Supreme Court to Rahul Gandhi: ‘বিচারব্যবস্থাকে কেউ ভয় দেখিয়ে প্রভাবিত করতে পারে না’,রাহুলকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানিতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধীদের আদালত অভিমুখে মিছিল এবং আদালত চত্বরে জমায়েতের প্রসঙ্গ ওঠে। সেখানেই প্রধান বিচারপতি বলেন, “কেউ বিচারব্যবস্থাকে ভয় দেখিয়ে প্রভাবিত করতে পারে না।”

Published on: Oct 15, 2026, 13:23:38 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে সুপ্রিম কোর্টের পথে মিছিল করেছিলেন বিরোধী নেতারা। সেই কর্মসূচিকে ঘিরেই এ বার কড়া বার্তা দিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানিতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধীদের আদালত অভিমুখে মিছিল এবং আদালত চত্বরে জমায়েতের প্রসঙ্গ ওঠে। সেখানেই প্রধান বিচারপতি বলেন, “কেউ বিচারব্যবস্থাকে ভয় দেখিয়ে প্রভাবিত করতে পারে না।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে আদালত অবমাননার অভিযোগে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা এখনও জানা যায়নি।

রাহুল গান্ধীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “কেউ বিচারব্যবস্থাকে ভয় দেখিয়ে প্রভাবিত করতে পারে না।” (Sathiya)
রাহুল গান্ধীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “কেউ বিচারব্যবস্থাকে ভয় দেখিয়ে প্রভাবিত করতে পারে না।” (Sathiya)

কেন সুপ্রিম কোর্টের পথে মিছিল?

ঘটনার সূত্রপাত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে। এই প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। তাঁদের দাবি, সংশোধনের নামে প্রকৃত ভোটারদের নামও তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছে বিরোধী শিবির।

গত ১২ অক্টোবর লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল করেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল, প্রধান বিচারপতির কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরা এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো। মিছিলে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক বিরোধী নেতা। পুলিশের ব্যারিকেডে মিছিল আটকে গেলেও পরে বিরোধী নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে প্রবেশ করে। এসআইআর নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে মামলাও দায়ের করা হয়।

আদালত চত্বরে জমায়েত নিয়ে আপত্তি

বিরোধী নেতাদের এই কর্মসূচির পর সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে রাজনৈতিক জমায়েত এবং তার ফলে আদালতের কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে মামলা দায়ের করেন কয়েক জন আইনজীবী। তাঁদের আবেদনে আদালত চত্বরে রাজনৈতিক মিছিল ও বিক্ষোভ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরির দাবি জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি, আদালতের কাজকর্মে বাধা দেওয়া বা বিচারব্যবস্থার উপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করার আর্জিও জানানো হয়েছে। আবেদনকারীদের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও আদালতের কাজকর্ম এবং বিচারপ্রার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত করা যায় না।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করে। এর আগে মঙ্গলবার বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা বিজেপি নেতা গৌরব ভাটিয়া দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়েছিলেন।

এসআইআর নিয়ে আলাদা আইনি লড়াই

অন্য দিকে, এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের মূল অভিযোগেরও বিচার চলছে। রাহুল গান্ধী এবং ইন্ডিয়া জোটের অন্য নেতাদের দায়ের করা আবেদনে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা, নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত এবং যোগ্য ভোটারদের অধিকার রক্ষার দাবি জানানো হয়েছে।

বিরোধীদের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় অনিয়ম হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, মৃত, একাধিক জায়গায় নাম থাকা এবং অযোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করে তালিকা স্বচ্ছ করাই সংশোধনের উদ্দেশ্য। ফলে এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক অভিযোগ এবং কমিশনের বক্তব্যের নিষ্পত্তি এখন আদালতের বিচারাধীন।

সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন এখন একাধিক আইনি প্রশ্নের মুখে। এক দিকে ভোটারদের অধিকার রক্ষার দাবি, অন্য দিকে আদালতের মর্যাদা ও কাজকর্ম অক্ষুণ্ণ রাখার প্রশ্ন। প্রধান বিচারপতির মন্তব্যে সেই টানাপড়েনই আরও স্পষ্ট হল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More