Meghalaya Honeymoon Murder: রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডে নয়া মোড়! স্বস্তিতে মূল অভিযুক্ত সোনম, SC-তেও বহাল জামিন
Meghalaya Honeymoon Murder: এদিন বিচারপতি এমএম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতির শীল নাগুর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নজরে তাদের নজরে থাকবে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শিলংয়ের একটি আদালত সোনম রঘুবংশীকে জামিন দেয়। পরে ২৯ জুন মেঘালয় হাইকোর্ট সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
Meghalaya Honeymoon Murder: মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে স্বামী রাজা রঘুবংশীকে খুন করেছিলেন। রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত সেই সোনম রঘুবংশীকে জেল হেফাজতে পাঠাতে চাইল না সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার সোনমের জামিন বাতিলের আবেদন জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় মেঘালয় সরকার। তবে মেঘালয় হাইকোর্টের নির্দেশ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেও সোনমের জামিন বাতিল করেনি সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে এই জামিনকে চ্যালেঞ্জ করে মেঘালয় সরকারের দায়ের করা জামিন বাতিলের আর্জিতে সাড়া দিয়ে সোনমকে নোটিস পাঠিয়েছে আদালত। প্রায় একবছর পর জেলে বন্দি ছিলেন সোনম। মাসতিনেক আগে জামিনে জেলমুক্ত হন।

এদিন বিচারপতি এমএম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতির শীল নাগুর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নজরে তাদের নজরে থাকবে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শিলংয়ের একটি আদালত সোনম রঘুবংশীকে জামিন দেয়। পরে ২৯ জুন মেঘালয় হাইকোর্ট সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। হাইকোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় মেঘালয় সরকার। তাদের দাবি ছিল, মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্তের জামিন বাতিল করা উচিত। শুক্রবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ এদিন স্বীকার করেছে যে সোনমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি ‘যথেষ্ট গুরুতর।’ মেঘালয় সরকারের আবেদনটি খতিয়ে দেখতে আদালত রাজি হলেও যখন জানানো হয় সোনম ইতিমধ্যেই জেল থেকে মুক্তি পেয়ে গেছেন, তখন বিচারপতিরা জানান, এই স্তরে তাঁরা হস্তক্ষেপে অনিচ্ছুক। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, 'যেহেতু তিনি ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়ে গেছেন, তাই আমরা এখন এতে হস্তক্ষেপ করতে চাই না।' শুনানির প্রথমার্ধে সুপ্রিম কোর্ট জামিনের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও, সোনম ইতিমধ্যেই জেলের বাইরে আছেন শুনে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
দীর্ঘদিন সোনমের জেলবন্দি থাকার বিষয়টিও এদিন মাথায় রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ। বিচারপতিরা দণ্ডবিধির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, 'আমরা সচেতন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। জামিনই হল সাধারণ নিয়ম, আর জেল হল ব্যতিক্রম। তবে বিষয়টি আমাদের বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।' গত বছরের মে মাসে রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ড গোটা দেশে শোরগোল ফেলে গিয়েছিল। মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন রাজা এবং সোনম। নিখোঁজ হওয়ার দশ দিন পরে ২ জুন চেরাপুঞ্জির জলপ্রপাতের ধার থেকে রাজার দেহ উদ্ধার করা হয়। বেশ কয়েকদিন পর উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় সোনমকে। এছাড়া তাঁর প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা এবং কয়েক জন সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিন মেঘালয় পুলিশের পক্ষে দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন। তিনি যুক্তি দেন যে সোনমের আগের জামিনের আবেদনগুলি খারিজ হয়ে গিয়েছিল। গ্রেফতারের কারণ বা ‘গ্রাউন্ডস অফ অ্যারেস্ট’ জানাতে পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে - অভিযুক্ত পক্ষের এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে মেহতা বলেন, এটি স্রেফ একটি ধারার ক্লারিক্যাল ভুল ছিল।
অন্যদিকে, জামিন বাতিলের বিরোধিতা করে সোনমের আইনজীবী বলেন, এই মামলায় নতুন করে কোনও জিনিস উদ্ধার করার বাকি নেই। তাছাড়া আদালত ইতিমধ্যেই অত্যন্ত কঠোর শর্ত চাপিয়েছে। সোনম এখন শিলংয়েই রয়েছেন, তাঁর কোথাও পালিয়ে যাওয়ার বা তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার কোনও সুযোগ নেই। জবাবে বেঞ্চ জানায়, বিচার প্রক্রিয়া যাতে স্বাভাবিকভাবে চলে, তার জন্য তাঁরা একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। শুনানির এক পর্যায়ে দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা কিছুটা হালকা ছলে মন্তব্য করেন, 'সম্প্রতি এক স্ত্রী তাঁর স্বামীকে খুন করেছেন কারণ স্বামী মাথায় পরচুলা পরতেন!' তবে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এই মন্তব্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চায়নি। বিচারপতিরা হাসিমুখে বলেন, 'আমরা এই বিষয়ে কিছু বলতে চাই না, কারণ বললেই বিতর্ক তৈরি হবে।' আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। আগামী শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি, চার্জশিটের বিভিন্ন দিক এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আরও বিস্তারিত শুনানি হবে। ফলে বহুল আলোচিত এই হানিমুন খুন কেসের উপর এখনও নজর থাকবে সুপ্রিম কোর্টের।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন মেঘালয় হাইকোর্ট শিলংয়ের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার (বিচার বিভাগ)-এর আদালতের জামিনের নির্দেশ বহাল রাখে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, গ্রেফতারের সময় তদন্তকারী অফিসাররা প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করেননি। শিলং আদালত জানায়, গ্রেফতার-সংক্রান্ত নথিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১০০(১) ধারার পরিবর্তে ভুলবশত ৪০০(১) ধারা উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে অভিযুক্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে খুনের অভিযোগে গ্রেফতারের বিষয়টি জানানো হয়নি, যা তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারে প্রভাব ফেলেছে। প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, এটি কেবল টাইপিংজনিত ভুল। তবে আদালত সেই যুক্তি খারিজ করে জানায়, একই ভুল সব নথিতেই ছিল, ফলে এটিকে সাধারণ ত্রুটি হিসেবে দেখা যায় না। এই মামলায় গত ডিসেম্বরে আদলতে ৭০০ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছিল মেঘালয় পুলিশ।
E-Paper

