IPAC Case : বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন! আইপ্যাক মামলায় বিশেষ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের
IPAC Case : তুষার মেহতা এদিন আদালতে অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করার পর পুলিশ ‘অনধিকার প্রবেশের’ পাল্টা মামলা করে তদন্তে বাধা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি।
IPAC Case : আইপ্যাক মামলাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য ও কেন্দ্রের আইনজীবীদের লড়াইয়ে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক পারদ। একদিকে রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতের অপব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রচারের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়েছে, অন্যদিকে ইডির পাল্টা দাবি, বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। আইনের শাসন কীভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে তা তুলে ধরার কথা জানান কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তথা ইডির আইনজীবী তুষার মেহতা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট সতর্ক করে বলেছে, 'সাংবিধানিক ব্যর্থতা' বা 'শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার' দাবি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে, যার অর্থ রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা। আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সংস্থার অফিসে তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঢুকে পড়া একেবারেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত। বুধবার আদালত বলেছে, এভাবে গণতন্ত্রকে বিপন্ন করা যায় না। গত জানুয়ারিতে আইপ্যাকের প্রধান প্রতীক জৈনের বাসভবন এবং সেক্টর ফাইভের দফতরে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময় সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাতে সবুজ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি। সেই ঘটনা থেকেই মামলার সূত্রপাত।
শীর্ষ আদালতের বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়া বলেন, 'আপনারা আইনের শাসন লঙ্ঘন নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যুক্তি দিচ্ছেন। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। আমরা আশা করি, আপনারা সাংবিধানিক কাঠামোর পতনের দিকে ইঙ্গিত করছেন না, কারণ এটি অত্যন্ত বড় উদ্বেগের বিষয়।' জবাবে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল বলেন, 'এটা আরও বড় উদ্বেগের বিষয়।' পাল্টা বিচারপতি বলেন, 'আমরা আশা করছি আপনি সেদিকে ইঙ্গিত করছেন না।' অন্যদিকে সরকারি আইনজীবী বলেন, 'ইডি কখনোই এই যুক্তি দিতে পারে না। আমি সেভাবেই এর উত্তর দেব। এবং আমি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই আছি। কারণ এই অবস্থান বহু বছর ধরেই রয়েছে।' এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বলেন, 'কোনও পরামর্শ নয়। এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটেই আমরা এই প্রশ্ন রাখছি।'
তুষার মেহতা এদিন আদালতে অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করার পর পুলিশ ‘অনধিকার প্রবেশের’ পাল্টা মামলা করে তদন্তে বাধা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। ফলে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই ঘটনার তদন্তভার সরাসরি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী, ডিজিপি ও পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতের নজরদারিতে তদন্তের দাবি জানান তিনি। এদিন শুনানিতে নাম না করে রাজীব কুমারকেও নিশানা করেন তুষার মেহতা। তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, 'এটি একজন নাগরিক হিসেবে খুবই উদ্বেগ এবং লজ্জাজনক।'
E-Paper

