাপ্ত আলো, সিসিটিভি বা নিয়মিত পুলিশ টহলদারির অভাবে জনবহুল বা ঐতিহাসিক স্থানগুলি অপরাধের ‘হাই-রিস্ক জোন’ হয়ে উঠতে পারে না।

দিল্লিতে একের পর এক ধর্ষণ মামলায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টর (HT_PRINT)
দিল্লিতে একের পর এক ধর্ষণ মামলায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টর (HT_PRINT)

সম্প্রতি দিল্লিতে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ ঘটনার খবর সামনে আসে। গ্রেটার নয়ডায় একটি চলন্ত স্লিপার বাসের চালক ও ও কন্ডাক্টর এক ১৬ বছর বয়সি কিশোরীকে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। পারী চক থেকে দিল্লির কাশ্মীরি গেট পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা সত্ত্বেও পুলিশ ওই বাস থামাতে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে, কালকাজি মন্দিরে জন্মদিনে পুজো দিতে গিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সি এক কিশোরী। সেখানেই হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় ওই কিশোরী। এরপর নিকটবর্তী আস্থাকুঞ্জ পার্কে তাঁকে ভুয়ো পুলিশ সেজে ৩ জন দুষ্কৃতী মিলে গণধর্ষণ করে অভিযোগ ওঠে। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের সমন্বয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ ঘটনাগুলিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সোমবার ভয়াবহ ‘নির্ভয়া’ কাণ্ডের সঙ্গে বর্তমান ঘটনাগুলির তুলনা টেনে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি ২০১২ সালের নির্ভয়া কাণ্ডের সেই নির্মম স্মৃতিই মনে করিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে চলন্ত স্লিপার বাসে এক নাবালিকার গণধর্ষণের ঘটনায় ২০১২ সালের নির্ভয়া কাণ্ডের সঙ্গে ‘বেদনাদায়ক সাদৃশ্য’ দেখতে পেয়েছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ‘২০১২ সালের নির্ভয়া-কাণ্ডের সঙ্গে এই ঘটনাগুলির বেদনাদায়ক সাদৃশ্য না টেনে উপায় নেই।’ বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়, 'কেবলমাত্র সহানুভূতি প্রকাশ করাই এই সামাজিক ব্যাধির সমাধান হতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের যথাযথ পদক্ষেপ করা অত্যন্ত জরুরি।'

শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানায়, পর্যাপ্ত আলো না থাকা, নজরদারির অভাব, নিয়মিত পুলিশি টহলের ঘাটতি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কোনও জনবহুল স্থানকে 'অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা'-য় পরিণত হতে দেওয়া যায় না। বেঞ্চের বিচারপতিরা জানান, দেশের রাজধানীতে বারবার ঘটে চলা এসব ঘটনা প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। অপরাধ প্রতিরোধ, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের উপর স্পষ্ট দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে বলে জানায় বেঞ্চ। এই ধরনের অপরাধ রুখতে প্রশাসনের পদক্ষেপ যেন পরিমাপযোগ্য এবং কার্যকর হয়, সেই বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। দিল্লি-এনসিআর জুড়ে নারী ও শিশুদের সার্বিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে এখন সুপ্রিম কোর্ট নিজে এই গোটা বিষয়টির উপর কড়া নজর রাখবে বলে জানিয়েছে।